অনাবাসীদের ডলারে আমানত ১৩৩ বিলিয়ন

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিশেষ বিদেশি মুদ্রা অদলবদল সুবিধার অধীনে এফসিএনআর(বি) আমানতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে।
- বিদেশি ঋণ ও অন্যান্য অনুমোদিত পথ ধরলে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট প্রবাহ প্রায় ১৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার।
- ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে এই বিপুল অঙ্ক সামনে এসেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিশেষ বিদেশি মুদ্রা অদলবদল সুবিধার অধীনে এফসিএনআর(বি) আমানতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে। বিদেশি ঋণ ও অন্যান্য অনুমোদিত পথ ধরলে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট প্রবাহ প্রায় ১৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার। ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে এই বিপুল অঙ্ক সামনে এসেছে।
এফসিএনআর(বি) হল অনাবাসী ভারতীয়দের বিদেশি মুদ্রায় মেয়াদি আমানত। ডলার, পাউন্ড বা অন্য অনুমোদিত মুদ্রায় মূলধন ও সুদ নির্ধারিত থাকায় আমানতকারী টাকার বিনিময়মূল্য কমার সরাসরি ঝুঁকি এড়াতে পারেন। ভারতীয় ব্যাঙ্ক সেই বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করে; বিশেষ ব্যবস্থায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে অদলবদল করে মুদ্রা-ঝুঁকি সামলানোর সুযোগ পেয়েছিল।
বিশেষ জানালার উদ্দেশ্য ছিল রুপির অস্থিরতার সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও দেশের রিজার্ভ শক্ত করা। এফসিএনআর আমানত নেওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে; ব্যাঙ্কগুলিকে সংশ্লিষ্ট অদলবদল সম্পন্ন করার জন্য পরে সীমিত সময় দেওয়া হয়েছিল। বহিঋণ ও বিদেশি মুদ্রার বন্ডের কিছু জানালা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে আজ নতুন সাধারণ এফসিএনআর আমানত করা এবং বিশেষ সরকারি সুবিধার পুরনো সময়সীমা এক বিষয় নয়।
বিশেষ অদলবদলের সুবিধা মূলত ব্যাঙ্কের জন্য। আমানতকারী আলাদা সরকারি বোনাস বা ঘোষিত নিশ্চিত অতিরিক্ত সুদ পাননি। কোন ব্যাঙ্ক কত সুদ দিয়েছে, তা মুদ্রা, মেয়াদ ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতির উপর নির্ভর করেছে। প্রচারিত উচ্চ হার তুলনা করতে হলে একই মুদ্রা ও একই মেয়াদ দেখতে হয়; ডলারের হারকে রুপির স্থায়ী আমানতের হারের সঙ্গে সরাসরি তুলনা বিভ্রান্তিকর।
এফসিএনআর আমানতকারী বৈদেশিক মুদ্রায় মূলধন স্থির রাখলেও ভারতীয় ব্যাঙ্কের ঋণঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। ভারতের শাখায় রাখা যোগ্য বিদেশি মুদ্রার আমানত ডিআইসিজিসি সুরক্ষায় থাকতে পারে, কিন্তু একই ব্যাঙ্কে সব যোগ্য আমানত মিলিয়ে সুরক্ষা ভারতীয় টাকায় পাঁচ লক্ষ পর্যন্ত। ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক খবর কোনও ব্যক্তির বড় আমানতকে সম্পূর্ণ সরকারি নিশ্চয়তা দেয় না।
ভারতে অনাবাসী অবস্থায় এফসিএনআর সুদের বিশেষ কর-ছাড় থাকতে পারে। পরে আবাসিকতার অবস্থান বদলালে করের আচরণও বদলাতে পারে; ব্যাঙ্কে ঠিক সময়ে অবস্থা হালনাগাদ করা দরকার। বসবাসের দেশের কর আইন আবার আলাদা—ভারতে করমুক্ত হলেই বিদেশে ঘোষণা বা করের দায় নেই, এমন নয়।
বিশ্লেষণ: বিপুল প্রবাহ দেশের রিজার্ভ ও ব্যাঙ্কিং তারল্যে সহায়তা করেছে, কিন্তু আমানতকারীর জন্য এটি ‘রুপি শক্তিশালী হবেই’ এমন সংকেত নয়। বিশেষ সুবিধার পরেও ২১ সেপ্টেম্বর রুপি ডলারে প্রায় ৯৫.৮১ স্তরে ছিল। তেল, বিশ্ব সুদ, বাণিজ্য ও পুঁজিপ্রবাহ বিনিময়হার নির্ধারণ করে।
অনাবাসী পরিবারের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে জরুরি মিল হল ভবিষ্যৎ খরচের মুদ্রা। কয়েক বছর পরে ভারতে খরচ হলে সব অর্থ ডলারে রাখা রুপির মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি আনে; বিদেশে খরচ হলে সব অর্থ রুপিতে রাখা উল্টো ঝুঁকি। কোনও ব্যক্তিনির্দিষ্ট নির্দেশ নয়—খবরটির শিক্ষা, সরকারি অদলবদল সুবিধা, ব্যাঙ্কের সুদ এবং পরিবারের মুদ্রা-ঝুঁকি তিনটি পৃথক হিসাব।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



