প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-কে স্মরণ করে এক আবেগঘন ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হল। ইস্টবেঙ্গল এবং তাঁর শেষ ছবি ‘ছবি ওয়ালা’–র টিমের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ ম্যাচে অংশ নেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। রাহুলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানে প্রবেশও রাখা হয়েছিল সকল অনুরাগীদের জন্য উন্মুক্ত।
ম্যাচ ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। মাঠে দেখা যায় অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, অভিনেতা ঋষভ বসু এবং শতদীপ সাহা-সহ আরও অনেককে। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য-ও। ‘ছবি ওয়ালা’ ছবির বিশেষ জার্সিতে ছিল ইস্টবেঙ্গলের লোগো, যা রাহুলের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসারই এক প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
রাহুল ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের একনিষ্ঠ সমর্থক। সুযোগ পেলেই লাল-হলুদের জার্সি গায়ে মাঠে গিয়ে খেলা দেখতেন। ফুটবল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় আবেগ ছিল। সেই কারণেই তাঁর অকাল প্রয়াণের পর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তরফে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সম্মান জানানো হয়েছে। এই স্মারক ম্যাচও ছিল সেই শ্রদ্ধারই এক বিশেষ বহিঃপ্রকাশ।
ম্যাচ চলাকালীন এবং তার আগে-পরে গ্যালারিজুড়ে বারবার ধ্বনিত হয়েছে রাহুলের নাম। সমর্থকদের স্লোগানে যেন ফিরে এসেছিল তাঁর উপস্থিতি। অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন লাল-হলুদ গ্যালারির ‘ছবি ওয়ালা’। শুধু ইস্টবেঙ্গল নয়, আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতিও তাঁর ছিল গভীর অনুরাগ। চলতি বিশ্বকাপ নিয়েও তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা।
খেলা শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি অংশগ্রহণকারীরাও। ঋষভ বলেন, “আমি জানি, উপর থেকে রাহুলদা সবকিছু দেখছে। আমরা কতটা আনন্দ নিয়ে খেলছি, সেটাও ও দেখছে। আজ ও থাকলে খুব খুশি হতো। তবে আমি বিশ্বাস করি, কোথাও না কোথাও থেকে ও আমাদের দেখছে। আমরা সবসময় রাহুলদাকে সঙ্গে নিয়েই চলি।” কথাগুলো বলার পর নিজের জার্সির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, এ দিনের খেলা শুধুই রাহুলদার উদ্দেশে।
অন্যদিকে শতদীপ সাহা বলেন, “আমি সাধারণত খুব বেশি ফুটবল খেলি না। কিন্তু আজ রাহুলদার জন্যই মাঠে নেমেছি।”
একটি ফুটবল ম্যাচের গণ্ডি ছাড়িয়ে দিনটি যেন হয়ে উঠেছিল স্মৃতিচারণ, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার এক অনন্য মিলনমেলা। মাঠে উপস্থিত সকলের চোখে-মুখে ছিল একটাই বার্তা—রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো আর শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি, তাঁর আবেগ এবং তাঁর ফুটবলপ্রেম আজও বেঁচে রয়েছে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে।
লাল-হলুদ গ্যালারির ‘ছবি ওয়ালা’কে শ্রদ্ধা
5