নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের দাবির পাশে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব

যা জানা জরুরি
- রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণের দাবিকে সমর্থন করেছেন মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস।
- দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ১৯৪৫ সালের অর্থনৈতিক, জনমিতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা দিয়ে একবিংশ শতকের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায় না।
- প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণের দাবিকে সমর্থন করেছেন মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ১৯৪৫ সালের অর্থনৈতিক, জনমিতিক ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা দিয়ে একবিংশ শতকের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায় না। প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ চাইছে। ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি-৪ গোষ্ঠীর মাধ্যমে দিল্লি স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের আসন বাড়ানোর দাবি করে। আফ্রিকারও স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব নেই। বর্তমানে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স—ভেটো ক্ষমতা ভোগ করে।
গুতেরেসের সমর্থন রাজনৈতিকভাবে মূল্যবান হলেও মহাসচিব নিজে পরিষদের কাঠামো বদলাতে পারেন না। রাষ্ট্রসংঘের সনদ সংশোধনের জন্য সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন এবং পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ প্রয়োজনীয় সদস্যদেশের অনুমোদন লাগে। অর্থাৎ বর্তমান ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া সংস্কার সম্ভব নয়।
চিন ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দেয়নি। পাকিস্তান, ইতালি এবং ‘ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস’ গোষ্ঠীর অন্য দেশগুলি নতুন স্থায়ী আসনের বদলে দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী আসন বাড়ানোর পক্ষে। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংস্কারের সবচেয়ে বড় বাধাগুলির একটি।
ব্রিকসের দিল্লি ঘোষণায় ভারত ও ব্রাজিলসহ উন্নয়নশীল দেশের বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের কথা পুনরাবৃত্ত হয়েছে। কিন্তু ব্রিকস সদস্যদের মধ্যেও স্থায়ী আসন ও ভেটো নিয়ে পূর্ণ ঐকমত্য নেই। নীতিগত সমর্থন এবং নির্দিষ্ট প্রস্তাবের সমর্থনের মধ্যে এখানেও পার্থক্য।
ভারতের দাবির পক্ষে জনসংখ্যা, অর্থনীতির আকার, শান্তিরক্ষা অভিযানে অবদান এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের প্রতিনিধিত্বের যুক্তি রয়েছে। সমালোচকেরা বলেন, নতুন স্থায়ী সদস্য যোগ করলেই পরিষদ গণতান্ত্রিক হবে না; ভেটো ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতারও সংস্কার প্রয়োজন। ভারত স্থায়ী সদস্য হলে ভেটো চাইবে কি না, সেটিও জটিল প্রশ্ন।
গুতেরেস ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠান, জলবায়ু অর্থায়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণেও উন্নয়নশীল দেশের ভূমিকা বাড়ানোর কথা বলেছেন। ফলে তাঁর বক্তব্য শুধু একটি আসনের সমর্থন নয়; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষমতা-কাঠামোর বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের দাবি।
ভারতের কূটনৈতিক লাভ হল, সংস্কারের আলোচনা আবার শীর্ষ সম্মেলনের কেন্দ্রে এসেছে। কিন্তু বহু দশকের আলোচনার ইতিহাস দেখায়, নৈতিক যুক্তি যথেষ্ট নয়। স্থায়ী সদস্যদের স্বার্থ, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং একটি কার্যকর লিখিত মডেল—এই তিন বাধা না-পেরোলে সমর্থনের ভাষণ আসনে পরিণত হবে না।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



