‘মেয়ের লেনদেন বৈধ’, ইডিকে পাল্টা আক্রমণ বিজয়নের; আইনি পরীক্ষা করছে ইউডিএফ সরকার

যা জানা জরুরি
- তিরুঅনন্তপুরম: সিএমআরএল মামলায় তাঁকে এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করার ইডির উদ্যোগের মুখে পাল্টা আক্রমণে নামলেন কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
- তাঁর দাবি, মেয়ে বীণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ বৈধ।
- ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে, করও মেটানো হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তিরুঅনন্তপুরম: সিএমআরএল মামলায় তাঁকে এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করার ইডির উদ্যোগের মুখে পাল্টা আক্রমণে নামলেন কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। তাঁর দাবি, মেয়ে বীণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ বৈধ। ব্যাঙ্কের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে, করও মেটানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কোনও অপরাধের প্রমাণ পায়নি বলেই এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে নতুন পথ ধরেছে বলে অভিযোগ তাঁর।
বিজয়নের এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকার জানিয়েছে, ইডির পাঠানো চিঠি আইনি পরীক্ষার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন বুধবার বলেন, বিষয়টিতে রাজনীতি নেই। অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু ইডি চিঠি পাঠিয়েছে বলেই সেটি খারিজ করা যায় না বলেও জানান তিনি।
মামলার কেন্দ্রে রয়েছে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড বা সিএমআরএলের সঙ্গে বীণার তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সালজিক সলিউশনসের আর্থিক সম্পর্ক। ইডির অভিযোগ, বাস্তবে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা না দিয়েও বীণা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান টাকা পেয়েছেন। সেই লেনদেনকে কেন্দ্র করেই আর্থিক তছরুপের তদন্ত চলছে। বিজয়ন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়ের ব্যবসায়িক লেনদেনের স্বচ্ছতার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
ইডি রাজ্য পুলিশের প্রধানকে চিঠি দিয়ে বিজয়ন, তাঁর মেয়ে বীণা, জামাই তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পি এ মহম্মদ রিয়াস এবং অন্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-সহ প্রযোজ্য আইনে এফআইআর করার অনুরোধ জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ইডির নথি অনুযায়ী, সংস্থাটির অভিযোগ, বীণার মাধ্যমে সিএমআরএল থেকে ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা ঘুষ পেয়েছেন বিজয়ন। এই দাবির সমর্থনে সংস্থার প্রাক্তন অর্থকর্তা পি সুরেশ কুমারের বক্তব্যের উল্লেখ করেছে ইডি।
রিয়াসের বিরুদ্ধেও কথিত ঘুষের অর্থ গ্রহণ এবং বীণা ও পরিচিতদের মাধ্যমে সেই টাকা দুবাইয়ে পাঠানোর অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। চিঠিতে মোট ১৩ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে বলে খবর। তবে এগুলি তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়। রাজ্য সরকারও এখনও চিঠির ভিত্তিতে চূড়ান্ত পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি।
বিজয়নের পাল্টা বক্তব্য, ইডির পরীক্ষা থেকে অপরাধে জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ বেরোয়নি। তাই রাজ্য পুলিশের প্রধানের কাছে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ পাঠিয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে জড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থার নিয়ন্ত্রকদের রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যপূরণে যাঁরা সহযোগীর ভূমিকা নিচ্ছেন, তাঁদেরও নিশানা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
ইডির চিঠি পাঠানো হয়েছে আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারার অধীনে। এই ব্যবস্থায় তদন্তে অন্য আইন ভাঙার তথ্য পাওয়া গিয়েছে মনে করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তা ভাগ করে নিতে পারে সংস্থাটি। সতীশন জানিয়েছেন, চিঠিতে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং সেটি আইনি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালাও চিঠি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের কথা বলেছেন।
ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দুটি বিপরীত অবস্থান। বিজয়ন বলছেন, বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপরাধের রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইডির দাবি, পরিষেবার আড়ালে ঘুষের অর্থ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট চুক্তি, কাজের প্রমাণ, অর্থপ্রবাহ এবং সাক্ষ্য কতটা অভিযোগকে সমর্থন করে, সেটিই বিচার্য হবে। ব্যাঙ্কের মাধ্যমে লেনদেন এবং কর দেওয়ার যুক্তি সামনে এনেছেন বিজয়ন; সেই লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলছে ইডি। এই বিরোধের নিষ্পত্তিতে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্তে পাওয়া নথিপত্রের মূল্যায়নও তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে ইউডিএফ সরকারের সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ মামলা করবে কি না, তা নির্ভর করছে চিঠির আইনি মূল্যায়নের উপরে। আপাতত বিজয়নের অবস্থান স্পষ্ট: অভিযোগ মেনে নেওয়ার প্রশ্ন নেই, কেন্দ্রীয় সংস্থার পদক্ষেপকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবেই মোকাবিলা করবেন তিনি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



