বুদাপেস্টে নতুন স্প্রিন্ট তারকা, এক লাফে বাড়ল পুরস্কারমূল্য

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: তিন দিনের উদ্বোধনী বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ ও ২০০ মিটার—দুই দৌড় জিতে তিন লক্ষ ডলার করে পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেলিসা জেফারসন-উডেন ও…
- ১৩ সেপ্টেম্বর বুদাপেস্টে শেষ হওয়া প্রতিযোগিতাটি ফলের পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সকে কীভাবে উপস্থাপন ও অর্থায়ন করা যায়, তার পরীক্ষাও ছিল।
- ২৫ বছরের জেফারসন-উডেন মেয়েদের ২০০ মিটার শেষ করেন ২১.৪৭ সেকেন্ডে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: তিন দিনের উদ্বোধনী বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ ও ২০০ মিটার—দুই দৌড় জিতে তিন লক্ষ ডলার করে পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেলিসা জেফারসন-উডেন ও কেনি বেডনারেক। ১৩ সেপ্টেম্বর বুদাপেস্টে শেষ হওয়া প্রতিযোগিতাটি ফলের পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্সকে কীভাবে উপস্থাপন ও অর্থায়ন করা যায়, তার পরীক্ষাও ছিল।
২৫ বছরের জেফারসন-উডেন মেয়েদের ২০০ মিটার শেষ করেন ২১.৪৭ সেকেন্ডে। এটি ইতিহাসের তৃতীয় দ্রুততম সময়। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন গ্যাবি টমাস ২১.৭৭ সেকেন্ডে দ্বিতীয় হন। আগের দিন ১০০ মিটারও জেতায় জেফারসন-উডেন শুধু দ্বিমুকুট পাননি; বিশ্ব স্প্রিন্টের নতুন কেন্দ্রীয় মুখ হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন।
তিন বছর আগে একই বুদাপেস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের রিলে দলের সদস্য ছিলেন। এবার ব্যক্তিগত দুটি শিরোপা তাঁর উন্নতির মাপ দেখায়। তবে এক প্রতিযোগিতার দ্রুত সময়কে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা বলা যাবে না; বাতাস, মরসুমের পর্যায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রস্তুতি ভিন্ন হলে ফলও বদলায়।
পুরুষদের ২০০ মিটারে বেডনারেক ১৯.৫২ সেকেন্ডে জেতেন। বাঁক পেরিয়েই তিনি বতসোয়ানার অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন লেটসিলে তেবোগোর উপর ব্যবধান তৈরি করেন। আগের দিনের ১০০ মিটার ছিল বেডনারেকের প্রথম ব্যক্তিগত বৈশ্বিক শিরোপা। ২০০ মিটারে দু’বারের অলিম্পিক রুপোজয়ীর জন্য পরপর দুটি জয় দীর্ঘদিনের ‘প্রায় চ্যাম্পিয়ন’ পরিচয় বদলেছে।
জেফারসন-উডেন ও বেডনারেক মধ্য ফ্লোরিডায় একই প্রশিক্ষণ পরিবেশে কয়েক বছর কাজ করেছেন। তাঁদের দ্বিমুকুট তাই একই দলের দৈনন্দিন অনুশীলন, শক্তি তৈরি এবং দৌড়ের কৌশল উন্নয়নের যৌথ ফলও। তারকাদের শেষ দশ সেকেন্ড দেখা যায়; সেই সময় তৈরির বহু বছরের পুনরাবৃত্ত শ্রম সচরাচর দৃশ্যমান হয় না।
প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারভাণ্ডার ছিল এক কোটি ডলার। প্রতিটি ইভেন্টের বিজয়ী পেয়েছেন দেড় লক্ষ, দ্বিতীয় ৭৫ হাজার এবং তৃতীয় ৪০ হাজার ডলার। প্রচলিত অনেক অ্যাথলেটিক্স আসরের তুলনায় এই অঙ্ক বড়। দৌড়বিদদের আয় সাধারণত জুতো-চুক্তি, উপস্থিতি-ভাতা, জাতীয় সহায়তা ও পুরস্কারের মিশ্রণ; চোট বা খারাপ মরসুমে তার বড় অংশ অনিশ্চিত।
প্রতি সন্ধ্যায় ২০ হাজারের কিছু বেশি দর্শকে মাঠ পূর্ণ ছিল। তিন দিনের সংক্ষিপ্ত বিন্যাস, অবিরাম গান, আলো ও দ্রুত ইভেন্ট বদল টেলিভিশনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ইতালির জিয়ানমার্কো তামবেরি ২.৩৭ মিটার লাফিয়ে উচ্চলম্ফ জেতেন; মন্ডো ডুপ্লান্টিস শেষ রাতে প্রতিযোগিতার মূল গান পরিবেশন করেন, সঙ্গে ছিল আতশবাজি।
বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সভাপতি সেবাস্টিয়ান কো জানিয়েছেন, আসরটি দুই বছর অন্তর হবে এবং সফল উপাদান ভবিষ্যৎ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ বা অলিম্পিকে নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ বুদাপেস্টের অনুষ্ঠানটি স্থির ছক নয়; দর্শক, সম্প্রচার ও ক্রীড়াবিদের প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের পরীক্ষাগার।
বিশ্লেষণ: বড় পুরস্কার অ্যাথলেটিক্সে প্রয়োজনীয়, কারণ বিশ্বের দ্রুততম মানুষদের অনেকেই আর্থিক নিরাপত্তায় টেনিস বা গলফ তারকার কাছাকাছি নন। তবে কেবল বিজয়ীর অঙ্ক বাড়ালে মাঝারি র্যাঙ্কিংয়ের ক্রীড়াবিদের চিকিৎসা, যাতায়াত ও প্রশিক্ষণের অনিশ্চয়তা দূর হবে না।
গান ও আতশবাজি নতুন দর্শক টানতে পারে, কিন্তু সম্প্রচার যেন একই সময়ে চলা ইভেন্ট ঢেকে না-দেয় এবং ক্রীড়াবিদের প্রস্তুতিতে হস্তক্ষেপ না-করে। বুদাপেস্টের সফলতা শুধু ২১.৪৭ সেকেন্ডে নয়—এই আয়োজনে দর্শক আবার ফিরবেন কি না এবং পুরস্কারের অর্থ আরও বিস্তৃত স্তরে পৌঁছবে কি না, সেখানেও।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



