সংস্কৃতি ও বিনোদন

চার ঘণ্টার ‘মাস্ক’: মানুষটি নয়, অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার ছবি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দু'ঘণ্টার তথ্যচিত্র বানাতে শুরু করেছিলেন অ্যালেক্স গিবনি।
  • শেষ পর্যন্ত ছবির দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় চার ঘণ্টা।
  • কারণ নির্মাণ চলার মধ্যেই ইলন মাস্কের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি আরও বেড়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দু’ঘণ্টার তথ্যচিত্র বানাতে শুরু করেছিলেন অ্যালেক্স গিবনি। শেষ পর্যন্ত ছবির দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় চার ঘণ্টা। কারণ নির্মাণ চলার মধ্যেই ইলন মাস্কের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক প্রভাবের পরিধি আরও বেড়েছে। সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত মাস্ক তাই কোনও বিখ্যাত শিল্পপতির সাধারণ জীবনী নয়; প্রযুক্তি, সম্পদ, গণমাধ্যম ও রাজনীতি এক ব্যক্তির হাতে জমা হলে গণতান্ত্রিক জবাবদিহির কী হয়, সেই প্রশ্নের অনুসন্ধান।

ছবিটি মাস্কের ডটকম-যুগের সূচনা থেকে টেসলা, স্পেসএক্স এবং টুইটারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া পর্যন্ত পথ অনুসরণ করেছে। গিবনি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাস্কের বাবা এরল মাস্ক, টেসলার প্রাক্তন প্রধান মার্টিন এবারহার্ড এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করা বা সংঘাতে জড়ানো বিভিন্ন ব্যক্তির। মাস্ক নিজে সাক্ষাৎকার দেননি। তাঁর প্রকাশ্য বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার ও সামাজিক-মাধ্যমের বক্তব্য ব্যবহার করে একটি কৃত্রিম চরিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি দর্শককে আকর্ষণ করলেও তথ্যচিত্র ও নাট্যরূপের সীমানা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য।

গিবনির বক্তব্য, ছবির বিষয় মাস্কের ব্যক্তিত্বের খুঁটিনাটি নয়; তাঁর মতো প্রযুক্তি-মালিকেরা কীভাবে নির্বাচিত সরকার বা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের চেয়েও বেশি সামাজিক ক্ষমতা অর্জন করছেন, সেটিই কেন্দ্র। উপগ্রহ-যোগাযোগ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং একটি বড় সামাজিক-মাধ্যম মঞ্চ—এই সব ক্ষেত্রেই মাস্কের সিদ্ধান্তের প্রভাব কোটি মানুষের উপর পড়ে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে কোনও নির্বাচনী পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় না।

মাস্ক ছবিটির সমালোচনা করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। গিবনি বলেছেন, ছবির তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং মুক্তির আগে আইনজীবীদের পর্যালোচনা হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি দাবি থেকে দর্শককে একটি জরুরি পার্থক্য মনে রাখতে হবে: ছবিটি এখনও নির্মাতার ব্যাখ্যা; আদালত বা সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নয়। কোনও তথ্যচিত্র যত গবেষণানির্ভরই হোক, তার সম্পাদনা, সাক্ষাৎকার নির্বাচন এবং ঘটনাক্রম নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা নির্ধারিত।

তবু ছবিটির চার ঘণ্টা দীর্ঘ হয়ে ওঠাই সময়টির একটি চিহ্ন। একজন শিল্পপতির ব্যবসা নিয়ে ছবি শুরু হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক-মাধ্যমের ভাষা এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের আলোচনায় পৌঁছেছে। মাস্কের সমর্থকেরা তাঁর ঝুঁকি নেওয়া ও প্রযুক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেন; সমালোচকেরা শ্রমনীতি, রাজনৈতিক প্রচার ও তথ্যপ্রবাহে তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গিবনির ছবি দ্বিতীয় দৃষ্টিভঙ্গিটির দিকে স্পষ্টভাবে ঝুঁকেছে।

বিশ্লেষণের জায়গাটি এখানেই। ছবিটি মাস্ককে একমাত্র সমস্যা হিসেবে দেখালে প্রযুক্তিশিল্পের বৃহত্তর কাঠামো আড়ালে পড়ে যাবে। ব্যক্তির পরিবর্তে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—কোন আইন, মালিকানা ও নজরদারি-ব্যবস্থা এত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে দিয়েছে। সেই আলোচনা শুরু করতে পারলে মাস্ক তার দৈর্ঘ্যের প্রয়োজন প্রমাণ করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles