আন্তর্জাতিক

ভোট মিটলেই ইরান যুদ্ধ শেষ, দাবি ট্রাম্পের; সংশয় কাটছে না

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন মিটলেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • তাঁর অভিযোগ, মার্কিন ভোটের ফল প্রভাবিত করতেই সংঘাত টেনে নিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
  • কিন্তু আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপের সামনে ইরান আর বেশিদিন টিকতে পারবে না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন মিটলেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন ভোটের ফল প্রভাবিত করতেই সংঘাত টেনে নিয়ে যাচ্ছে তেহরান। কিন্তু আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপের সামনে ইরান আর বেশিদিন টিকতে পারবে না। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ডালাসে রিপাবলিকান দলের সম্মেলনে যোগ দিতে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে এই পূর্বাভাস দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, নির্বাচনের পরেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কারণ, ওরা আর ধরে রাখতে পারবে না। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য ওরা মরিয়া।” আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই ভোটের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাব্য সমাপ্তিকে সরাসরি জুড়ে দিলেও ট্রাম্প কোনও সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট রূপরেখা জানাননি।

বাস্তবে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। বুধবার ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে দশটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। এর আগে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করার কথা জানিয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের বক্তব্য, তাদের যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবেই ওই অভিযান। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের নিশানায় ছিল দু’টি মার্কিন জাহাজ এবং আটটি তেলবাহী জাহাজ। নতুন সংঘর্ষে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এর ধাক্কা পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি একশো ডলার ছাড়িয়েছে। জুলাইয়ের পরে এই প্রথম ওই সীমা অতিক্রম করল দাম। আমেরিকায় সাধারণ পেট্রলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪.২২ ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ হওয়ার কথা বলেছিলেন; সেই সংঘাত এখন সপ্তম মাসে। তাঁর নতুন বক্তব্যে কার্যত স্বীকার করা হচ্ছে, ভোটের আগে জ্বালানির দামে স্বস্তি ফেরার নিশ্চয়তা নেই।

রাজনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য অস্বস্তিকর। দীর্ঘ যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ভোটারদের ক্ষোভের মধ্যে তাঁর জনসমর্থন সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের কাজকর্ম সম্পর্কে জনমতের বড় পরীক্ষা। ফলে বিদেশের যুদ্ধ এখন দেশের ভোটে রিপাবলিকানদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে মার্কিন ভোটারদের রায়ে, যার প্রভাব পড়বে পরবর্তী নীতি নির্ধারণেও।

তবে ট্রাম্পের আশ্বাসের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কাও সামনে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও বিদেশসচিব মার্কো রুবিও-সহ শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগত আলোচনায় প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, ইরান মার্কিন চাপ প্রতিরোধ করতে থাকলে যুদ্ধ তাঁর বাকি মেয়াদ পর্যন্ত, এমনকি ২০২৯ সালের জানুয়ারির পরেও গড়াতে পারে। এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রকাশ্যেও যুদ্ধ শেষের সময়সীমা নিয়ে সতর্ক থেকেছেন ভান্স। তিনি কোনও কৃত্রিম সময়সীমা বেঁধে দিতে চাননি। ইরান কবে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করবে, তার উত্তর তাঁর জানা নেই বলে জানান ভাইস প্রেসিডেন্ট।

কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা অবশ্য পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তবে আপাতত সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আলোচনা হতে পারে, কিন্তু এখন তাঁরা সেই পথের দিকে তাকিয়ে নেই। অন্যদিকে, যুদ্ধ থামলেই নির্বাচনের পরে তেলের দামও দ্রুত নেমে আসবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

এই বক্তব্যগুলির তাৎপর্য হল, যুদ্ধের সামরিক পরিণতি, জ্বালানির বাজার এবং ভোটের রাজনৈতিক হিসাবকে একই সূত্রে বাঁধছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘাত কেন থামবে, তার পক্ষে কোনও যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে নভেম্বরের পর শান্তি ফেরার কথাটি আপাতত ট্রাম্পের পূর্বাভাস হিসেবেই দেখতে হবে। যুদ্ধবিরতির সম্মত ঘোষণা হিসেবে সেটিকে ধরার ভিত্তি এখনও নেই।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles