উত্তরপ্রদেশে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের আরও চাকরিতে ২০ শতাংশ অনুভূমিক সংরক্ষণ

যা জানা জরুরি
- চার বছরের সামরিক মেয়াদ শেষ করা অগ্নিবীরদের জন্য উত্তরপ্রদেশের আরও দুটি সরকারি নিয়োগে ২০ শতাংশ অনুভূমিক সংরক্ষণ অনুমোদন করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
- ১৫ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কারারক্ষী এবং পরিবহণ দপ্তরের প্রয়োগকারী কনস্টেবল পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- সর্বোচ্চ বয়সসীমায় তিন বছরের বিশেষ ছাড়ও থাকবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
চার বছরের সামরিক মেয়াদ শেষ করা অগ্নিবীরদের জন্য উত্তরপ্রদেশের আরও দুটি সরকারি নিয়োগে ২০ শতাংশ অনুভূমিক সংরক্ষণ অনুমোদন করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ১৫ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কারারক্ষী এবং পরিবহণ দপ্তরের প্রয়োগকারী কনস্টেবল পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বোচ্চ বয়সসীমায় তিন বছরের বিশেষ ছাড়ও থাকবে।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশকুমার খন্না জানিয়েছেন, বয়স গণনার সময় প্রার্থীর চার বছরের অগ্নিবীর-পরিষেবাও বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ সামরিক মেয়াদের জন্য সাধারণ নিয়োগের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে। তবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, মোট শূন্যপদ এবং প্রথম দফার প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য বাস্তবে কত আসন পাওয়া যাবে, তা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট হবে।
‘অনুভূমিক’ সংরক্ষণ মানে তফসিলি জাতি, তফসিলি জনজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা সাধারণ—প্রতিটি সামাজিক শ্রেণির মধ্যেই প্রাক্তন অগ্নিবীরদের নির্দিষ্ট অংশ রাখা। এটি সম্পূর্ণ পৃথক ২০ শতাংশ আসন যোগ করা নয়। যোগ্য প্রার্থী না-মিললে খালি আসন কীভাবে পূরণ হবে এবং একজন প্রার্থী একাধিক সংরক্ষণের সুবিধা পেলে গণনা কীভাবে হবে, নিয়োগবিধিতে তা পরিষ্কার থাকা দরকার।
উত্তরপ্রদেশ ২০২৫ সালেই পুলিশ কনস্টেবল, প্রাদেশিক সশস্ত্র বাহিনী, অশ্বারোহী পুলিশ ও দমকলের কয়েকটি পদে প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য ২০ শতাংশ সুবিধা ঘোষণা করেছিল। নতুন সিদ্ধান্ত সেই পরিসর কারা ও পরিবহণ প্রশাসনে বাড়াচ্ছে। হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশসহ আরও কয়েকটি রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষণ বা বয়সের ছাড় ঘোষণা করেছে।
অগ্নিপথ ব্যবস্থায় অধিকাংশ নিয়োগপ্রাপ্ত চার বছর পরে সেনাবাহিনী থেকে বেরিয়ে যাবেন; সর্বাধিক ২৫ শতাংশকে নিয়মিত বাহিনীতে রাখা যেতে পারে। তাই প্রথম থেকেই প্রধান প্রশ্ন ছিল, বাকি তরুণদের স্থায়ী কর্মজীবন কী হবে। প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও শারীরিক সক্ষমতা পুলিশ বা কারারক্ষীর কাজে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সামরিক প্রশিক্ষণ নিজে বেসামরিক প্রশাসনের পূর্ণ দক্ষতার বিকল্প নয়।
নির্বাচনী সময়ও সিদ্ধান্তটির রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশে পরের বছর বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। অগ্নিপথ চালুর সময় চাকরির স্থায়িত্ব নিয়ে তরুণদের প্রতিবাদ হয়েছিল। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্তটিকে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের মর্যাদা ও পুনর্বাসন হিসেবে তুলে ধরছে; বিরোধীরা প্রশ্ন করতে পারে, ঘোষিত সুবিধা বাস্তবে কত নিয়োগে রূপ নেবে।
একই মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রাদেশিক রক্ষীদলের স্বেচ্ছাসেবকদের দৈনিক ভাতা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মাসে ৩০ দিন কাজ পেলে আয় তিন হাজার টাকা বাড়বে; সরকারের হিসাবে ২৭,৭৯৪ জন উপকৃত হবেন। তাঁদের পরিবারের জন্য নগদহীন চিকিৎসা সুবিধাও অনুমোদিত হয়েছে।
বিশ্লেষণ: সংরক্ষণ প্রাক্তন অগ্নিবীরদের একটি দরজা খুলছে, নিশ্চিত চাকরি দিচ্ছে না। শূন্যপদের সংখ্যা, নিয়মিত নিয়োগ এবং পরীক্ষায় উপযুক্ত প্রস্তুতি না-থাকলে ঘোষিত ২০ শতাংশ কাগজেই থেকে যেতে পারে। চার বছরের সামরিক মেয়াদে অর্জিত দক্ষতার স্বীকৃত সনদ, বেসামরিক প্রশিক্ষণ এবং নিয়োগের বার্ষিক তথ্য প্রকাশ প্রয়োজন। অগ্নিপথের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়ন হবে কতজন বাহিনীতে থেকে গেলেন দিয়ে নয়—বেরিয়ে যাওয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ কোথায় স্থায়ী জীবিকা পেলেন, তা দিয়ে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



