খবর

তিন সপ্তাহেই মধ্যাহ্নভোজের নির্দেশ প্রত্যাহার: চার জেলায় অক্ষয় পাত্রকে দায়িত্ব দিল না সরকার

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের নির্বাচিত এলাকায় বিদ্যালয়ের রান্না করা মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহের দায়িত্ব অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়ার নির্দেশ তিন সপ্তাহের…
  • শিক্ষা দপ্তরের যুগ্মসচিব পারমিতা রায়ের ১১ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে ২১ আগস্টের স্মারকলিপি বাতিল করে চার জেলার আধিকারিকদের আর কোনও পদক্ষেপ না-করতে বলা হয়েছে।
  • সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে প্রত্যাহারের বিস্তারিত কারণ লেখা হয়নি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের নির্বাচিত এলাকায় বিদ্যালয়ের রান্না করা মধ্যাহ্নভোজ সরবরাহের দায়িত্ব অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশনকে দেওয়ার নির্দেশ তিন সপ্তাহের মধ্যেই প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষা দপ্তরের যুগ্মসচিব পারমিতা রায়ের ১১ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে ২১ আগস্টের স্মারকলিপি বাতিল করে চার জেলার আধিকারিকদের আর কোনও পদক্ষেপ না-করতে বলা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে প্রত্যাহারের বিস্তারিত কারণ লেখা হয়নি। অতিরিক্ত খরচ ও প্রস্তুত পরিকাঠামোর ঘাটতির কথা দপ্তরের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন; সেটি প্রকাশ্য নিরীক্ষা-প্রতিবেদন নয়।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে কলকাতা ও কয়েকটি জেলার স্কুলে কেন্দ্রীয় রান্নাঘর থেকে খাবার পাঠানোর দায়িত্ব অন্নামৃত ও অক্ষয় পাত্রের মতো সংস্থাকে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ১ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী নতুন খাদ্যতালিকা চালু করেছিলেন। কলকাতার প্রায় ৫০০ বিদ্যালয়ে অন্নামৃত খাবার পাঠাচ্ছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। চার জেলার দ্বিতীয় ধাপটি কার্যকর হওয়ার আগেই থেমে গেল। ফলে ওই এলাকার বর্তমান স্বনির্ভর গোষ্ঠী, স্থানীয় রান্নাঘর বা বিদ্যালয়ভিত্তিক ব্যবস্থা আগের মতো চলবে কি না, জেলা প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দিতে হবে।

বিতর্কের একটি অংশ ছিল খাদ্যতালিকা। শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারে শিশুদের পুষ্টির প্রয়োজন যথেষ্ট মিটবে কি না প্রশ্ন ওঠার পরে সরকার সপ্তাহে দু’দিন আলাদা করে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ডিমের সংগ্রহ, পরিবহণ ও বিতরণ যুক্ত হওয়ায় খরচ বাড়ে এবং কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের সঙ্গে পৃথক সরবরাহ-শৃঙ্খল প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঠিক কত টাকা অতিরিক্ত লাগত, প্রতি শিশুর ব্যয় কত এবং বর্তমান ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা কী—এই হিসাব এখনও প্রকাশিত হয়নি।

কলকাতা হাইকোর্টে এই দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে ইসকন লিখিতভাবে জানিয়েছে, অন্নামৃত বা অক্ষয় পাত্রের পরিচালনা ও ট্রাস্টি পর্ষদের সঙ্গে তাদের গভর্নিং বডির কোনও আইনি সম্পর্ক নেই; এগুলি পৃথক সংস্থা। সরকারি বা রাজনৈতিক বক্তব্যে ‘ইসকনকে দায়িত্ব’ বলা হলেও চুক্তিতে কোন আইনগত প্রতিষ্ঠান আছে তা নির্দিষ্ট করা জরুরি। একই ধর্মীয় ঐতিহ্য বা ব্যক্তিগত সংযোগ আইনি নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ নয়।

বড় কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের সম্ভাব্য সুবিধা হল মানসম্মত রান্না, যন্ত্রনির্ভর পরিচ্ছন্নতা ও বড় পরিসরে ক্রয়। অসুবিধা হল দূরত্বে খাবারের তাপমাত্রা ও স্বাদ কমা, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস উপেক্ষিত হওয়া এবং এক সরবরাহকারী ব্যর্থ হলে একসঙ্গে বহু স্কুলে খাবার বন্ধ হওয়া। স্থানীয় রান্নাঘরে নজরদারি দুর্বল হতে পারে, কিন্তু অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের সরাসরি জবাবদিহি থাকে। কোন মডেল ভালো তা পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, পুষ্টি, খরচ ও সময়মতো সরবরাহের পরীক্ষায় স্থির হওয়া উচিত।

বর্তমান রান্নার কাজে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও রাঁধুনিদের জীবিকাও সিদ্ধান্তের অংশ। কেন্দ্রীয় সংস্থা এলে তাঁদের কাজ, পারিশ্রমিক ও স্থানীয় বাজার থেকে খাদ্য কেনা কমতে পারে। আবার অপর্যাপ্ত স্থানীয় রান্নাঘরে কর্মীদের উপর অসামঞ্জস্য চাপ থাকে। নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার আগে কর্মসংস্থানের প্রভাব, রান্নাঘর উন্নয়নের বিকল্প খরচ এবং অভিভাবকদের মত লিখিতভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।

বিশ্লেষণ: মাত্র তিন সপ্তাহে সিদ্ধান্ত বদল দেখায়, অনুমোদনের আগে আর্থিক ও সক্ষমতার পরীক্ষা যথেষ্ট ছিল কি না প্রশ্ন আছে। কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে রান্নাঘরের ধারণক্ষমতা, পথের সময়, ডিমসহ পূর্ণ খাদ্যতালিকার দাম এবং বিপর্যয়ে বিকল্প ব্যবস্থা যাচাই করা দরকার ছিল। প্রত্যাহার নিজে ভুল সংশোধন হতে পারে; কারণ গোপন থাকলে একই ভুল অন্য জেলায় পুনরাবৃত্ত হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিশুদের খাবারের ধারাবাহিকতা। প্রশাসনিক মতবদলে এক দিনও রান্না বন্ধ বা পুষ্টির পরিমাণ কমা চলবে না। বিদ্যালয়ভিত্তিক উপস্থিতি, পরিবেশনের সময়, খাবারের নমুনা পরীক্ষা ও অভিযোগের ফল প্রকাশ করা উচিত। মধ্যাহ্নভোজ কোনও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা বা সংস্থার বাজার নয়; বহু শিশুর দিনের সবচেয়ে নিশ্চিত পুষ্টি। সেই কারণে সিদ্ধান্তের মানদণ্ডও হতে হবে শিশুর থালা—সরকার বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles