শ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিক ব্যবস্থায় প্রথম বার ওএমআর উত্তরপত্রে তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ২১ সেপ্টেম্বর। ৬,৮৭৭টি বিদ্যালয়ের ৭,১৮,৬২০ জন পরীক্ষার্থী ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষায় বসবে। তাঁদের মধ্যে ৩,১৫,৭৩১ জন ছাত্র এবং ৪,০২,৮৮৯ জন ছাত্রী। বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতির পাশাপাশি ব্যবহৃত উত্তরপত্র নিরাপদে সংগ্রহ ও আঞ্চলিক দপ্তরে পৌঁছতে ভারতীয় ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। ফলে পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি রাজ্যের সবচেয়ে বড় উত্তরপত্র পরিবহণ ব্যবস্থাটিরও এটি প্রথম বড় পরীক্ষা।

প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হওয়ার কথা; পরীক্ষার্থীকে সকাল ১০টার মধ্যে কেন্দ্রে ঢুকতে হবে। সংগীত ও দৃশ্যশিল্পের সময় আলাদা, বৃত্তিমূলক বিষয়ের পরীক্ষাও অন্য সময়ে হবে। প্রশ্নপত্র বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও অলচিকিতে দেওয়া হবে। ৪২৮ জন হেফাজতকারীর কাছে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে এবং কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে ওএমআর পত্র সরাসরি পৌঁছেছে।

প্রশ্নপত্রের প্রতিটি কপিতে পৃথক ক্রমিক নম্বর থাকবে। সিল করা প্যাকেট পরীক্ষার্থীদের সামনে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে খোলা হবে এবং সিল অক্ষত থাকার প্রমাণ হিসেবে দুই পরীক্ষার্থী স্বাক্ষর করবে। ব্যবহৃত উত্তরপত্র কেন্দ্রসচিবেরা গুনে, সিল করে ও প্যাকেটে ভরে নির্দিষ্ট ডাকঘরের কর্মীর হাতে দেবেন। অন্তত প্রতিটি ব্লকে একটি নির্দিষ্ট ডাকঘর রাখার কথা। সেখান থেকে প্যাকেট সংসদের আঞ্চলিক দপ্তরে যাবে। এই হেফাজত-শৃঙ্খলের প্রতিটি হস্তান্তরে সময়, সংখ্যা ও স্বাক্ষর ঠিক রাখা জরুরি।

নিরাপত্তার ব্যবস্থাও কঠোর। প্রবেশের আগে ধাতু শনাক্তকারী যন্ত্রে পরীক্ষা, কেন্দ্রে নজরদারি-ক্যামেরা এবং প্রতি ২০ পরীক্ষার্থীর জন্য দু’জন পরিদর্শক রাখার কথা জানিয়েছে সংসদ। মোবাইল, ক্যালকুলেটর বা অন্য বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিষিদ্ধ। মোবাইল পাওয়া গেলে শুধু চলতি পরীক্ষা নয়, নথিভুক্তিসহ সমস্ত পরীক্ষা বাতিলের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ৯৯টি কেন্দ্রকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও কোন মানদণ্ডে এই শ্রেণিবিন্যাস তা জনসমক্ষে বিস্তারিত বলা হয়নি।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের কারণে ৫, ৬ ও ৭ অক্টোবরের পরীক্ষা যথাক্রমে ১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর সরানো হয়েছে। করম পুজোর ছুটিতে ২২ সেপ্টেম্বরের বৃত্তিমূলক পরীক্ষাও ১৩ অক্টোবর হবে। সংসদ সহায়তা নম্বর ০৩৩-২৩৩৭০৭৯২৬২৮৯৮৮৬৬০৬ এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষ ০৩৩-২৩৩৭৯৬৬১ চালু করেছে।

ওএমআর পত্রের আরেকটি সুবিধা হল প্রতিটি উত্তর ডিজিটালভাবে পড়া যায়; একই সঙ্গে নতুন ঝুঁকি হল স্ক্যানের ভুল বা তথ্যের সঙ্গে রোল নম্বর না-মেলা। কেন্দ্র থেকে আঞ্চলিক দপ্তর পর্যন্ত প্যাকেটের বারকোড অনুসরণ, প্রাপ্তির সময়মুদ্রা এবং স্ক্যানের আগে–পরে উত্তরপত্রের সংখ্যা মিলিয়ে রাখা দরকার। কোনও প্যাকেট দেরিতে পৌঁছলে বা সিল ক্ষতিগ্রস্ত হলে কী নিয়মে পরীক্ষা হবে, সেই মানক পদ্ধতিও পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রকে আগে জানানো উচিত।

ওএমআর পদ্ধতি দ্রুত ও একরূপ মূল্যায়ন করতে পারে, কিন্তু ভুল বৃত্ত ভরাট, অসম্পূর্ণ মুছে নতুন উত্তর দেওয়া বা যন্ত্রে কালি না-পড়া পরীক্ষার্থীর ফলকে বড়ভাবে প্রভাবিত করে। প্রথমবারের পরীক্ষায় নমুনা পত্রে পর্যাপ্ত অনুশীলন এবং উত্তরপত্রে ভুল হলে পরীক্ষকের করণীয় স্পষ্ট থাকা দরকার। গ্রামীণ ও কম সম্পদযুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহপাঠীর তুলনায় পদ্ধতিগত অসুবিধায় পড়ছেন কি না, ফলের পরে তা বিশ্লেষণ করা উচিত।

কঠোর নিরাপত্তা প্রয়োজন, তবে শাস্তি আনুপাতিক হওয়া চাই। ব্যাগে ভুলে ফোন থাকা, ফোন ব্যবহার এবং প্রশ্ন পাচারের সংগঠিত চেষ্টা এক ঘটনা নয়। প্রত্যেক ক্ষেত্রে শুনানি ছাড়া সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করলে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন উঠবে। পরীক্ষার পরে নমুনাভিত্তিকভাবে ডাক-পথের সময়, প্যাকেটের সিলভাঙা এবং স্ক্যানের ত্রুটি প্রকাশ করলে নতুন ব্যবস্থার উপর আস্থা বাড়বে। কোনও কেন্দ্রের অস্বাভাবিক ফল দেখা গেলে যন্ত্রের পাঠ ও মূল উত্তরপত্র মিলিয়ে দেখাও জরুরি। নতুন পদ্ধতির সাফল্য শুধু উত্তর দ্রুত গণনায় নয়—ভুলের আপিল, প্যাকেটের অনুসরণযোগ্যতা এবং ফল প্রকাশের পরে পরীক্ষার্থীর নিজের ওএমআর দেখার অধিকারেও নির্ধারিত হবে।