অর্থ ও বাণিজ্য

কর বকেয়ায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্তর ক্ষমতা কিন্তু বহাল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: কর আদায়ের নিয়ম থেকে বকেয়াদারকে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার বিধান বাদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ।
  • সংশোধনটি ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পূর্ববর্তী কার্যকারিতা পেয়েছে।
  • নতুন আয়কর কাঠামোয় আদায় হবে মূলত সম্পত্তি সংযুক্ত করা, বিক্রি এবং আইনে স্বীকৃত অন্য আর্থিক পদ্ধতিতে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: কর আদায়ের নিয়ম থেকে বকেয়াদারকে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার বিধান বাদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর পর্ষদ। সংশোধনটি ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পূর্ববর্তী কার্যকারিতা পেয়েছে। নতুন আয়কর কাঠামোয় আদায় হবে মূলত সম্পত্তি সংযুক্ত করা, বিক্রি এবং আইনে স্বীকৃত অন্য আর্থিক পদ্ধতিতে। পরিবর্তনটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বকেয়া কর মাফ বা আদায় বন্ধ হওয়ার খবর নয়।

পুরনো ব্যবস্থায় কর আদায় আধিকারিক নির্দিষ্ট শর্তে বকেয়াদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি ও দেওয়ানি কারাগারে আটকের প্রক্রিয়া নিতে পারতেন। বাস্তবে ব্যবস্থাটি খুব ঘন ঘন ব্যবহৃত না-হলেও আইনে উপস্থিতি করদাতার উপর বড় চাপ তৈরি করত। সংশোধিত নিয়মে সেই ব্যক্তিগত আটক-ভিত্তিক পথ সরিয়ে সম্পত্তি-কেন্দ্রিক আদায়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কর নির্ধারণের নোটিস, আপিল এবং চূড়ান্ত বকেয়া—এই তিনটি পর্যায় আলাদা। কোনও করদাতা হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল বা সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু শুধু আপিল করেছেন বলেই সব আদায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয় না। প্রয়োজন হলে পৃথক স্থগিতাদেশ চাইতে হয় এবং কর্তৃপক্ষ আংশিক অর্থ জমার শর্ত দিতে পারে।

গ্রেপ্তারের বিধান বাদ গেলেও ব্যাঙ্ক হিসাব সংযুক্ত করা, বেতন বা তৃতীয় পক্ষের পাওনা থেকে টাকা নেওয়া এবং স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির ক্ষমতা বহাল। বকেয়ার উপর সুদও চলতে পারে। ফলে নোটিস উপেক্ষা করে ‘এখন আর কিছু হবে না’ ভাবলে শেষ পর্যন্ত নগদপ্রবাহ ও সম্পত্তির উপর বড় আঘাত আসতে পারে। আয়কর পোর্টালে নোটিসের সত্যতা এবং উত্তর দেওয়ার শেষ দিন পরীক্ষা করা জরুরি।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হল কর আদায় ও কর-সংক্রান্ত অপরাধ। বকেয়া আদায়ের জন্য আটক বাদ দেওয়া মানে জাল নথি, ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকি, অনুসন্ধানের সময়ে বাধা বা অন্য অপরাধমূলক অভিযোগের সব শাস্তি উঠে যাওয়া নয়। কোন ধারায় নোটিস এসেছে, সেটি না-দেখে সংশোধনটির সুবিধা দাবি করা যাবে না।

সংশোধনের সঙ্গে নতুন আয়কর আইনে মূল্যনির্ধারক ও অনুমোদিত কর-প্রতিনিধিদের নিবন্ধনের সময় ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন ফর্মে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। সাধারণ করদাতার জন্য এর অর্থ, সম্পত্তির মূল্য বা কর-মামলায় প্রতিনিধি বাছার সময় তাঁর নতুন নিবন্ধন বৈধ কি না যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশ্লেষণ: ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কেড়ে কর আদায় আধুনিক অনুপাতের পরীক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা। সম্পত্তি সংযুক্তি রাষ্ট্রকে পাওনা উদ্ধার করতে দেয়, কিন্তু শরীরকে জামানত বানায় না। তা সত্ত্বেও ভুল মূল্যায়নে সম্পত্তি আটক হলে করদাতার ক্ষতি গুরুতর হতে পারে। দ্রুত আপিল, কারণ-লিখিত আদেশ এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পত্তি না-আটকানোর নীতি তাই গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবর্তনটি ‘কর বকেয়ায় আর কোনও ঝুঁকি নেই’ বলে প্রচার করা বিপজ্জনক। প্রাপ্য কর, সুদ এবং বৈধ জরিমানা বহাল থাকে। কার্যকর সুরক্ষা হল নোটিস খুলে দেখা, পোর্টালে সময়মতো উত্তর দেওয়া, অর্থপ্রদানের প্রমাণ রাখা এবং বিরোধ থাকলে আনুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ নেওয়া। গ্রেপ্তারের ভয় কমেছে; হিসাবের দায়

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles