কুয়াশার হাতিরা নেপালকে নিয়ে যাচ্ছে অস্কারের পথে

যা জানা জরুরি
- অবিনাশ বিক্রম শাহের নেপালি ছবি এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ একসঙ্গে দুই আন্তর্জাতিক পথে এগোচ্ছে।
- ছবিটি নেপালের অস্কার-মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে উত্তর আমেরিকার প্রথম প্রদর্শনের সময় একাধিক অঞ্চলের পরিবেশকের কাছে বিক্রি হয়েছে।
- ছোট চলচ্চিত্রবাজারের একটি ছবির জন্য এই দুই ঘটনা পরস্পরের পরিপূরক—পুরস্কারের দৃশ্যমানতা পরিবেশনায় সাহায্য করে, আবার নানা দেশে মুক্তি পুরস্কার-প্রচারে দর্শক ও সমালোচকের পরিধি বাড়ায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অবিনাশ বিক্রম শাহের নেপালি ছবি এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ একসঙ্গে দুই আন্তর্জাতিক পথে এগোচ্ছে। ছবিটি নেপালের অস্কার-মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে উত্তর আমেরিকার প্রথম প্রদর্শনের সময় একাধিক অঞ্চলের পরিবেশকের কাছে বিক্রি হয়েছে। ছোট চলচ্চিত্রবাজারের একটি ছবির জন্য এই দুই ঘটনা পরস্পরের পরিপূরক—পুরস্কারের দৃশ্যমানতা পরিবেশনায় সাহায্য করে, আবার নানা দেশে মুক্তি পুরস্কার-প্রচারে দর্শক ও সমালোচকের পরিধি বাড়ায়।
টরন্টোর সরকারি নথিতে ছবিটির দৈর্ঘ্য ১০৮ মিনিট। প্রযোজনার সঙ্গে নেপালের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রাজিল ও নরওয়ের সংস্থা যুক্ত। এই বহুদেশীয় কাঠামো স্বাধীন চলচ্চিত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ভাষা ও সমাজের গল্প তৈরি হলেও অর্থায়ন, সম্পাদনা, বিক্রয় এবং উৎসব-সংযোগ বিভিন্ন দেশের অংশীদারের মাধ্যমে আসে।
ছবিটি এর আগে কান উৎসবে জুরি পুরস্কার পেয়েছে। টরন্টোয় আসার পরে দশটি অঞ্চলে বিক্রির খবর প্রকাশিত হয়েছে। ‘বিক্রি’ কথাটির অর্থ অবশ্য সর্বত্র অবিলম্বে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি নয়। কোনও পরিবেশক নির্দিষ্ট দেশের অধিকার কিনতে পারে, তার পরে মুক্তির তারিখ, প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কিংবা সম্প্রচারমাধ্যম আলাদা করে নির্ধারিত হয়।
অস্কারের আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য বিভাগেও জাতীয় নির্বাচন প্রথম ধাপ মাত্র। প্রত্যেক দেশ একটি ছবি পাঠায়; তার পরে অ্যাকাডেমি সংক্ষিপ্ত তালিকা এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করে। ফলে ‘অস্কারে নেপালের ছবি’ বলা ঠিক, কিন্তু ‘অস্কার-মনোনীত’ বলা এখনও ঠিক নয়। এই ভাষাগত পার্থক্য পুরস্কার-সংবাদে জরুরি।
নেপালের চলচ্চিত্রশিল্প ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ছোট। দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, বহু ভাষা এবং রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তৈরি ছবির জন্য স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহে দীর্ঘ সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে। উৎসব সেই ছবিকে বিশ্বদর্শকের সামনে আনে, কিন্তু উৎসব-সাফল্য দেশে টেকসই চলচ্চিত্রব্যবস্থা তৈরি করে না। প্রশিক্ষণ, সরকারি সহায়তা, প্রেক্ষাগৃহ ও সংরক্ষণ—সবই প্রয়োজন।
ছবিটির আন্তর্জাতিক যাত্রায় আর একটি সতর্কতা রয়েছে। বিদেশি দর্শকের কাছে নেপালকে কেবল পাহাড়, দারিদ্র্য বা রাজনৈতিক সংকটের পরিচিত ছবিতে বেঁধে রাখার বাজারি চাপ থাকতে পারে। নির্মাতার কাজ স্থানীয় জীবনের জটিলতা বজায় রেখে সেই প্রত্যাশা অতিক্রম করা।
এলিফ্যান্টস ইন দ্য ফগ-এর বর্তমান সাফল্যকে তাই সম্ভাবনার দরজা হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে নয়। ছবিটি ইতিমধ্যে কানে স্বীকৃতি পেয়েছে, টরন্টোয় নতুন বাজার পেয়েছে এবং জাতীয়ভাবে অস্কারের পথে নির্বাচিত হয়েছে। এখন আসল পরীক্ষা—এই আন্তর্জাতিক মনোযোগ নেপালের আরও নির্মাতার জন্য পথ তৈরি করে কি না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



