বাজারে ‘নম্বর নাইন’ মেলেনি, ঘরের রাফিনিয়ার আট ম্যাচে চোদ্দ গোল

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন বার্সেলোনা গ্রীষ্মে জুলিয়ান আলভারেসকে চেয়েছিল, লাউতারো মার্তিনেসের কথাও ভেবেছিল।
- ২৪ সেপ্টেম্বর পর্তুগাল ফুটবল সম্মেলনে ক্রীড়া-পরিচালক ডেকো জানিয়েছেন, আলভারেস এখন অতীত; ক্লাব সামনে তাকাচ্ছে।
- সেই ব্যর্থ বাজারের অপ্রত্যাশিত উত্তর এসেছে দলের ভিতর থেকে—ডান দিক ও মাঝমাঠে খেলা রাফিনিয়া কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকার হয়ে আট ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন
বার্সেলোনা গ্রীষ্মে জুলিয়ান আলভারেসকে চেয়েছিল, লাউতারো মার্তিনেসের কথাও ভেবেছিল। দু’জনের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্তুগাল ফুটবল সম্মেলনে ক্রীড়া-পরিচালক ডেকো জানিয়েছেন, আলভারেস এখন অতীত; ক্লাব সামনে তাকাচ্ছে। সেই ব্যর্থ বাজারের অপ্রত্যাশিত উত্তর এসেছে দলের ভিতর থেকে—ডান দিক ও মাঝমাঠে খেলা রাফিনিয়া কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকার হয়ে আট ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন।
রবার্ট লেওয়ানডস্কি মেজর লিগ সকারে চলে যাওয়ার পরে বার্সেলোনা এমন একজন ফরোয়ার্ড খুঁজছিল, যিনি জায়গা বদলাবেন এবং সতীর্থদের সঙ্গে পাসের সম্পর্ক গড়বেন। আতলেতিকো মাদ্রিদ আলভারেসকে বিক্রি করতে রাজি হয়নি। ডেকোর বক্তব্য অনুযায়ী বার্সেলোনা প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাখ্যানের পরে নতুন পথ খুঁজতে হয়েছে। শীতের বাজারে আবার চেষ্টা করার প্রশ্নও তিনি কার্যত বন্ধ করেছেন।
আলভারেস নিয়ে প্রকাশ্য কথাবার্তা দুই ক্লাবের সম্পর্কেও উত্তাপ এনেছিল। বার্সেলোনা সভাপতি জোয়ান লাপোর্তার আগ্রহের মন্তব্যে আতলেতিকো প্রধান মিগেল আঙ্খেল গিল মারিন ক্ষুব্ধ হন এবং খেলোয়াড়কে বিক্রি না-করার কঠোর অবস্থান জানান। এগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য; কোনও সম্পন্ন চুক্তি ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নয়। প্রস্তাব দেওয়া এবং খেলোয়াড়কে পাওয়ার অধিকার তৈরি হওয়া এক কথা নয়।
বার্সেলোনা শেষ পর্যন্ত গাব্রিয়েল জেসুসকে ঘূর্ণায়মান বিকল্প হিসেবে নিয়েছে। কিন্তু হান্সি ফ্লিকের প্রথম পছন্দের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অধিনায়ক রাফিনিয়া। রয়টার্সের ২৪ সেপ্টেম্বরের হিসাবে তাঁর ১৪ গোলের মধ্যে ১২টি লা লিগার সাত ম্যাচে। ফলে গোলতালিকায় তিনি লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেরও সামনে। সংখ্যাটি ওই তারিখ পর্যন্ত; পরের ম্যাচে দ্রুত বদলাতে পারে।
পজিশন বদলের কাজ শুধু নামের পাশে ‘স্ট্রাইকার’ লেখা নয়। উইংয়ে রাফিনিয়া বেশি বল পেতেন, ড্রিবল ও ক্রসের জায়গা ছিল। কেন্দ্রে কখনও দীর্ঘ সময় বল ছাড়াই থাকতে হয়, রক্ষণের পিছনের ফাঁক চিনে দৌড় শুরু করতে হয় এবং গোলের সামনে কম স্পর্শে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ডেকো বলেছেন, এই পরিবর্তনে ভালো ফলের আশা ছিল, কিন্তু এত দ্রুত এত গোল তাঁরা প্রত্যাশা করেননি।
চোদ্দ গোলের নমুনা চমকপ্রদ, কিন্তু এখনও আট ম্যাচ। শট থেকে গোলের হার অস্বাভাবিকভাবে উঁচু হলে সময়ের সঙ্গে নামতে পারে; প্রতিপক্ষও তাঁর দৌড় আটকানোর আলাদা ব্যবস্থা করবে। গোল ছাড়া চাপ তৈরি, বল ধরে রাখা এবং অন্যদের জায়গা করে দেওয়ার কাজও মূল্যায়নে দরকার। রাফিনিয়ার নতুন ভূমিকা সফল—এটি বর্তমান তথ্য; স্থায়ীভাবে সব স্ট্রাইকার-সমস্যা মিটেছে—এটি এখনও ভবিষ্যতের দাবি।
কেন্দ্রে রাফিনিয়াকে রাখলে ইয়ামালের মতো প্রান্তের খেলোয়াড়ের কাজও বদলায়। একজন রক্ষণের পিছনে দৌড় দিলে অন্যজন ভিতরে ঢোকার বা পাস দেওয়ার জায়গা পান। তাই ১৪ গোল শুধু ব্যক্তিগত রূপান্তরের সংখ্যা নয়, দলের আক্রমণরেখার সম্পর্কের ফলও। সহায়তাকারী পাস, বলহীন দৌড় ও প্রতিপক্ষের রক্ষণের অবস্থান না-দেখে পুরো কৌশলের কৃতিত্ব এক জনকে দেওয়া যাবে না।
বাজারের দিক থেকেও পরিবর্তনটির মূল্য আছে। নতুন তারকা স্ট্রাইকার কিনতে স্থানান্তর-মূল্য ও বড় বেতন লাগত; বিদ্যমান অধিনায়ককে নতুন ভূমিকায় ব্যবহার সেই তাৎক্ষণিক খরচ কমিয়েছে। তবে আর্থিক সাশ্রয়ের নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ হয়নি। সম্ভাব্য চুক্তির প্রচারিত মূল্য বাদ দিয়ে ‘কত টাকা বাঁচল’ বলা তাই অনুমান হবে।
বিশ্লেষণ
স্থানান্তর-বাজারের ব্যর্থতা কখনও কৌশলগত আবিষ্কার ঘটায়। বার্সেলোনা বাইরে সমাধান না-পেয়ে খেলোয়াড়ের পুরনো পরিচয় বদলেছে। এতে অর্থ বেঁচেছে, আবার ঝুঁকিও কেন্দ্রীভূত হয়েছে: রাফিনিয়া অনুপস্থিত বা ফর্ম হারালে একই কাজ কে করবেন, উত্তর এখনও পুরো স্পষ্ট নয়। জেসুস সেই গভীরতা কতটা দিতে পারেন, পরের মাসগুলি বলবে।
এখনকার শিক্ষা আরও সংযত। বড় নাম কিনতে না-পারা সবসময় দুর্বলতা নয়, যদি প্রশিক্ষক বিদ্যমান দক্ষতাকে নতুন ভূমিকায় মিলিয়ে দিতে পারেন। আবার আট ম্যাচের গোলকে স্থায়ী সূত্র ধরাও তাড়াহুড়ো। আলভারেসের গল্প বাজারে শেষ হয়েছে; রাফিনিয়ার পরীক্ষা মাঠে মাত্র শুরু। পরবর্তী প্রতিপক্ষগুলিই সেই
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।


