রাজ্য

হলংয়ের জন্য মার্চের লক্ষ্য, মূর্তিতে নতুন সেতু: উত্তরবঙ্গে ঘোষণার সঙ্গে কাজের হিসাব

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরবঙ্গের পর্যটন নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বরের সরকারি সফরে দুটি ভিন্ন অবস্থার ছবি সামনে এসেছে।
  • জলপাইগুড়িতে মূর্তি নদীর উপর একটি সেতু উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • অন্যদিকে আগুনে ধ্বংস হওয়া হলং বনবাংলোর পুনর্নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে ২০২৭ সালের মার্চ।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরবঙ্গের পর্যটন নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বরের সরকারি সফরে দুটি ভিন্ন অবস্থার ছবি সামনে এসেছে। জলপাইগুড়িতে মূর্তি নদীর উপর একটি সেতু উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে আগুনে ধ্বংস হওয়া হলং বনবাংলোর পুনর্নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে ২০২৭ সালের মার্চ। একটি অবকাঠামোর উদ্বোধন হয়েছে; অন্যটি এখনও নির্মাণপর্বে। পর্যটন বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রতিশ্রুতি বিচার করতে এই পার্থক্যটি জরুরি।

আলিপুরদুয়ারে গন্ডার দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হলংয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার কথা বলেন। এই বক্তব্যের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে। তবে মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রত্যাশা জানানো মানেই ওই মাস থেকে পর্যটকদের ঘর সংরক্ষণ শুরু হয়ে গেছে নয়। উদ্বোধন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অতিথি গ্রহণের নির্দিষ্ট তারিখ সম্পর্কে পৃথক ঘোষণা প্রয়োজন হবে।

জলদাপাড়ার ভিতরে ১৯৬৭ সালে তৈরি বাংলোটি ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতে অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়। আগে সেখানে আটটি কক্ষ ছিল; পুনর্নির্মাণেও আটটি রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছে বন দফতর। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বরাদ্দ আট কোটি টাকা। কাজ শুরু হয়েছিল আগের সরকারের সময়ে। অর্থাৎ বর্তমান সময়সীমা একটি চলমান প্রকল্পের অগ্রগতিসংক্রান্ত ঘোষণা, একেবারে নতুন প্রকল্পের সূচনা নয়।

পুনর্নির্মাণে পুরনো কাঠের বাংলোর পরিচিত রূপ বজায় রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বন দফতরের সূত্র উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, কাঠ ও কংক্রিটের সমন্বয় এবং আগুন প্রতিরোধে সহায়ক উপকরণ ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। তবে নকশার পূর্ণ নথি বা স্বাধীন অগ্নিনিরাপত্তা পরীক্ষার ফল প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। ফলে নতুন ভবনকে এখনই সম্পূর্ণ অগ্নিঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না।

মূর্তির উপর উদ্বোধন করা সেতুর ব্যয় প্রায় কুড়ি কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে। দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৬ মিটার, প্রস্থ ১৩ মিটার। নাগরাকাটা ও জলপাইগুড়ির যোগাযোগে এটি ব্যবহৃত হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও দুটি সেতু নির্মাণাধীন থাকার কথা বলেছেন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কালিখোলার সেতুর কাজ শুরুর অনুমোদনের কথাও জানিয়েছেন। শেষের দাবিগুলিকে সম্পন্ন নির্মাণের তালিকায় রাখা যাবে না।

কোচবিহারে তিনি পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা এবং সড়ক, রেল ও আকাশপথের যোগাযোগ উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেন। ৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে উড়ান প্রকল্প নিয়ে চুক্তির পরিকল্পনার কথাও বলেন। পাশাপাশি বন্ধ চা-বাগান খোলা, শ্রমিকদের জমির মালিকানা এবং কুড়ি শতাংশ বোনাস নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এগুলি মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্য; নির্দিষ্ট বিমানসূচি, জমির পাট্টা বিতরণ বা সব বাগানের বোনাস চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ নয়।

বিশ্লেষণ: হলংয়ের ক্ষেত্রে সাফল্যের মাপকাঠি শুধু নির্ধারিত দিনে ভবন তৈরি হওয়া হতে পারে না। অরণ্যের ভিতরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জল ও বিদ্যুতের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং জরুরি অবস্থায় অতিথিদের সরানোর ব্যবস্থা সমান গুরুত্বপূর্ণ। পুরনো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য যেন আগের ঝুঁকিও ফিরিয়ে না-আনে, সেটিই পুনর্নির্মাণের আসল পরীক্ষা। নিরাপত্তার ব্যবস্থাগুলি প্রকাশ করা হলে পর্যটকদের আস্থাও বাড়বে।

সেতুর হিসাবেও একইভাবে উদ্বোধনের পরে নজরদারি প্রয়োজন। সংযোগকারী রাস্তা ব্যবহারযোগ্য কি না, বর্ষায় কাঠামো ও নদীতীরের অবস্থা কেমন থাকে এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার—এই প্রশ্নগুলি স্থানীয় বাসিন্দার দৈনন্দিন সুবিধার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। পর্যটকের গাড়ির পাশাপাশি স্কুল, বাজার বা চিকিৎসার যাতায়াত সহজ হচ্ছে কি না, তা দিয়েও প্রকল্পের ফল মাপা উচিত।

পর্যটন থেকে স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়ার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু তার পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা যায় না। ঘোষণার তালিকার পাশে বরাদ্দ, দরপত্র, কাজের অগ্রগতি এবং চালুর তারিখ নিয়মিত প্রকাশ করলে নাগরিকেরা বুঝবেন কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তব হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীকে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হলে সম্ভাব্য উদ্বোধনের মাসের পাশাপাশি যাতায়াত, অনুমতি এবং পরিষেবার বাস্তব প্রস্তুতির খবরও জানতে হবে। উত্তরবঙ্গের জন্য কার্যকর উন্নয়নের ভাষা তাই শুধু নতুন গন্তব্যের প্রচার নয়; সম্পন্ন কাজের যাচাইযোগ্য হিসাবও।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles