রবিবারের গ্যালিফ স্ট্রিটে গোপন নজরদারি: বেআইনি প্রাণী-বেচাকেনা বন্ধে হাইকোর্ট

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ারঃ উত্তর কলকাতার গ্যালিফ স্ট্রিটে অনুমতিহীন পাখি, পোষ্য, মাছ, উদ্ভিদ ও অন্য প্রাণীর কেনাবেচা বন্ধ করতে পুলিশ, শুল্ক দফতর এবং রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপালকে…
- প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ ১৬ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দেয়; আইনসংবাদে বিস্তারিত প্রকাশিত হয় ২১ সেপ্টেম্বর।
- এটি বাজারের সব বৈধ বেচাকেনা বন্ধের সর্বাঙ্গীণ আদেশ নয়—লক্ষ্য অনুমতিহীন ও নিষিদ্ধ বাণিজ্য।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ারঃ উত্তর কলকাতার গ্যালিফ স্ট্রিটে অনুমতিহীন পাখি, পোষ্য, মাছ, উদ্ভিদ ও অন্য প্রাণীর কেনাবেচা বন্ধ করতে পুলিশ, শুল্ক দফতর এবং রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপালকে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ ১৬ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দেয়; আইনসংবাদে বিস্তারিত প্রকাশিত হয় ২১ সেপ্টেম্বর। এটি বাজারের সব বৈধ বেচাকেনা বন্ধের সর্বাঙ্গীণ আদেশ নয়—লক্ষ্য অনুমতিহীন ও নিষিদ্ধ বাণিজ্য।
বিপন্ন পাখি পাচার ও বেআইনি ব্যবসা নিয়ে আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলায় গ্যালিফ স্ট্রিটের প্রসঙ্গ ওঠে। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল জানান, প্রতি রবিবার সেখানে পোষ্য, বিড়াল, উভচর প্রাণী, উদ্ভিদ, মাছ ও পাখি বেআইনিভাবে বিক্রির অভিযোগ আছে। আদালত উত্তর কলকাতার সংশ্লিষ্ট পুলিশকে পরের রবিবার থেকেই অনুমতিহীন ব্যবসা ঠেকাতে বলে।
নির্দেশ শুধু বিপন্ন পাখিতে সীমিত রাখা হয়নি। আদালত বলেছে, পুরসভার অনুমতির দাবি দেখালেও আইনত নিষিদ্ধ প্রজাতির বেচাকেনা বৈধ হয়ে যায় না। পোষ্য, মাছ ও উদ্ভিদের অনুমতিহীন বিক্রিও নজরদারির আওতায় থাকবে। শুল্ক ও বন দফতরের কর্মীদের সাধারণ পোশাকে বা পরিচয় গোপন করে বাজারে গিয়ে পাচার বা বেআইনি বিক্রি শনাক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। রবিবার ছাড়াও অন্য দিনে এমন ব্যবসা চললে নির্দেশ প্রযোজ্য।
এখানে ‘পোষ্য’ শব্দটি দিয়ে সব প্রাণীকে একই আইনে ফেলা যাবে না। দেশীয় বন্যপ্রাণ, ঘোষণাযোগ্য বিদেশি প্রজাতি, সাধারণ গৃহপালিত প্রাণী, মাছ ও উদ্ভিদের জন্য ভিন্ন আইন, লাইসেন্স ও নথি থাকতে পারে। কোনও প্রাণী বাজারে দেখলেই তা পাচারকৃত—এমন সিদ্ধান্ত ভুল। প্রজাতি শনাক্তকরণ, উৎসের নথি, পরিবহণের অনুমতি এবং বিক্রেতার লাইসেন্স পরীক্ষা প্রয়োজন।
অভিযানে প্রাণীর কল্যাণও আলাদা বিষয়। জব্দ করলেই কাজ শেষ নয়; জীবিত প্রাণীর উপযুক্ত খাঁচা, খাবার, চিকিৎসা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃত পুনর্বাসন দরকার। ভুল পরিচয়ে সাধারণ গৃহপালিত প্রাণী জব্দ হলে মালিকের আপত্তি জানানোর ব্যবস্থাও থাকা উচিত। আদালতের ‘কার্যকর পদক্ষেপ’ যেন কেবল এক দিনের দৃশ্যমান অভিযান না-হয়ে প্রমাণভিত্তিক নিয়মিত তদারকি হয়।
বাজারটির সঙ্গে ক্ষুদ্র বিক্রেতা ও বহু পরিবারের জীবিকা যুক্ত থাকতে পারে। জীবিকার বাস্তবতা বেআইনি বন্যপ্রাণ ব্যবসাকে বৈধ করে না, তবে প্রশাসনিক পরিবর্তনে স্পষ্ট লাইসেন্স-নির্দেশ, বৈধ পণ্যের সীমা ও বিকল্প বাজারের তথ্য দিলে অনিচ্ছাকৃত লঙ্ঘন কমে। ক্রেতাদেরও প্রজাতির নাম, উৎস ও বৈধতার রসিদ চাইতে হবে; ‘খাঁচায় বিক্রি হচ্ছে’ বৈধতার প্রমাণ নয়।
পুরসভা, পুলিশ, বন দফতর ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাও এক নয়। রাস্তার জায়গা ব্যবহার বা সাধারণ ব্যবসার অনুমতি পুরসভা দেখলেও বন্যপ্রাণের বৈধতা বন দফতরের বিষয়; বিদেশ থেকে আনা প্রজাতির নথিতে শুল্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা আসে। একটি লাইসেন্স অন্য সব অনুমতির বিকল্প নয়। যৌথ অভিযান না-হলে বিক্রেতা এক দফতরের কাগজ দেখিয়ে অন্য আইনের প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পারেন। আদালতের নির্দেশে একাধিক সংস্থাকে যুক্ত করার ব্যবহারিক কারণ সেখানেই।
বিশ্লেষণঃ গোপন নজরদারি পাচারের বাস্তব ছবি ধরতে সাহায্য করতে পারে, কারণ প্রকাশ্য অভিযানের খবর ছড়ালে বিক্রেতারা সাময়িকভাবে পণ্য সরিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু পরিচয় গোপন অভিযানেও জব্দ তালিকা, ছবি, বিশেষজ্ঞ শনাক্তকরণ ও হেফাজতের ধারাবাহিক নথি দরকার। নাহলে আদালতে মামলা দুর্বল হবে এবং প্রাণীর ক্ষতি বাড়তে পারে।
এই নির্দেশের ফল মাপা হবে শুধু কত খাঁচা উদ্ধার হল দিয়ে নয়। একই বিক্রেতা আবার ফিরছেন কি না, সরবরাহের উৎস ধরা পড়ছে কি না এবং জব্দ প্রাণীর কী হল—সেগুলিও প্রকাশ করা দরকার। আপাতত আদালত বেআইনি বেচাকেনার অভিযোগকে প্রশাসনের পরিচিত সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করেছে; নির্দিষ্ট বিক্রেতার অপরাধ অবশ্য পৃথক প্রমাণে নির্ধারিত হবে।
ক্রেতার সচেতনতাও জরুরি: বিরলতা বা বিদেশি নাম বৈধতার নিশ্চয়তা নয়। সন্দেহ হলে কেনার বদলে বন দফতরকে প্রজাতির ছবি ও বিক্রেতার তথ্য জানানো নিরাপদ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



