গল্প কলোরাডোর, শুটিং আলবার্টায়: কানাডার চলচ্চিত্র-সাফল্যের অসম অঙ্ক

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: ব্রিটিশ পরিচালক অ্যান্ড্রু হেইয়ের নতুন ছবি ‘আ লং উইন্টার’-এর কাহিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোয়, কিন্তু শুটিং হয়েছে কানাডার আলবার্টায়।
- টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি দেখানোর পরে ১৭ সেপ্টেম্বর হেই বলেন, উপযুক্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য, দক্ষ কর্মী, উৎপাদন-পরিকাঠামো এবং কর-সুবিধার সমন্বয়ে কানাডা বিশ্ব চলচ্চিত্র নির্মাণের…
- ‘উইকএন্ড’, ‘ফর্টি ফাইভ ইয়ার্স’ ও ‘অল অব আস স্ট্রেঞ্জার্স’-এর পরিচালক হেই প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা পরীক্ষা করেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: ব্রিটিশ পরিচালক অ্যান্ড্রু হেইয়ের নতুন ছবি ‘আ লং উইন্টার’-এর কাহিনি যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোয়, কিন্তু শুটিং হয়েছে কানাডার আলবার্টায়। টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি দেখানোর পরে ১৭ সেপ্টেম্বর হেই বলেন, উপযুক্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য, দক্ষ কর্মী, উৎপাদন-পরিকাঠামো এবং কর-সুবিধার সমন্বয়ে কানাডা বিশ্ব চলচ্চিত্র নির্মাণের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
‘উইকএন্ড’, ‘ফর্টি ফাইভ ইয়ার্স’ ও ‘অল অব আস স্ট্রেঞ্জার্স’-এর পরিচালক হেই প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা পরীক্ষা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলবার্টা দৃশ্যের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাজেটও নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। চলচ্চিত্রে যে জায়গাকে দর্শক কলোরাডো হিসেবে দেখবেন, সেটি বাস্তবে অন্য দেশের পাহাড়, রাস্তা ও শীতকালীন ভূদৃশ্য।
এই স্থানবদল নতুন নয়। কানাডার শহর, বন ও পাহাড় বহু দশক ধরে মার্কিন কাহিনির বিকল্প দৃশ্যপট। টরন্টো নিউ ইয়র্কের, ভ্যানকুভার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এবং আলবার্টা পশ্চিম আমেরিকার বিকল্প হয়ে ওঠে। মুদ্রার বিনিময় হার, প্রাদেশিক করছাড় এবং অভিজ্ঞ কারিগরি দল আন্তর্জাতিক প্রযোজকদের আকর্ষণ করে।
তবে হেই একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, বিদেশি প্রযোজনা টেনে আনা এবং নিজস্ব চলচ্চিত্র-সংস্কৃতি গড়ে তোলা এক নয়। বড় বিদেশি ছবিতে কানাডীয় আলোকশিল্পী, নির্মাণকর্মী, পোশাকশিল্পী ও প্রযুক্তিবিদ কাজ পেলেও স্থানীয় পরিচালক ও লেখকের প্রকল্প অর্থ না-পেলে দেশটি শুধু সস্তা ও দক্ষ উৎপাদনস্থল হয়ে থাকতে পারে।
কানাডা মিডিয়া ফান্ডসহ সরকারি ও যৌথ প্রতিষ্ঠান স্থানীয় টেলিভিশন, ডিজিটাল কাজ ও চলচ্চিত্রে অর্থ দেয়। কানাডায় তৈরি ‘হিটেড রাইভালরি’র মতো অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক দর্শক পেয়েছে। কিন্তু জটিল, মাঝারি বাজেটের নাট্যচিত্রের অর্থ জোগাড় এখনও কঠিন—বিশেষত যেখানে সুপারহিরো, পরিচিত মেধাস্বত্ব বা নিশ্চিত ধারাবাহিকের সুবিধা নেই।
‘আ লং উইন্টার’ আবেগনির্ভর কাহিনি; হেই বলেছেন, এই ধরনের চলচ্চিত্র বাজারে অর্থ সংগ্রহের সহজ প্রস্তাব নয়। সম্প্রচার ও অনলাইন মঞ্চগুলি বেশি পরিচিত নাম, দ্রুত বোঝানো যায় এমন কাহিনি এবং আন্তর্জাতিক বিক্রির নিশ্চয়তা চাইতে পারে। ফলে দক্ষতা ও স্থান থাকা সত্ত্বেও কানাডীয় স্বাধীন নির্মাতার প্রকল্প উন্নয়নেই আটকে যেতে পারে।
করছাড় নিয়ে স্থানীয় বিতর্কও জরুরি। প্রযোজনা এলে হোটেল, পরিবহণ, খাবার, ভাড়া ও কর্মসংস্থানে অর্থ ঢোকে। কিন্তু ছাড়ের প্রকৃত সরকারি খরচ, কত কাজ স্থায়ী এবং প্রযোজনা শেষ হওয়ার পরে কত দক্ষতা স্থানীয় শিল্পে থাকে—এসব হিসাব ছাড়া সাফল্য মাপা অসম্পূর্ণ। প্রতিবেশী অঞ্চল বেশি সুবিধা দিলে প্রযোজনা সহজেই সরে যেতে পারে।
বিশ্লেষণ: কানাডার সামনে দ্বৈত সুযোগ: আন্তর্জাতিক কাজের নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হওয়া এবং নিজস্ব গল্পের মালিক হওয়া। প্রথমটির পরিকাঠামো দ্বিতীয়টিকে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে করবে না। বিদেশি শুটিংয়ের রাজস্বের একটি অংশ স্থানীয় চিত্রনাট্য উন্নয়ন, প্রথম চলচ্চিত্র ও স্বতন্ত্র পরিবেশনায় ফিরিয়ে দেওয়ার নীতি প্রয়োজন।
কোনও ছবির কাহিনি এক দেশে এবং উৎপাদন অন্য দেশে হওয়া প্রতারণা নয়; চলচ্চিত্রের স্বাভাবিক নির্মাণপদ্ধতি। প্রশ্ন হল, পর্দায় অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কানাডীয় শ্রম ও সরকারি সহায়তা শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি তৈরি করছে কি না। বিশ্বকেন্দ্র হওয়ার মানে কেবল অন্যের কলোরাডো সাজা নয়—নিজের আলবার্টার গল্পকেও বিশ্বে পৌঁছতে দেওয়া।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



