দৈত্যের পদচারণা: উত্তর ডাকোটায় প্রথম মিলল পূর্ণবয়স্ক টি রেক্সের ধারাবাহিক পদচিহ্ন

যা জানা জরুরি
- প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লক্ষ বছর আগে হেঁটে গিয়েছিল এক পূর্ণবয়স্ক টাইর্যানোসরাস রেক্স।
- তারই রেখে যাওয়া পরপর চারটি পায়ের ছাপের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
- আমেরিকার উত্তর ডাকোটায় আবিষ্কৃত এই পদচিহ্নের সারি লম্বায় ২৩ ফুট।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লক্ষ বছর আগে হেঁটে গিয়েছিল এক পূর্ণবয়স্ক টাইর্যানোসরাস রেক্স। তারই রেখে যাওয়া পরপর চারটি পায়ের ছাপের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আমেরিকার উত্তর ডাকোটায় আবিষ্কৃত এই পদচিহ্নের সারি লম্বায় ২৩ ফুট। তিন আঙুলের ছাপযুক্ত চারটি পদচিহ্নের মধ্যে দু’টি বাঁ পায়ের, দু’টি ডান পায়ের। পূর্ণবয়স্ক টি রেক্সের এমন ধারাবাহিক পদচিহ্ন এই প্রথম শনাক্ত করা গেল।
গত বছর উত্তর ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ‘হেল ক্রিক ফর্মেশন’ নামে পরিচিত ডাইনোসরের জীবাশ্মসমৃদ্ধ ভূস্তরে এই পদচিহ্নগুলি প্রথম চিহ্নিত করা হয়। গবেষকদলে ছিলেন আমেরিকার কলোরাডোর ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্স এবং ব্রিটেনের লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি একটি বিজ্ঞান পত্রিকায় তাঁদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এর আগে টি রেক্সের বিচ্ছিন্ন পায়ের ছাপ, অপ্রাপ্তবয়স্ক টি রেক্সের পদচিহ্ন কিংবা তার আত্মীয় প্রজাতির ডাইনোসরের চলার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু হেঁটে যাওয়া একটি পূর্ণবয়স্ক টি রেক্সের পরপর কয়েকটি পদচিহ্ন খুঁজে পাওয়া এবং শনাক্ত করার ঘটনা এই প্রথম।
ডেনভারের ওই সংগ্রহশালার মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্মবিদ্যা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কিউরেটর টাইলার লাইসন বলেন, “এই প্রাণীদের সম্পর্কে হাড় থেকে আমরা বিপুল তথ্য জানতে পারি। কিন্তু পায়ের ছাপ তাদের আচরণের একটি মুহূর্ত ধরে রাখে।”
তাঁর কথায়, “ধারাবাহিক পদচিহ্ন পাওয়া গেলে প্রাণীটি ভূখণ্ডের উপর দিয়ে কী ভাবে এগিয়েছিল, আমরা সত্যিই তার পথ অনুসরণ করতে পারি। টি রেক্সের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ অবিশ্বাস্য রকম বিরল।”
প্রতিটি পায়ের ছাপ প্রায় তিন ফুট বা ০.৯১ মিটার লম্বা। একই পায়ের পরপর দু’টি ছাপের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ১৩ ফুট বা ৩.৯৬ মিটার। গবেষকেরা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ত্রিমাত্রিক পৃষ্ঠতল স্ক্যানের সাহায্যে প্রতিটি পদচিহ্ন নথিবদ্ধ করেছেন এবং সেগুলির ত্রিমাত্রিক প্রতিরূপ তৈরি করেছেন।
এই তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের আনুমানিক হিসাব, প্রাণীটি ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মাইল বেগে হাঁটছিল। অর্থাৎ, ঘণ্টায় প্রায় ৫.৬ থেকে ৭.২ কিলোমিটার—মানুষের জোরকদমে হাঁটার গতির কাছাকাছি।
সমস্ত ডাইনোসরের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে পরিচিত টি রেক্স। এখনও পর্যন্ত পাওয়া জীবাশ্মের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিটেশিয়াস যুগে, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ থেকে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ বছর আগে এরা পৃথিবীতে বাস করত। উচ্চতায় ছিল ১২ থেকে ১৩ ফুট। গণবিলুপ্তির ঘটনায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আগে পৃথিবীতে বিচরণকারী শেষ দিকের পাখি নয় এমন ডাইনোসরদের অন্যতম ছিল এই প্রাণী।
আবিষ্কৃত পদচিহ্নগুলির মধ্যে তিনটি চলতি বছরের শেষের দিকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে তুলে ডেনভারের সংগ্রহশালায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই আবিষ্কারে বিশেষ ভাবে আনন্দিত কলোরাডোর সেই স্কুলশিক্ষক, যিনি ঘটনাচক্রে জায়গাটির সন্ধান পেয়েছিলেন। তাঁর নাম কেন্ট হাপস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সংগ্রহশালায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন এবং গবেষণাপত্রটিরও অন্যতম লেখক।
হাপস বলেন, “শিক্ষক হিসেবে আমি সব সময় ছাত্রছাত্রীদের বলি, বিজ্ঞানের শুরু হয় কৌতূহল, অনুরাগ আর মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ থেকে। কখনও ভাবিনি, সেই পথ ধরে আমি নিজেই এমন একটি আবিষ্কারের কাছে পৌঁছে যাব।”
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



