খবর

৫নিয়মে ভুল, কিন্তু শিশুকে কেড়ে নেওয়া নয়: তিন বছরের সন্তানকে ফিরিয়ে দিল হাই কোর্ট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন: দত্তক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া যথাযথ না-হলেও একটি তিন বছরের শিশুকে পরিচিত পরিবার থেকে সরিয়ে শিশু কল্যাণ কমিটির হেফাজতে রাখা বৈধ হয়নি বলে জানিয়েছে…
  • বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ১৭ সেপ্টেম্বরের আদেশে শিশুটিকে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার মধ্যে তার দত্তকগ্রহণকারী বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেছেন।
  • সময়ের আগে জন্ম হওয়ায় তাকে বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা বিভাগে রাখা হয়েছিল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন: দত্তক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া যথাযথ না-হলেও একটি তিন বছরের শিশুকে পরিচিত পরিবার থেকে সরিয়ে শিশু কল্যাণ কমিটির হেফাজতে রাখা বৈধ হয়নি বলে জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ১৭ সেপ্টেম্বরের আদেশে শিশুটিকে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার মধ্যে তার দত্তকগ্রহণকারী বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলেছেন।

শিশুটির জন্ম ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সময়ের আগে জন্ম হওয়ায় তাকে বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা বিভাগে রাখা হয়েছিল। ২১ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময়ে জৈবিক বাবা-মা নিজেদের পক্ষে পরিচর্যা সম্ভব নয় জানিয়ে শিশুটিকে বর্তমান পরিবারের হাতে দেন। ৩ এপ্রিল দুই পরিবারের সম্মতিতে একটি নোটারি-করা দত্তক দলিল তৈরি হয়।

এরপর প্রায় তিন বছর শিশুটি একই পরিবারের কাছে বড় হয়েছে। স্কুলে ভর্তির জন্য জন্মসনদ প্রয়োজন হওয়ায় পরিবার হাসপাতালের কাছে গেলে তাঁদের শিশু কল্যাণ কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁরা কমিটিকে সমস্ত তথ্য জানান। তখনই কমিটি শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং তারপর থেকে সে পরিবারের বাইরে ছিল।

রাজ্যের যুক্তি ছিল, কিশোর ন্যায় আইন ও দত্তকবিধি অনুসারে স্বীকৃত বিশেষায়িত সংস্থার মাধ্যমে দত্তক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। ব্যক্তিগত সমঝোতা বা শুধু নোটারি-করা দলিলের স্বয়ংক্রিয় আইনগত স্বীকৃতি নেই। হাই কোর্টও মেনেছে, দলিলটি একা দত্তক বাবা-মাকে সম্পূর্ণ আইনগত অধিকার দেয় না।

তবে আদালত একই সঙ্গে বলেছে, শিশু কল্যাণ কমিটির ক্ষমতারও সীমা আছে। শিশুটি অনাথ নয়, পরিত্যক্ত নয় এবং এমন কোনও প্রমাণ নেই যে সে নির্যাতন, অবহেলা, পাচার বা মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। জৈবিক বাবা-মা জন্মের পরেই তাকে পরিচিত দম্পতির হাতে দিয়েছিলেন। ফলে তাকে ‘যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন থাকা শিশু’ হিসেবে ধরে হঠাৎ তুলে নেওয়া আইনসম্মত হয়নি।

দত্তক বাবা-মায়ের আইনজীবী বলেন, পরিবারটি নিয়ম ঠিক করতে নিজেই প্রশাসনের কাছে গিয়েছিল। সাহায্য বা পথনির্দেশের বদলে শিশুকে কেড়ে নেওয়া হয়। প্রক্রিয়াগত অনিয়ম এবং শিশুর নিরাপত্তাহীনতা এক বিষয় নয়—এই পার্থক্য আদালতের সিদ্ধান্তের কেন্দ্র।

শিশুকে ফেরালেও আদালত নজরদারি তুলে দেয়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সদস্যসচিবকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রতি তিন মাসে শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নতির প্রতিবেদন নিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান হেফাজত শিশুর মঙ্গলের স্বার্থে, চূড়ান্ত দত্তক-নথির বিকল্প হিসেবে নয়।

বিশ্লেষণ: ব্যক্তিগত দত্তকের ভুল প্রক্রিয়া শিশু পাচার ও জবরদস্তি আড়াল করতে পারে; তাই আইন মেনে জৈবিক বাবা-মায়ের সম্মতি, পরিচয় ও শিশুর স্বার্থ যাচাই জরুরি। কিন্তু নিয়মভঙ্গের প্রতিকার হিসেবে শিশুকে দীর্ঘদিন পরিচিত যত্নদাতা থেকে বিচ্ছিন্ন করাও মানসিক ক্ষতি করতে পারে।

প্রশাসনের উচিত এমন পরিবারকে শাস্তির লক্ষ্য না-বানিয়ে দ্রুত আইনি নিয়ম সম্পূর্ণ করার পথ দেওয়া। এই রায় সব অনানুষ্ঠানিক দত্তককে বৈধ করে না। বরং বলছে, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ যাচাই না-করে আমলাতান্ত্রিক নিরাপত্তার নামে তাকে প্রতিষ্ঠানিক হেফাজতে পাঠানোও আইন নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles