আরশোলা তাড়াবে টুইঙ্কলের টোটকা?

যা জানা জরুরি
- রাতবিরেতে অতিথি সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত টুইঙ্কল খান্না।
- রান্নাঘরে আরশোলা আর লাল পিঁপড়ের আনাগোনা ঠেকাতে এ বার নিজের এক ঘরোয়া টোটকা ভাগ করে নিলেন লেখিকা।
- ‘টুইক ইন্ডিয়া’র ইনস্টাগ্রাম পাতায় মজা করে তাঁর দাবি, এই মিশ্রণ রান্নাঘরকে আরশোলা-পিঁপড়ের ‘গরবা নাচের’ আসর হয়ে ওঠা থেকে বাঁচাতে পারে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাতবিরেতে অতিথি সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত টুইঙ্কল খান্না। অতিথি সে ছ’পেয়েই হোক বা দু’পেয়ে! রান্নাঘরে আরশোলা আর লাল পিঁপড়ের আনাগোনা ঠেকাতে এ বার নিজের এক ঘরোয়া টোটকা ভাগ করে নিলেন লেখিকা। ‘টুইক ইন্ডিয়া’র ইনস্টাগ্রাম পাতায় মজা করে তাঁর দাবি, এই মিশ্রণ রান্নাঘরকে আরশোলা-পিঁপড়ের ‘গরবা নাচের’ আসর হয়ে ওঠা থেকে বাঁচাতে পারে।
টোটকাটি বেশ সহজ। লাগবে তেজপাতা, লবঙ্গ আর ভিনিগার। আট থেকে দশটি লবঙ্গ এবং দু’-তিনটি তেজপাতা থেঁতলে এক কাপ জল ও এক কাপ ভিনিগারের সঙ্গে ফুটিয়ে নিতে হবে। ঠান্ডা হলে ছেঁকে তরলটি একটি স্প্রে বোতলে ভরে রান্নাঘরের দেরাজ, আলমারি ও বিভিন্ন কোণায় ছিটিয়ে দেওয়া যায়।
নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় টুইঙ্কল লিখেছেন, “মানুষের গায়েও যদি এটা ছেটাতে পারতাম, তা হলে আর রাতবিরেতে কোনও অতিথিই আসত না—ছ’পেয়ে কিংবা দু’পেয়ে!”
কিন্তু হাসি-ঠাট্টার বাইরে প্রশ্ন হল, এই ঘরোয়া মিশ্রণ সত্যিই কতটা কাজের?
বেঙ্গালুরুর অ্যাস্টার সিএমআই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শদাতা চিকিৎসক বৃন্দা এম এস-এর মতে, ঘরে থাকা কিছু উপকরণ দিয়ে তৈরি মিশ্রণ গন্ধ বা অন্য কোনও বৈশিষ্ট্যের কারণে কখনও কখনও কিছু পোকামাকড়কে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটিকে আরশোলা বা পিঁপড়ের উপদ্রবের পাকাপাকি সমাধান ভাবা ঠিক নয়। উপদ্রব নিয়মিত হলে যথাযথ পোকা দমনব্যবস্থার বিকল্পও হতে পারে না এটি।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে চিকিৎসক সতর্ক করেছেন, ঘরে তৈরি কোনও মিশ্রণ খাবার, রান্নার বাসন কিংবা খাবারের সংস্পর্শে আসে এমন জায়গায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধান থাকা জরুরি। সেটি নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হলে ওই সব জায়গায় সরাসরি ছেটানো উচিত নয়।
তাঁর মতে, পোকামাকড় ঠেকানোর প্রথম শর্তই হল রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা। খাবারের কণা, ভেজা জায়গা, তেলচিটে ময়লা ও আবর্জনা আরশোলা, পিঁপড়ে, মাছি-সহ নানা পোকামাকড়কে টেনে আনে। অপরিষ্কার জায়গা, বাসনপত্র কিংবা বাসন মাজার স্পঞ্জেও ক্ষতিকর জীবাণু জমতে পারে। ফলে খাবার দূষিত হওয়ার পাশাপাশি পেটের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
তাই টোটকার পাশাপাশি কয়েকটি অভ্যাস জরুরি। রান্নার জায়গা এবং খাবার তৈরির উপরিভাগ নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বাসন ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে এবং বাসন মাজার জায়গা শুকনো রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফ্রিজও পরিষ্কার করা দরকার।
খাবার ঢাকা দেওয়া পাত্রে রাখতে হবে। প্রতিদিন আবর্জনা ফেলে দিতে হবে। ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার আগে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। রান্নাঘরে খাবারের উচ্ছিষ্ট বা জমা জল ফেলে রাখা যাবে না। নোংরা স্পঞ্জ ও মোছার কাপড়ও ঘন ঘন বদলাতে হবে।
এর পাশাপাশি নিকাশি পথ পরিষ্কার রাখা এবং পোকামাকড় ঢোকার সম্ভাব্য ফাটল বা ফাঁক বন্ধ করাও জরুরি। রান্নাঘরে পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা থাকা উচিত। খাবার তৈরির আগে ও রান্নার সময় হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, তেজপাতা-লবঙ্গ-ভিনিগারের স্প্রে হয়তো সাময়িক ভাবে ‘অতিথি’ কমাতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু রান্নাঘরকে সত্যিই ছ’পেয়ে অতিথিমুক্ত রাখতে হলে টোটকার চেয়ে পরিচ্ছন্নতার উপরেই ভরসা বেশি।
মূল প্রতিবেদনের সতর্কীকরণ: এই লেখা প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনও নতুন অভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



