আগ্রাসনের সঙ্গে চাই ক্রিকেটবুদ্ধিও, ইংল্যান্ডকে বার্তা ফ্লেমিংয়ের

যা জানা জরুরি
- রবিবার ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের নতুন কোচ হিসেবে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই এই প্রশ্নের মুখে পড়লেন স্টিফেন ফ্লেমিং।
- ওটা তো একটা রোগের নাম!” জুলাইয়ের শেষে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি ফ্লেমিং।
- দায়িত্ব নিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোথায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
‘বাজবল’-এর সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়েছে ইংল্যান্ড। এ বার কি দেখা যাবে ‘ফ্লেমবল’? রবিবার ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের নতুন কোচ হিসেবে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই এই প্রশ্নের মুখে পড়লেন স্টিফেন ফ্লেমিং। শুরুতেই রসিকতা তাঁর, “ফ্লেমবল? ওটা তো একটা রোগের নাম!”
জুলাইয়ের শেষে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি ফ্লেমিং। সেই সিরিজ ইংল্যান্ড জিতেছে ৩–০ ব্যবধানে। দায়িত্ব নিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন, তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোথায়।
“বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দলের দায়িত্বে থাকতে চাই। সেটাই হবে আমার লক্ষ্য। আর নিউজিল্যান্ডের মানুষ হিসেবে ক্রিকেটজীবন জুড়ে অ্যাশেজ দেখেছি, ভালবেসেছি। সেই লড়াইয়ের অংশ হতে পারাটা আমার কাছে বিরাট প্রাপ্তি। তর সইছে না,” বলেছেন ফ্লেমিং।
তবে তাঁর বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এই প্রতিযোগিতাকে ইংল্যান্ড খুব একটা অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে মনে হয়নি। ‘বাজবল’ পর্বে কোচ ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকস বারবার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বকে খাটো করে দেখেছেন। নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওভার শেষ করতে না পারায় ইংল্যান্ডের শাস্তি পাওয়ার বিষয়টিও ঘুরেফিরে আলোচনায় এসেছে।
ফ্লেমিং সেই মনোভাবে বদল চান। তাঁর কথায়, “এই শিরোপা জেতার আকাঙ্ক্ষা থাকা উচিত। ইংল্যান্ড আরও অনেক ভাল করতে পারে। এমনকি ওভার করার গতি নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও নির্ভর করে দল হিসেবে আমরা কী পরিচয় গড়ে তুলতে চাই, কী ধরনের ক্রিকেট খেলতে চাই, তার উপর। বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা শিরোপা যদি এটি হয়, তা হলে অন্য বড় প্রতিযোগিতাগুলির পাশাপাশি এটিও জেতার চেষ্টা করব না কেন?”
স্বদেশীয় ম্যাকালামের জায়গায় দায়িত্ব নিচ্ছেন ফ্লেমিং। ম্যাকালামের প্রশিক্ষণে ইংল্যান্ডের খেলা যেমন দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে, তেমনই তাঁর মেয়াদ নিয়ে চর্চাও হয়েছে বিস্তর। টেস্ট ক্রিকেটে অতিরিক্ত ঝুঁকির পথ বেছে নিয়ে কখনও কখনও নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যাটসম্যানদের উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে।
তবে পূর্বসূরির অবদানকে যথেষ্ট মর্যাদা দিচ্ছেন নতুন কোচ। ফ্লেমিং বলেছেন, “ওঁরা—ম্যাকালাম ও বেন স্টোকস—যে ভাবে টেস্ট ক্রিকেটের চরিত্র বদলে দিয়েছিলেন, তা অসাধারণ। এর জন্য যে সাহসের প্রয়োজন ছিল, তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। গত বারো মাসে অবশ্য ওঁরা বা সমর্থকেরা যেমন চেয়েছিলেন, সে ভাবে এগোয়নি বিষয়টা। কিন্তু ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা এবং ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জড়তা কাটিয়ে নির্ভার করে তোলার ব্যাপারটা আমার খুব ভাল লেগেছিল। সেই জড়তাকেই একটা বাধা বলে মনে করা হত।”
সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়েই নিজের কাজ শুরু করতে চান ফ্লেমিং। তাঁর কথায়, “ওই ইতিবাচক মনোভাবটা ধরে রেখে তার সঙ্গে যদি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একটু ক্রিকেটবুদ্ধি মিশিয়ে দিতে পারি। দল হিসেবে আমাদের পরিচয় কী হবে, তা নিয়ে কাজ করার আছে। সেই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



