রেজিনগর উপনির্বাচনে নিজের দল আমজনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে প্রকাশ্য প্রচার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর ছেলে ও প্রার্থী গোলাম নবি আজাদকেও সভা–মিছিল থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। হুমায়ুনের অভিযোগ, তিনি যাঁদের সঙ্গে দেখা করছেন তাঁদের গ্রেপ্তার বা ভয় দেখানো হচ্ছে; দলের অন্তত ২৫ জন কর্মীকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে। পুলিশি হিসাব ও প্রতিটি গ্রেপ্তারের মামলাভিত্তিক তালিকা অবশ্য প্রকাশিত হয়নি।

হুমায়ুন জানিয়েছেন, শারীরিক প্রচারের বদলে সমাজমাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ভোটের দিন সম্ভাব্য অনিয়ম প্রতিরোধে দলীয় কর্মীদের বুথে মনোযোগ দিতে বলেছেন। এই সিদ্ধান্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার নয়—গোলাম নবি আজাদের নাম ব্যালটে থাকবে। প্রকাশ্য প্রচার বন্ধের ফলে অবশ্য ভোটারের সামনে প্রার্থীর জবাবদিহি ও সরাসরি যোগাযোগ কমবে।

রেজিনগর আসনটি শূন্য হয়েছে হুমায়ুন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুই জায়গায় জিতে প্রথমটি ছেড়ে দেওয়ায়। সেই ভোটে রেজিনগরে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৫৮ হাজারের বেশি। এবার নিজের ছেলেকে প্রার্থী করায় বিরোধীরা পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। বিজেপি, তৃণমূলের দুই শিবির এবং অন্য প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতা বহুস্তরীয় হয়েছে।

এই আবহেই হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া। দলের রাজ্য সভাপতি রাজু ঘোষের দাবি, নির্বাচনী প্রচারে হুমায়ুন প্রতিপক্ষের আক্রমণ হলে পাল্টা প্রতিরোধের কথা বলে উত্তেজক ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন। তাঁরা হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার অথবা ভোটের দিন অন্য জেলায় সরিয়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ দায়ের হয়েছে; পুলিশ বা আদালত এখনও বক্তব্যটিকে অপরাধ ঘোষণা করেনি।

এর আগে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে যুক্ত নির্দল প্রার্থী সাইফুল ইসলামকে ২০২১ সালের একটি গোষ্ঠী-সংঘর্ষের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সরাসরি গোলাম নবির পরিবর্তে দাঁড়ানো প্রার্থী কি না এবং তাঁর বর্তমান সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভাষার পার্থক্য রয়েছে। তাই গ্রেপ্তারকে হুমায়ুনের দলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অভিযান বলা যেমন এখনও প্রমাণিত নয়, তেমনি পুরনো মামলার সময় নির্বাচন-নিরপেক্ষ কি না, সেই প্রশ্নও অযৌক্তিক নয়।

প্রশাসনের দায়িত্ব প্রতিটি আটক ব্যক্তির নাম, মামলার নম্বর, অভিযোগের তারিখ এবং গ্রেপ্তারের আইনি ভিত্তি নির্বাচন কমিশনকে জানানো। একই সঙ্গে প্রার্থী বা নেতা এমন ভাষা ব্যবহার করলে যার ফলে সহিংসতার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা তৈরি হয়, কমিশনকে নোটিস দিয়ে বক্তব্যের পূর্ণ ভিডিয়ো যাচাই করতে হবে। কাটা অংশ বা দলীয় ব্যাখ্যা কোনওটিই যথেষ্ট নয়।

প্রচার বন্ধ করে হুমায়ুন প্রশাসনিক চাপের অভিযোগকে রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত করেছেন। কিন্তু স্বেচ্ছায় মাঠ ছাড়লে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই; উল্টো দিকে ভোটারের প্রশ্ন করার সুযোগও কমে। তাই তাঁর অভিযোগ স্বাধীন পর্যবেক্ষক ও মামলার নথি দিয়ে যাচাই প্রয়োজন।

রেজিনগরের পরীক্ষাটি কোনও এক নেতার জনপ্রিয়তার চেয়ে বড়। বিরোধী কর্মীর বিরুদ্ধে পুরনো মামলা কার্যকর, শাসকপক্ষের অভিযোগ গ্রহণ এবং উত্তেজক বক্তব্যের ব্যবস্থা—তিন ক্ষেত্রেই একই মান দেখা দরকার। কমিশন বুথভিত্তিক সংবেদনশীলতা, গ্রেপ্তার ও অভিযোগের দৈনিক তথ্য প্রকাশ করলে গুজব কমবে। নির্বাচন শুধু ভোটের দিন শান্ত থাকলেই অবাধ হয় না; প্রার্থী ও কর্মী ভয় ছাড়া প্রচার করতে পারছেন কি না, সেটিও তার অংশ।