International

আগুনের ঘড়ি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: ২০২৫ সালে ইউরোপে জন্মানো একটি শিশুর জীবন অন্য সবার মতোই দিন, মাস আর বছরে এগোবে।
  • কিন্তু তার জীবনে যেন আরও একটি অদৃশ্য ঘড়ি চলছে—কত দিন এমন তাপ, শুষ্কতা আর হাওয়া একসঙ্গে থাকবে, যখন আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি…
  • ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক গবেষণার হিসাবে, বর্তমান জলবায়ু নীতি অব্যাহত থাকলে ১৯৫০ সালে জন্মানো মানুষের তুলনায় ২০২৫ সালের নতুন প্রজন্ম গড়ে তিন বছরেরও বেশি…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: ২০২৫ সালে ইউরোপে জন্মানো একটি শিশুর জীবন অন্য সবার মতোই দিন, মাস আর বছরে এগোবে। কিন্তু তার জীবনে যেন আরও একটি অদৃশ্য ঘড়ি চলছে—কত দিন এমন তাপ, শুষ্কতা আর হাওয়া একসঙ্গে থাকবে, যখন আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক গবেষণার হিসাবে, বর্তমান জলবায়ু নীতি অব্যাহত থাকলে ১৯৫০ সালে জন্মানো মানুষের তুলনায় ২০২৫ সালের নতুন প্রজন্ম গড়ে তিন বছরেরও বেশি অতিরিক্ত ‘চরম অগ্নি-আবহাওয়া’র মুখোমুখি হতে পারে।

‘এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স’-এ প্রকাশিত গবেষণায় ইউরোপের জনসংখ্যার আয়ু-সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে বৈশ্বিক জলবায়ু মডেলের হিসাব মিলিয়েছেন গবেষকেরা। ১৯৮৫–২০১৪ সময়কালে প্রতিটি দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক ৫ শতাংশ দিনের তুলনায় বেশি তীব্র আবহাওয়াকে তাঁরা ‘চরম’ হিসেবে ধরেছেন। তারপর ১.৫ থেকে ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়নের ২১টি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বছরে জন্মানো মানুষের পুরো জীবনে এমন দিনের মোট সংস্পর্শ হিসাব করা হয়েছে।

বর্তমান ঘোষিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ২.৬ ডিগ্রি উষ্ণায়নের পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে জন্মানো শিশুদের জীবনকালের এমন আবহাওয়ার সংস্পর্শ ১৯৫০ সালের জন্মগোষ্ঠীর তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেশি হতে পারে। গবেষকদের হিসাবে, এই বৃদ্ধির ৮৬ শতাংশের জন্য দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন; বাকি ১৪ শতাংশ মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার প্রভাব।

অর্থাৎ শুধু বেশি দিন বাঁচার কারণেই নতুন প্রজন্মের ‘অগ্নি-আবহাওয়া’র হিসাব বাড়ছে না। তাদের জীবনের প্রতিটি দশকেই এমন পরিস্থিতির সম্ভাব্য উপস্থিতি বাড়ছে।

সবচেয়ে বড় চাপ পড়তে পারে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে। কিছু এলাকায় ২০২৫ সালে জন্মানো শিশুর জীবনকালে ১৯৫০ সালের জন্মগোষ্ঠীর তুলনায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বেশি অগ্নি-আবহাওয়া জমা হতে পারে। অর্থাৎ জীবনের পাঁচ বছরেরও বেশি সময় এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

পর্তুগাল তার একটি উদাহরণ। সেখানে বছরে চরম অগ্নি-আবহাওয়ার গড় দিন ১৯৫০–৭০ সময়কালের ১৪ দিন থেকে শতাব্দীর শেষে ৩২ দিনে পৌঁছতে পারে। বর্তমান নীতির পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০২৫ সালে জন্মানো একটি শিশুর জীবনে এমন আবহাওয়ার মোট সংস্পর্শ প্রায় সাড়ে ছয় বছর হতে পারে।

তবে এখানে একটি জরুরি সতর্কতা আছে। ‘অগ্নি-আবহাওয়া’ মানেই সেই দিন আগুন লাগবে—এমন নয়। আগুন শুরু হতে বজ্রপাত বা মানুষের তৈরি কোনও স্ফুলিঙ্গের মতো উৎস দরকার। আর আগুন কত দূর ছড়াবে, তা নির্ভর করে বন ও উদ্ভিদের ধরন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, বসতি, আগাম প্রস্তুতি এবং দমকলের দ্রুততার উপরও।

অর্থাৎ গবেষণাটি ভবিষ্যতে ঠিক কতগুলি বনাগ্নি হবে, তার সংখ্যা দেয়নি। এটি মেপেছে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল আবহাওয়ার সম্ভাব্য উপস্থিতি।

আর সেই ভবিষ্যৎ একেবারে পাথরে লেখা নয়। উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা গেলে ২০২৫ সালে জন্মানো ইউরোপীয় শিশুদের জীবনকালের চরম অগ্নি-আবহাওয়ার সংস্পর্শ বর্তমান নীতি-পরিস্থিতির তুলনায় গড়ে ১.৩ বছর কমতে পারে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ ইউরোপীয় অঞ্চলগুলিতে কমার পরিমাণ দুই বছরেরও বেশি হতে পারে।

অর্থাৎ শিশুর ভবিষ্যতের ‘আগুনের ঘড়ি’ কত দ্রুত চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আজকের নির্গমনপথের উপর।

তবে প্রজন্মের হিসাব করতে গিয়ে আরেকটি পার্থক্য চোখ এড়িয়ে গেলে চলবে না। একই বছরে জন্মানো সব শিশুর ঝুঁকি এক নয়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাড়ি, বিমা, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং দ্রুত নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার সুযোগ থাকা পরিবারের ঝুঁকি আর অনানুষ্ঠানিক বসতি বা প্রত্যন্ত গ্রামে থাকা পরিবারের ঝুঁকি এক হতে পারে না।

তাই নির্গমন কমানোর পাশাপাশি দরকার স্থানীয় প্রস্তুতিও। শুকনো জ্বালানি সরানো, নিয়ন্ত্রিত আগুনের ব্যবহার, স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক দল, আগুন-সহনশীল ভবন এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা—সবই গুরুত্বপূর্ণ।

আবার সব আগুন নির্বিচারে নিভিয়ে ফেলাও সব ভূদৃশ্যের জন্য ভালো সমাধান নয়। কোথাও দীর্ঘদিন আগুন পুরোপুরি দমন করলে শুকনো জ্বালানি জমে ভবিষ্যতের আগুন আরও ভয়াবহ হতে পারে। অন্য দিকে ‘বন ব্যবস্থাপনা’র কথা বলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা আড়াল করাও সমান ভুল।

আজ যে শিশুটি দোলনায় শুয়ে আছে, তার ভবিষ্যৎ তাই শুধু থার্মোমিটারের সংখ্যায় লেখা হচ্ছে না। কতটা গরম হবে, তা জলবায়ু ঠিক করবে; কিন্তু সেই গরম পৃথিবীতে কতটা নিরাপদে বাঁচবে, তার অনেকটাই ঠিক হচ্ছে আজকের সিদ্ধান্তে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles