নিমকির প্যাকেটে পাখির পালক, গোলপার্কের ১৪ দোকানে পুরসভার খাদ্য-তল্লাশি

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: দুর্গাপুজোর আগে খাদ্যনিরাপত্তা পরীক্ষায় দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকার ১৪টির বেশি খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
- একটি পরিচিত মিষ্টির দোকান ও তার উৎপাদনকেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অনির্দিষ্ট সময় ধরে রাখা খাবার এবং কাঁচামালের উৎস-সংক্রান্ত নথির ঘাটতি পাওয়া গেছে বলে পুরসভার আধিকারিকেরা…
- সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা নিমকির একটি প্যাকেটের মধ্যে পাখির পালক পাওয়া।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: দুর্গাপুজোর আগে খাদ্যনিরাপত্তা পরীক্ষায় দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকার ১৪টির বেশি খাবারের দোকান ও রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালিয়েছে কলকাতা পুরসভা। একটি পরিচিত মিষ্টির দোকান ও তার উৎপাদনকেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অনির্দিষ্ট সময় ধরে রাখা খাবার এবং কাঁচামালের উৎস-সংক্রান্ত নথির ঘাটতি পাওয়া গেছে বলে পুরসভার আধিকারিকেরা জানিয়েছেন।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা নিমকির একটি প্যাকেটের মধ্যে পাখির পালক পাওয়া। এটি পুরসভার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ; পরীক্ষাগারের চূড়ান্ত প্রতিবেদন নয়। পালকটি উৎপাদনের সময়ে ঢুকেছে, না প্যাকেট সংরক্ষণের সময়—তা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একটি প্যাকেটের ঘটনা থেকে দোকানের সব খাদ্যদ্রব্য দূষিত বলে সিদ্ধান্ত নেওয়াও ঠিক নয়।
তল্লাশিতে কয়েকটি দোকান কাঁচামাল কেনার রসিদ দেখাতে পারেনি। রসিদ না-থাকলে তেল, দুধ, মশলা বা অন্য উপকরণ কোথা থেকে এসেছে এবং সমস্যা ধরা পড়লে কোন সরবরাহকারী পর্যন্ত অনুসন্ধান করতে হবে, তা বোঝা কঠিন। রেফ্রিজারেটরে রাখা বহু প্যাকেটে প্রস্তুতির বা সংরক্ষণের তারিখও ছিল না।
তারিখের চিহ্ন শুধু আমলাতান্ত্রিক নিয়ম নয়। একই ধরনের মিষ্টি বা রান্না-করা খাবার পাশাপাশি থাকলে কোনটি আগে ব্যবহার করতে হবে, কত দিন নিরাপদ এবং কখন ফেলে দিতে হবে—তারিখ ছাড়া কর্মীরাও নিশ্চিত হতে পারেন না। বিশেষত দুধ, ছানা, মাংস বা রান্না-করা পুর দ্রুত জীবাণু জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
সংরক্ষণবিধি না-মানা কিছু খাবার ঘটনাস্থলেই নষ্ট করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। নমুনায় ভেজাল, রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু বা অনুমোদনের বাইরে রাসায়নিক পাওয়া গেলে খাদ্য সুরক্ষা আইনে নোটিস, জরিমানা অথবা উৎপাদনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধের ব্যবস্থা হতে পারে। পরীক্ষার আগে কোনও প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না।
রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা কমিশনার ১৬ সেপ্টেম্বর পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের এলাকাভিত্তিক নিয়মিত অভিযান চালাতে বলেন। শুধু বড় রাস্তার নামী প্রতিষ্ঠান নয়, অলিগলির ছোট দোকানও পরীক্ষার আওতায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। নামী দোকানের ব্র্যান্ড বা দীর্ঘ ইতিহাস খাদ্যনিরাপত্তা পরীক্ষার বিকল্প নয়।
১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বরের আগের অভিযানে শহরের ৫৯২টি দোকান ও প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা হয়েছিল। ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ এবং বিধি না-মানায় ১,২২৪ কিলোগ্রাম খাদ্য নষ্ট করা হয়। কিন্তু কত নমুনা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং কত ক্ষেত্রে মামলা বা সংশোধন হয়েছে—সেই পরবর্তী তথ্যও প্রকাশ প্রয়োজন।
বিশ্লেষণ: উৎসবের আগে হানা সংবাদ তৈরি করে, কিন্তু খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষা হয় সারা বছরের ধারাবাহিক পরিদর্শনে। পরীক্ষাগারে ফল আসার পরে দোকানের নাম, নমুনার প্রকৃতি, ব্যর্থতার কারণ ও নেওয়া ব্যবস্থা প্রকাশ না-হলে ক্রেতা শুধু ভয় পান; যাচাইযোগ্য তথ্য পান না।
ক্ষুদ্র দোকানকে শুধু জরিমানা করলে সমস্যার মূলে পৌঁছনো যাবে না। নিরাপদ তাপমাত্রা, আলাদা কাঁচা ও রান্না-করা খাবার, পোকা-পাখি নিয়ন্ত্রণ এবং সহজ তারিখ-চিহ্ন ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুনরাবৃত্ত অপরাধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পুজোর ভিড়ে বিক্রি বাড়ে; তাই লাভের সঙ্গে খাদ্যের উৎস ও নিরাপত্তার দায়িত্বও বাড়ে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



