ভুবনডাঙা

সাত ছাত্রের বিদ্যালয়ে জলবায়ুর পাঠ: ছাই হয়ে যাওয়া বাগানই জিতল জাতীয় স্বীকৃতি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • উত্তর-পূর্ব ভিক্টোরিয়ার স্প্রিংহার্স্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ছাত্র সাত জন।
  • বছরের শুরুতে গ্রীষ্মের ছুটি শেষে তারা ফিরে দেখে, নজিরভাঙা তাপপ্রবাহে রান্নাঘর-বাগান প্রায় ছাই।
  • আট মাস পরে একই ছোট বিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় কিচেন গার্ডেন পুরস্কারে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত প্রয়োগের বিভাগে জয়ী হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

উত্তর-পূর্ব ভিক্টোরিয়ার স্প্রিংহার্স্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ছাত্র সাত জন। বছরের শুরুতে গ্রীষ্মের ছুটি শেষে তারা ফিরে দেখে, নজিরভাঙা তাপপ্রবাহে রান্নাঘর-বাগান প্রায় ছাই। আট মাস পরে একই ছোট বিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় কিচেন গার্ডেন পুরস্কারে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত প্রয়োগের বিভাগে জয়ী হয়েছে। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা এবং পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর। গল্পটির শক্তি পুরস্কারের চকচকে ফলকে নয়—কীভাবে সাত শিশু, শিক্ষক ও পরিবার ব্যর্থ একটি বাগানকে ভবিষ্যতের উষ্ণতার উপযোগী করে আবার নকশা করেছে, সেখানে।

পুরনো গাছের ডাল ফেলে না দিয়ে তারা বরবটির কাঠামো বানিয়েছে। মাটির নীচে জল ধরে ধীরে শিকড়ে পৌঁছে দেওয়া ‘উইকিং’ ব্যবস্থা বসিয়েছে, যাতে উপর থেকে বারবার জল দিলেও বাষ্পে নষ্ট না হয়। কোন গাছ কোথায় ছায়া দেবে, কত জল লাগবে, মাটি কত দ্রুত শুকোয়—এই প্রশ্নগুলি খাতার অঙ্ক বা আলাদা বিজ্ঞান-পরীক্ষা নয়; বাগান বাঁচানোর বাস্তব সমস্যা। ছোট ছাত্রসংখ্যায় প্রত্যেককে পরিমাপ, নির্মাণ, রোপণ ও রান্নার কাজে জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এই উদ্যোগ একা বিদ্যালয়ের নয়। অভিভাবকেরা বাগানে এসে শিশুদের ফসল রান্না শেখান, ছোট নির্মাণে হাত লাগান এবং ছুটিতে জল দেওয়ার দায়িত্ব নেন। ছাত্রেরা ল্যাভেন্ডারের মলম, ক্যালেন্ডুলার প্রলেপ ও কোয়ানডং ফলের জ্যাম বানিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেছে। তাতে উদ্ভিদবিদ্যার সঙ্গে ওজন, মূল্য, মোড়ক ও ক্রেতার কথাবার্তা জুড়েছে। বিদ্যালয় বাগানে সময়কে ভালো আচরণের পুরস্কার হিসেবেও ব্যবহার করে, যদিও প্রকৃতির কাছে যাওয়া শুধু বাধ্য ছাত্রের পুরস্কার না হয়ে সবার শিক্ষার অংশ হওয়াই ভালো।

স্টেফানি আলেকজান্ডার কিচেন গার্ডেন ফাউন্ডেশন ২০২৪ সালে পুরস্কারটি শুরু করে। এ বছর নয়টি বিভাগে প্রায় ৬৫০টি আবেদন থেকে ২৭টি চূড়ান্ত প্রতিযোগী বাছা হয়েছিল; চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আয়োজকেরা ছয়শোর বেশি আবেদনের কথা বলেছেন। স্প্রিংহার্স্ট পেয়েছে এক হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের অনুদান, শিক্ষাকর্মসূচির সদস্যপদ এবং বাগানের সরঞ্জাম। অঙ্কটি বড় অবকাঠামো বানানোর মতো নয়; বিদ্যালয় আরও জলধারণ ব্যবস্থা গড়ে পরের কঠিন গ্রীষ্মের প্রস্তুতি নেবে।

অন্য বিজয়ীরা গল্পটির পরিধি বাড়ায়। নিউ সাউথ ওয়েলসের আলডাভিলা বিদ্যালয় শামুকে নষ্ট হওয়া পালংশাকের বদলে স্থানীয় ওয়ারিগাল শাক লাগিয়ে তা পাস্তা, পিৎজা ও ডিপে ব্যবহার করেছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট মেরিজ কলেজ আদিবাসী খাদ্যজ্ঞানকে পাঠে যুক্ত করার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। কোথাও বাগান প্রজন্মের যোগাযোগ, কোথাও ছাত্রের মানসিক সুস্থতা, কোথাও খাদ্যের নতুন স্বাদ চেখে দেখার মাধ্যম। ‘একটি আদর্শ বাগান’ চাপানোর বদলে স্থানীয় জলবায়ু ও সংস্কৃতিই তাই নকশা ঠিক করছে।

তবে সাত ছাত্রের সাফল্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সব বিদ্যালয়ের খাদ্য ও জলবায়ু শিক্ষা ভালো চলছে বলা যাবে না। বাগানের জন্য জমি, জল, শিক্ষক-সময় ও স্বেচ্ছাসেবক দরকার; শহরের ভিড়, খরা বা আর্থিক বঞ্চনায় এগুলিই কম। শিক্ষক বদলালে ব্যক্তিনির্ভর প্রকল্প থেমে যেতে পারে। পুরস্কার তাই সুন্দর উদাহরণ, ধারাবাহিক সরকারি অর্থ ও পাঠ্যক্রমের বিকল্প নয়। তাপপ্রবাহের ক্ষতিকেও রোমান্টিক করা উচিত নয়—প্রথম বাগান হারানো বাস্তব জলবায়ু-ঝুঁকির সতর্কতা।

স্প্রিংহার্স্টের শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তন ‘সমাধান’ করেনি; তারা ক্ষতির পরে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষুদ্র কিন্তু পরিমাপযোগ্য পদ্ধতি শিখেছে। শিক্ষার মূল্য সেখানেই। বইয়ে জলসাশ্রয় পড়ার চেয়ে নিজের বাগানে কোন ব্যবস্থায় গাছ বাঁচে দেখা স্মৃতিতে বেশি থাকে। পরের গ্রীষ্ম আরও কঠিন হলে নকশা আবার বদলাতে হবে—বিজ্ঞানও তো স্থির উত্তর নয়, পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন। সাত ছাত্রের ছোট বিদ্যালয় সেই বড় কথাটি হাত মাটিতে রেখে শিখেছে।

বিদ্যালয়টির ক্ষুদ্রতা সুবিধার সঙ্গে ভঙ্গুরতাও আনে। সাত শিশুর কেউ স্কুল ছাড়লে দল ও বরাদ্দে প্রভাব পড়তে পারে। বাগান তাই শুধু পাঠক্ষেত্র নয়, স্থানীয় পরিবারকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত রাখার সামাজিক অবকাঠামো; বাজারে পণ্য বিক্রি সেই উপস্থিতিকে গ্রামের চোখে দৃশ্যমান করে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles