বাদ পড়া ২৭ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষের আপিল, ভোটার-ট্রাইব্যুনালে জমে ৩৭ লক্ষের পাহাড়

যা জানা জরুরি
- পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় ভোটার-তালিকা সংশোধনে বাদ পড়া ২৭ লাখ ১৬ হাজার মানুষের মধ্যে ২২ লাখ ২১ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ, নাম ফেরানোর জন্য…
- নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হলফনামায় এই তথ্য জানিয়েছে।
- পাঁচ মাসে মোট আপিলের অতি সামান্য অংশ নিষ্পত্তি হওয়ায় ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ কার্যত বিশাল প্রশাসনিক অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ নিবিড় ভোটার-তালিকা সংশোধনে বাদ পড়া ২৭ লাখ ১৬ হাজার মানুষের মধ্যে ২২ লাখ ২১ হাজার, অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ, নাম ফেরানোর জন্য আপিল করেছেন। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া হলফনামায় এই তথ্য জানিয়েছে। পাঁচ মাসে মোট আপিলের অতি সামান্য অংশ নিষ্পত্তি হওয়ায় ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের পথ কার্যত বিশাল প্রশাসনিক অপেক্ষায় আটকে রয়েছে।
কমিশনের সর্বশেষ হিসাবে মোট ৩৮ লাখ ৩১ হাজার আপিলের মধ্যে ২২ লাখ ২১ হাজার নাম অন্তর্ভুক্তির এবং ১৬ লাখ ১০ হাজার অন্য নাম বাদ দেওয়ার দাবি। আগের হলফনামার তারিখে প্রায় ৩৮ লাখ ২০ হাজার আপিলের মাত্র ১ লাখ ২ হাজার নিষ্পত্তি হয়েছিল; ৩৭ লাখের বেশি ঝুলে ছিল। তথ্যের তারিখ আলাদা হওয়ায় মোট সংখ্যায় সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০২৬ সালের ভোটের আগে প্রায় ৬০ লাখ ৬ হাজার সন্দেহভাজন বা বিচারাধীন নাম পরীক্ষা করতে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছিল। ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল ১৩ এপ্রিল কাজ শুরু করে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বিধানসভা ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম পুনরায় তালিকায় ফিরেছিল।
কমিশনের বক্তব্য, মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা একাধিক জায়গায় থাকা নাম নিয়ম অনুযায়ী বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিচারিক আধিকারিকের পরীক্ষাও ছিল। আবেদনকারীদের দাবি, নোটিস, শুনানির সময় এবং নথির মান সমান ছিল না। এত বিপুল সংখ্যায় বাদ-পড়া ভোটার আপিল করায় অন্তত বোঝা যায়, তাঁরা কমিশনের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি; তবে আপিল করাই তাঁদের প্রত্যেকের দাবি বৈধ প্রমাণ করে না।
কমিশন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বর্তমান ১৯ থেকে রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সমান করার প্রস্তাব দিয়েছে। সংখ্যা বাড়ানো দরকার হলেও শুধু নতুন বেঞ্চে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিটি আপিলের নথি, শুনানি, কারণযুক্ত আদেশ এবং সংশোধিত তালিকায় পরিবর্তন পাঠাতে যথেষ্ট কর্মী ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় প্রয়োজন।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, যে ৩১টি আসনে নাম বাদ পড়ার সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের বেশি, সেখানকার ফল বাতিল করা উচিত। কমিশন বলেছে, নির্বাচনের ফল শুধু জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে নির্বাচনী মামলায় চ্যালেঞ্জ করা যায়। বাদ পড়া নাম ও আসনের ব্যবধানের তুলনা একা প্রমাণ করে না, ওই সব মানুষ ভোট দিলে ফল উল্টে যেত।
প্রধান সংকট ফল বাতিলের রাজনৈতিক দাবি নয়; আপিলের কার্যকর অধিকার। বিচার পেতে কয়েক বছর লাগলে পরবর্তী নির্বাচনও চলে যেতে পারে। বাদ পড়া ভোটারের আপিলকে আগে নিষ্পত্তি করা যুক্তিসঙ্গত, কারণ ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি এখনও ভোট দিতে পারেন, কিন্তু ভুলভাবে বাদ পড়া ব্যক্তি অধিকারটি ব্যবহারই করতে পারেন না।
ট্রাইব্যুনালভিত্তিক দৈনিক নিষ্পত্তি, মঞ্জুর–খারিজের সংখ্যা, গড় সময় এবং কারণ প্রকাশ করা প্রয়োজন। মহিলা, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও পরিযায়ী ভোটারের জন্য দূরবর্তী শুনানির বিকল্প দরকার। তালিকা নির্ভুল করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব; ভুল সংশোধনের গতি সেই দায়িত্বেরই অংশ। ২২ লাখ আপিল কোনও রাজনৈতিক স্লোগান নয়—প্রতিটি একটি পৃথক নাগরিক দাবি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



