মায়ামিতে পুতিন?

যা জানা জরুরি
- তার মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মায়ামিতে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে পুতিন যোগ দিলে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফের মুখোমুখি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
- তবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ হামলার জেরে ইউরোপের বহু নেতা এই সফরকে কী ভাবে নেবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ইউক্রেনে যুদ্ধ থামেনি। তার মধ্যেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মায়ামিতে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে পুতিন যোগ দিলে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফের মুখোমুখি বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ হামলার জেরে ইউরোপের বহু নেতা এই সফরকে কী ভাবে নেবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে।
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ফাঁকে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর আমন্ত্রণের কথা জানান মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। তাঁর বক্তব্য, জি২০-র মঞ্চে পুতিন যেমন ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন, তেমনই অন্যান্য রাষ্ট্রনেতার সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। ওয়াশিংটন আশা করছে, রুশ প্রেসিডেন্ট আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক উদ্যোগ থমকে থাকলেও মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চায় আমেরিকা।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, আমন্ত্রণ বিবেচনা করা হবে। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ, পুতিনের মায়ামি সফর এখনও নিশ্চিত নয়।
ট্রাম্প ও পুতিন শেষ বার মুখোমুখি বসেছিলেন ২০২৫ সালের অগস্টে আলাস্কায়। মায়ামির সম্মেলন হলে সেটিই হতে পারে তাঁদের পরবর্তী সাক্ষাতের সম্ভাব্য মঞ্চ।
সম্মেলনটি বসবে ট্রাম্পের ডোরাল গল্ফ ক্লাবে। পুতিন সেখানে গেলে ২০১৯ সালের পর এই প্রথম জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে সশরীরে যোগ দেবেন তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তাঁর বদলে অন্য রুশ প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। প্রথমে অতিমারি, পরে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার রুশ আক্রমণের জেরে তৈরি আন্তর্জাতিক বিরোধিতার আবহে পুতিন নিজে এই সম্মেলনগুলি এড়িয়ে গিয়েছেন।
রাশিয়াকে ঘিরে জি২০-র অস্বস্তিও অবশ্য নতুন নয়। গত মাসে উত্তর ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে সদস্যদেশগুলির অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে রুশ অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভের উপস্থিতির প্রতিবাদ করেছিলেন ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা। প্রথামাফিক তোলা সম্মিলিত ছবিতেও তাঁকে রাখা হয়নি। জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইলও ইউক্রেনে যুদ্ধ চলার সময়ে রাশিয়াকে এমন মঞ্চে রাখার তাৎপর্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
সেই প্রেক্ষাপটে পুতিনের সম্ভাব্য উপস্থিতি যে আরও স্পর্শকাতর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলের পর তৎকালীন জি৮ থেকে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল। জি২০ অবশ্য সেই পথে হাঁটেনি। এই গোষ্ঠীতে ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ পশ্চিমি দেশগুলির পাশাপাশি ভারত, চিন ও তুরস্কের মতো মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা দেশও রয়েছে। ফলে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ভাবে কতটা বিচ্ছিন্ন রাখা হবে, তা নিয়ে সদস্যদের অবস্থান এক নয়।
রুবিয়ো অবশ্য সতর্ক করে দিয়েছেন—আমন্ত্রণ পাঠানো মানেই ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক বা কোনও শান্তিচুক্তি আসন্ন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁর যুক্তি, মতবিরোধ রয়েছে এমন দেশের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা দরকার। তবে মুখোমুখি বৈঠককে ফলপ্রসূ করতে তার সম্ভাব্য ফল সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। পেসকভও জানিয়েছেন, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক হলে তার জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন।
এর মধ্যেই ওয়াশিংটন রাশিয়া ও ইউক্রেনকে জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা বন্ধের একটি সীমিত সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করছে। ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া একই পদক্ষেপ করলে কিয়েভও এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।
রুবিয়ো অবশ্য স্পষ্ট করেছেন, এমন সমঝোতা যুদ্ধের অবসান ঘটাবে না। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি কমতে পারে এবং বৃহত্তর শান্তি আলোচনার জন্য কিছুটা জায়গা তৈরি হতে পারে।
ইউক্রেনের ক্ষেত্রে জ্বালানি পরিকাঠামো বলতে মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাকে বোঝানো হচ্ছে। রাশিয়ার ক্ষেত্রে পাল্টা হামলার লক্ষ্য হচ্ছে তেল শোধনাগার এবং তেল ও গ্যাস শিল্পের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলি।
অন্য দিকে, লাভরভ জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনা চললেও রাশিয়া সামরিক অভিযান স্থগিত করবে না। অর্থাৎ আলোচনার দরজা খোলা রাখার ওয়াশিংটনের চেষ্টা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর অবস্থানের মধ্যে এখনও যথেষ্ট দূরত্ব রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মায়ামির আমন্ত্রণের তাৎপর্য আপাতত যুদ্ধ থামানোর কোনও নিশ্চিত সূত্রে নয়, বরং যোগাযোগের একটি সম্ভাব্য মঞ্চ তৈরিতে।
পুতিন শেষ পর্যন্ত মায়ামি যাবেন কি না, গেলে ইউরোপীয় নেতারা তাঁকে কী ভাবে গ্রহণ করবেন, আর ট্রাম্প-পুতিনের সম্ভাব্য মুখোমুখি সাক্ষাৎ আদৌ যুদ্ধ থামানোর আলোচনাকে এগিয়ে নিতে পারবে কি না—এই তিন প্রশ্নের উত্তর এখনই মেলেনি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



