‘দায়সারা বিবৃতি’, মুখরক্ষার চেষ্টায় নির্বাচন কমিশন: কংগ্রেস

যা জানা জরুরি
- ইস্তফা দিয়ে রাজসাক্ষী হোন, নয়তো জেলের জন্য তৈরি থাকুন—প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য সরাসরি…
- দলের তরফে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “৩(i) ও ৩(ii) অনুচ্ছেদে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব খাটো করার চেষ্টা হয়েছে।
- কিন্তু অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন, এমন কথা বলা হয়নি।” গোয়ায় ভোটার তালিকায় নাম থাকার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ৯৭ জনের নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ তুলে রমেশ বলেন,…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ইস্তফা দিয়ে রাজসাক্ষী হোন, নয়তো জেলের জন্য তৈরি থাকুন—প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের
নির্বাচন কমিশনের বিবৃতিতে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য সরাসরি অস্বীকার করা হয়নি বলে মন্তব্য করলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। দলের তরফে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “৩(i) ও ৩(ii) অনুচ্ছেদে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব খাটো করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন, এমন কথা বলা হয়নি।”
গোয়ায় ভোটার তালিকায় নাম থাকার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ৯৭ জনের নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ তুলে রমেশ বলেন, “দ্বিতীয়ত, গোয়ার ঘটনায় ধরা পড়ে যাওয়ার পরে নির্বাচন কমিশন লজ্জিত মুখে জানিয়েছে, বাদ পড়া ৯৭ জনের মধ্যে ৮১ জন ইতিমধ্যেই নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন। অর্থাৎ, একটি ভেঙে পড়া, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রথমে মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তার পরে ধরা পড়লে বলা হচ্ছে, তাঁদের নাম আবার তোলা হচ্ছে।”
তৃতীয় আপত্তি হিসেবে রমেশ বলেন, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের দোহাই দিয়ে কমিশন নিজের কাজকে ন্যায্য বলে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর প্রশ্ন, কর্নাটক, তেলঙ্গানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কী হবে? রমেশের কথায়, “একজন মানুষের দুর্নীতির কারণে এই রাজ্যগুলি-সহ অন্যত্র যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা কি জবাব পাওয়ার যোগ্য নন?”
তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের ইচ্ছাকৃত ভাবে নিশানা করার অভিযোগ সম্পর্কেও কমিশন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন রমেশ। কংগ্রেসের বিবৃতিতে বলা হয়, “২০২৬ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে বেছে বেছে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার কোনও জবাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। সংসদের নজরে না এনে, তার অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম ৬-এ সম্পূর্ণ বেআইনি পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে তরুণ ভোটারদের উপর অন্যায্য ভাবে চাপানো হয়েছে তাঁদের বাবা-মা এবং/অথবা ঠাকুরদা-ঠাকুমা কিংবা দাদু-দিদিমার তথ্য খুঁজে বার করে জানানোর দায়।”
কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনে করছেন, আমলাতান্ত্রিক শব্দজাল ও আনুষ্ঠানিক রীতিনীতির আড়ালে তিনি লুকিয়ে থাকতে পারবেন। দলের বিবৃতিতে বলা হয়, “জ্ঞানেশ কুমারের মুখোশ খুলে গিয়েছে। গোটা দেশ তাঁর জবাবদিহি চাইছে বলে তিনি এখন আতঙ্কিত।”
কংগ্রেসের সংবাদমাধ্যম ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরার মন্তব্য, “নির্বাচন কমিশনের এই বিজ্ঞপ্তি বড়ই দুর্বল, বড়ই অপ্রতুল। আর তা এল অনেক দেরিতে।”
খেরা বলেন, কমিশনের বিবৃতির পরেও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার যে আপত্তি তুলেছিলেন, তারও কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।
খেরা লেখেন, “সেই আপত্তির তখন নিষ্পত্তি হয়নি… আর আজকের তথাকথিত সর্বসম্মত বৈঠকের পরেও সবচেয়ে বড় এই আপত্তির কোনও সুরাহা হল না। নির্বাচন কমিশন যতক্ষণ এই নির্দিষ্ট আইনি আপত্তির জবাব না দিচ্ছে, ততক্ষণ যত দীর্ঘ বিজ্ঞপ্তিই দেওয়া হোক, যতই সর্বসম্মতির দাবি করা হোক বা যত রকমের ভাঁড়ামিই করা হোক, জ্ঞানেশ কুমার গুপ্তের মুখরক্ষা হবে না।”
তাঁর আরও মন্তব্য, “এখনও তাঁর সময় ফুরিয়ে যায়নি। তাঁর উচিত ইস্তফা দিয়ে রাজসাক্ষী হওয়া, অথবা জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবির মধ্যেই শনিবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতের নির্বাচনে ‘গড়াপেটা’ করার দায়িত্ব দিয়ে কমিশনের প্রধানকে বসিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কেরল কংগ্রেসের একটি পোস্ট ভাগ করে নিয়ে এই অভিযোগ করেন রাহুল। ওই পোস্টে একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার কেরলের এক প্রাক্তন মুখ্যসচিবকে অবসরের পরে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
রাহুল লেখেন, “প্রথমে জ্ঞানেশ কুমারকে—তখন তিনি কর্মরত আইএএস আধিকারিক—বিজেপির জন্য লোক টানার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল… তার পরে মোদী ও শাহ তাঁকে আম্পায়ার বানিয়ে ভারতের নির্বাচনে গড়াপেটার দায়িত্ব দিলেন।”
রাহুল গান্ধী বা কেরল কংগ্রেসের এই অভিযোগের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কোনও প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



