স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, ২০২৭-এর পাঠ্যক্রমে শ্যামাপ্রসাদ

যা জানা জরুরি
- ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, অবদান ও উত্তরাধিকার।
- উচ্চশিক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রস্তুতি শুরু করতে বলেছে।
- পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশও রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, অবদান ও উত্তরাধিকার। উচ্চশিক্ষা দফতর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রস্তুতি শুরু করতে বলেছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশও রয়েছে।
১৫ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে প্রতিষ্ঠানগুলির প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধকদের কাছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের একটি স্মারকলিপি পাঠিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ ও তার বিবরণ চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ। শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপনের পরিকল্পনার সঙ্গে বিষয়টি যুক্ত।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষে উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে বিষয়টি যুক্ত হবে। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থী প্রভাবের কারণে তরুণ প্রজন্ম শ্যামাপ্রসাদের অবদান সম্পর্কে যথেষ্ট জানতে পারেনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাঁর কাজ এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন মন্ত্রী। বাংলার অন্য মনীষীদের মতো তাঁকে নিয়েও পাঠ্যবইয়ে অধ্যায় রাখার পক্ষে তিনি।
শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবেন পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য ও শিক্ষাবিদেরা। সরকারি নির্দেশে অরিন্দম মুখোপাধ্যায় ও অধ্যাপক অরিন্দম ভট্টাচার্যের পরামর্শ নেওয়ার কথা রয়েছে। পাঠের কাঠামো তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের মতামতও চাওয়া হয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পরবর্তী ধাপ হল, শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের উপযোগী বিষয়বস্তু নির্বাচন। ওই স্মারকলিপিটি ৯ সেপ্টেম্বরের। পাঠদানের উপযুক্ত কাঠামো তৈরিতে অমলেশ মিশ্র ও রাজকমল পাঠকের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষাবিদেরা অনুষ্ঠানগুলিতে যুক্ত থাকবেন।
সমান্তরালে জাতীয় গ্রন্থাগারকে শ্যামাপ্রসাদ সম্পর্কিত বই, নথি ও ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। গবেষক ও পড়ুয়াদের জন্য তৈরি হবে তথ্যভান্ডার। সংসদীয় নথিতে থাকা তাঁর বক্তৃতা ও বিতর্কের বিবরণ সংগ্রহের জন্যও নিয়ম মেনে অনুমতি চাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া ও মায়ানমারের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর নামাঙ্কিত অধ্যাপকপদ গড়তে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে আবক্ষ মূর্তি বা অন্য স্মারক স্থাপনের প্রস্তাবও আছে। এগুলি অবশ্য এখনও প্রস্তাব; প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছে, এমন ঘোষণা নয়।
পাঠ্যক্রম কমিটির সভাপতি দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেছেন, বিষয়টি শিক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষাক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা এবং রবীন্দ্রনাথকে বাংলায় সমাবর্তন ভাষণ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন তিনি। যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধানশিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্যও নতুন প্রজন্মকে তাঁর অবদান জানানোর পক্ষে। টাকি বয়েজ স্কুলের প্রধানশিক্ষিকা স্বাগতা বসাকের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ গঠনে যাঁদের অবদান যথেষ্ট আলোচিত হয়নি, তাঁদের সম্পর্কে পড়ুয়াদের জানা দরকার। শুধু শ্যামাপ্রসাদ নন, ইতিহাসে যথাযথ জায়গা না পাওয়া অন্য ব্যক্তিত্বদেরও পাঠ্যক্রমে রাখার পক্ষে তিনি। সমর্থকদের যুক্তিতে তাই উঠে আসছে বিস্মৃত অবদানকে সামনে আনার প্রয়োজনীয়তা। তবে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা আপত্তি জানিয়েছেন। শ্যামাপ্রসাদ ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে রয়েছে রাজ্যের পাঠ্যক্রম পরিমার্জনের বৃহত্তর পরিকল্পনা। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল ২৪ জুলাই। অগস্টে কমিটির প্রথম বৈঠকে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছিলেন, সময়ের সীমাবদ্ধতায় ২০২৭ সালে পরিবর্তনের সুযোগ কম; বিস্তৃত বদল আনার লক্ষ্য ২০২৮। শ্যামাপ্রসাদের শিক্ষাবিষয়ক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারকেশ্বরের সভা ও কাশ্মীরযাত্রার প্রসঙ্গ রাখার কথাও আগে আলোচনায় এসেছিল। পাশাপাশি সিঙ্গুর আন্দোলনের পাঠ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে চর্চা হয়েছে।
আগের আলোচনায় পাঠ্যক্রম কমিটির এক সদস্য জানিয়েছিলেন, ইতিহাসে নতুন বিষয় যুক্ত করতে প্রামাণ্য নথি প্রয়োজন হবে। স্কুলশিক্ষামন্ত্রীও কমিটির স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা বলেছিলেন। অতএব, সরকারি নির্দেশে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হলেও কোন শ্রেণিতে কতটা পড়ানো হবে, তার বিস্তারিত রূপ নির্ভর করছে শিক্ষাবিদদের সুপারিশ ও চূড়ান্ত পাঠ্যসূচির উপর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



