শুল্কের মেয়াদ শেষ, ট্রাম্পের নতুন চাল!

যা জানা জরুরি
- পুরনো শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ৮০টিরও বেশি দেশের উপর নতুন করে ১০% থেকে ১২.৫% পর্যন্ত আমদানি শুল্ক চাপালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘোষণার পর শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন শুল্কনীতি।
- মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বৈশ্বিক শুল্কনীতি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ পদক্ষেপ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পুরনো শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ৮০টিরও বেশি দেশের উপর নতুন করে ১০% থেকে ১২.৫% পর্যন্ত আমদানি শুল্ক চাপালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘোষণার পর শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন শুল্কনীতি।
মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বৈশ্বিক শুল্কনীতি চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ পদক্ষেপ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্পের আরোপ করা আগের বৈশ্বিক শুল্ক আইনসম্মত নয়।
তবু ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যায্য বাণিজ্য পরিস্থিতির বোঝা বইতে হয়েছে। তাঁর মতে, দেশীয় উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে উচ্চ শুল্ক অপরিহার্য।
কারা পড়ল নতুন শুল্কের আওতায়?
নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। তালিকায় রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো, চীন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশ।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দেশগুলির শ্রমনীতি এবং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে তাদের পদক্ষেপ পর্যালোচনা করার পরই এই শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
কার উপর কত শুল্ক?
নতুন শুল্কের ক্ষেত্রে দেশগুলিকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১০% শুল্ক: যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধে আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের উপর ১০% শুল্ক বসানো হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
১২.৫% শুল্ক: যেসব দেশ এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট কার্যকর করেনি বলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তাদের উপর ১২.৫% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে চীন, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল এবং জাপান।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও কেন নতুন শুল্ক?
ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেয়, ১৯৭৭ সালের একটি আইন ব্যবহার করে ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
আদালতের বক্তব্য ছিল, জাতীয় জরুরি অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের কিছু ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকলেও শান্তিকালীন সময়ে কর বা শুল্ক আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের হাতে।
রায়ের পরও শুল্কনীতি চালু রাখার বিকল্প পথ খুঁজতে থাকে ট্রাম্প প্রশাসন। আদালতের রায়ের পর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারায় ১৫০ দিনের জন্য ১০% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। সেই শুল্কের মেয়াদ শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এবার নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে একই আইনের ৩০১ নম্বর ধারার অধীনে। এই ধারায় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি তদন্তের পর কোনও দেশের নীতি বা বাণিজ্যিক আচরণকে মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর মনে করলে শুল্ক আরোপের সুপারিশ করতে পারেন।
নতুন শুল্কও কি আদালতে আটকে যেতে পারে?
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নতুন শুল্কও আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রাক্তন উপ-মহাপরিচালক এবং পিটারসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালান উলফের দাবি, নতুন শুল্কও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার উদাহরণ হতে পারে। তাঁর মতে, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গেলে এই শুল্কও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত খরচটা কার?
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, শুল্কের মাধ্যমে বিদেশি দেশগুলিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ন্যায্য বাণিজ্য করতে বাধ্য করা যাবে। তবে সমালোচকদের বক্তব্য, আমদানি শুল্কের বাড়তি খরচের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হয়।
নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, আগের শুল্কের ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপর পড়েছিল।
জনমতেও এই নীতি খুব জনপ্রিয় নয়। হ্যারিস পোলের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় ৭২% মার্কিন নাগরিক বলেছেন, শুল্কের কারণে ভোক্তাদের ক্ষতি হয়েছে। এমনকি ৬৪% রিপাবলিকান সমর্থকও একই মত দিয়েছেন।
তবে কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিও শুল্কের মতোই বড় উদ্বেগের বিষয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সরকার ইতিমধ্যেই সংস্থাগুলিকে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফেরত দিয়েছে। এখন নতুন শুল্কনীতি কতদিন টিকে থাকে, তা নির্ভর করবে শুধু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর নয়—আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরও।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



