দশ ফোন, হাজার ভিড়

যা জানা জরুরি
- অমৃতসরের ব্যবসায়ী ও সমাজমাধ্যম-ব্যক্তিত্ব রাকেশ ত্রেহান, অনলাইনে যিনি ‘রাজা ডি কিং’ নামে পরিচিত, ২২ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ে ‘আইফোন লঙ্গর’ বসানোর ঘোষণা করেছিলেন।
- পরিকল্পনা ছিল, প্রথম পর্যায়ে এক হাজার মানুষকে জড়ো করে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে দশটি আইফোন বিলি করা হবে।
- কিন্তু বিনামূল্যের ফোনের টানে কত বড় ভিড় হতে পারে, সেই সম্ভাবনা দেখেই শনিবার অনুষ্ঠান আটকে দিয়েছে চণ্ডীগড় প্রশাসন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অমৃতসরের ব্যবসায়ী ও সমাজমাধ্যম-ব্যক্তিত্ব রাকেশ ত্রেহান, অনলাইনে যিনি ‘রাজা ডি কিং’ নামে পরিচিত, ২২ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ে ‘আইফোন লঙ্গর’ বসানোর ঘোষণা করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, প্রথম পর্যায়ে এক হাজার মানুষকে জড়ো করে প্রকাশ্যে লটারির মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে দশটি আইফোন বিলি করা হবে। কিন্তু বিনামূল্যের ফোনের টানে কত বড় ভিড় হতে পারে, সেই সম্ভাবনা দেখেই শনিবার অনুষ্ঠান আটকে দিয়েছে চণ্ডীগড় প্রশাসন।
ডেপুটি কমিশনার নিশান্ত যাদব পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া এমন জমায়েত করতে দেওয়া যাবে না। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় জারি নির্দেশে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ফোন বিলির আগে যে জিনিসটির সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল—নিরাপদ আয়োজনের পরিকল্পনা—সেটিই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ত্রেহানের ঘোষণায় ছিল একাধিক শর্ত। অংশগ্রহণকারীদের চণ্ডীগড় বা মোহালির বাসিন্দা হতে হবে, নির্বাচন হবে প্রকাশ্যে এবং যোগ্যতা জানানোর সময় ‘জয় মাতা দি’ বলতে হবে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দান, বিজ্ঞাপন, ধর্মীয় উচ্চারণ আর দামি বৈদ্যুতিন পণ্য—চার ভিন্ন জগতকে এক মঞ্চে আনার পরিকল্পনা ছিল এই ‘লঙ্গর’-এর।
পেট্রল গেল, আইফোন এল
এর আগে ত্রেহান ‘পেট্রল লঙ্গর’-এর ঘোষণা করেছিলেন। বিনামূল্যে জ্বালানি পাওয়ার আশায় মানুষ জড়ো হলেও বৃষ্টি এবং অব্যবস্থার কারণে অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যায়। অনেকে খালি হাতেই ফিরে যান। তার পরেই সামনে আসে আইফোন বিলির প্রতিশ্রুতি।
অর্থাৎ প্রথম লঙ্গরের প্রসাদ মেলেনি, কিন্তু দ্বিতীয় লঙ্গরের প্রচার ঠিকই চলেছে।
লঙ্গর, না পুরস্কারের মঞ্চ?
‘লঙ্গর’ শিখ ধর্মের এমন এক ঐতিহ্য, যেখানে সকলকে সমান ভাবে বিনামূল্যে খাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে এক হাজার মানুষের মধ্যে লটারিতে মাত্র দশজনকে দামি ফোন দেওয়ার আয়োজনকে সেই নামেই ডাকায় আপত্তিও উঠেছে।
নামের চমক অবশ্য সমাজমাধ্যমে নজর কাড়তে সাহায্য করেছে। কিন্তু ধারণার দিক থেকে এটি লঙ্গরের চেয়ে পুরস্কার-বিতরণ বা প্রচারমূলক আয়োজনের সঙ্গেই বেশি মেলে। এখানে সমতার জায়গায় রয়েছে নির্বাচনের ভাগ্য।
দশ ফোনের আগে হাজার মানুষের প্রশ্ন
কতগুলি আইফোন সত্যিই কেনা হয়েছিল, আয়োজকের কাছে ভিড় সামলানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না কিংবা অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে আসেনি। প্রশাসন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিশ্রুত ফোনগুলির ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চিত।
ঘটনাটির সবচেয়ে অদ্ভুত দিক অবশ্য সাধারণ মানুষের ফোন পাওয়ার আশা নয়। বিনামূল্যের একটি দামি পণ্যের ঘোষণা যে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে, তখন ভিড় নিজেই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উপাদান হয়ে যায়। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়া সহজ; কিন্তু সেই পোস্ট দেখে হাজার মানুষ হাজির হলে তাঁদের ঢোকা-বেরোনোর পথ, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতির ব্যবস্থা করা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পর এখন প্রশ্ন, ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে ছোট পরিসরে এমন বিতরণ করা যাবে কি না। সে বিষয়ে স্পষ্ট লিখিত নির্দেশ থাকলে আয়োজক এবং সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী—দু’পক্ষেরই সুবিধা হবে।
কারণ অনলাইনের যুগে ‘বিনামূল্যে’ শব্দটাই অনেক সময় সবচেয়ে বড় জমায়েতের ডাক।
তাই আইফোনের লঙ্গর বসানোর আগে আরও কয়েকটি লঙ্গর জরুরি—অনুমতির লঙ্গর, নিরাপত্তার লঙ্গর এবং প্রতিশ্রুতির প্রমাণের লঙ্গর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



