‘বই পড়াই আমাকে টিকিয়ে রেখেছে’: জেলে থেকে নেট উত্তীর্ণ নয়ডার আন্দোলনে অভিযুক্ত হিমাংশু

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: নয়ডার আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে গত পাঁচ মাস ধরে গৌতম বুদ্ধ নগর জেলা কারাগারে বন্দি বছর চব্বিশের হিমাংশু ঠাকুর।
- এই সময়ের বেশির ভাগটাই তিনি কাটিয়েছেন বই পড়ে।
- সেই বইপ্রীতি এবং অধ্যবসায়ের সুফল মিলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের জাতীয় যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা বা ইউজিসি-নেটের ফলাফলে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: নয়ডার আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে গত পাঁচ মাস ধরে গৌতম বুদ্ধ নগর জেলা কারাগারে বন্দি বছর চব্বিশের হিমাংশু ঠাকুর। এই সময়ের বেশির ভাগটাই তিনি কাটিয়েছেন বই পড়ে। সেই বইপ্রীতি এবং অধ্যবসায়ের সুফল মিলেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের জাতীয় যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা বা ইউজিসি-নেটের ফলাফলে। ইতিহাসে ৯৯.৩ পার্সেন্টাইল পেয়েছেন তিনি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বিষয়েই স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেছেন হিমাংশু।
গ্রেটার নয়ডার কারাগারে ‘দ্য হিন্দু’কে তিনি বলেন, “জেলে আমার বেশির ভাগ সময় কেটেছে বই পড়ে। প্রথম দিকে নেটের প্রস্তুতিতেই মন দিয়েছিলাম। বন্ধুরা বাইরে থেকে পড়ার উপকরণ এনে দিতেন। নেটের পড়াশোনার পাশাপাশি উপন্যাস, কবিতা আর গল্পও পড়েছি।”
গত ১৮ এপ্রিল উত্তর দিল্লির শালিমার বাগের ফ্ল্যাট থেকে হিমাংশুকে তুলে নিয়ে যায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, এপ্রিলের আন্দোলনে “হিংসায় উসকানি দেওয়া এবং তা সংগঠিত করতে সাহায্য করেছিলেন” তিনি। পুলিশের আরও অভিযোগ, আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাদের চিহ্নিত আদিত্য আনন্দের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল হিমাংশুর। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে আটটি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন।
হিমাংশুর বোন নেহা ঠাকুর জানান, তাঁকে যখন তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তিনি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় পিএইচডিতে ভর্তির সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবেশের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতে চান তিনি।
নেহা বলেন, “গবেষণা করার স্বপ্ন ও ছেড়ে দেয়নি। জেলের মধ্যেই প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়েছে। গ্রেফতারের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ওর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি, পড়ার জন্য বই নিয়ে যাচ্ছি। তাই জানি, অন্তত ১৫টি বই পড়ে ফেলেছে। এখন একটি গবেষণাপত্র নিয়ে কাজ করছে।”
ছেলের এই সাফল্য তাঁর উপর বাবা-মায়ের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে। যদিও ছেলে যে এখনও কারাগারে, সেই বাস্তবতা তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না।
হিমাংশুর মা মনীষা ঠাকুর বলেন, “আমার ছেলে যদি ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হত, তা হলে কি জেলে বসে পড়াশোনা করে সময় কাটাত? ও সারা জীবন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। এমন প্রতিভাবান ছেলের বাবা-মা হিসেবে আমরা খুব গর্বিত।”
পরিবারটির আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায়। বর্তমানে তাঁরা উত্তরাখণ্ডে থাকেন। সেখান থেকেই বাবা, মা ও বোন নিয়মিত হিমাংশুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। গত ২ সেপ্টেম্বর কারাগারের সাক্ষাৎকক্ষে দেখা করার সময় বাবা ছেলের দিক থেকে চোখ সরাতে পারছিলেন না। মা বারবার ছেলের নাম ধরে ডাকছিলেন।
নেহা জানান, হিমাংশুর গ্রেফতারির পর থেকে তাঁদের বাবা, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার, তীব্র আতঙ্কের সমস্যায় ভুগছেন। ঘুমোতেও অসুবিধা হচ্ছে তাঁর।
“হিমাংশু যে জেলে যেতে পারে, বাবা কখনও বিশ্বাসই করতে পারেননি। দুশ্চিন্তায় রাতে ঘুম ভেঙে যায়। বিড়বিড় করে বলতে থাকেন, হিমাংশু নির্দোষ,” বলেন নেহা।
অন্য দিকে, তাঁদের মা ছেলের পাশে নিঃশর্ত ভাবে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান তিনি। নেহার কথায়, “শ্রমিকদের সমর্থন করতে মা নিজেও নয়ডার বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন।”
লোহার জালের আড়াল থেকে কথা বলতে বলতে হিমাংশু জানান, একই ধরনের অভিযোগে ওই কারাগারে বন্দি অন্য আন্দোলনকর্মীরাও যতটা সম্ভব বই পড়ে সময় কাটান।
তিনি বলেন, “সত্যম বের্টোল্ট ব্রেখটের লেখা হিন্দিতে অনুবাদ করেছে। আদিত্য কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছে।” এখানে সত্যম বলতে সাংবাদিক সত্যম বর্মার কথা বলেছেন হিমাংশু। সত্যমের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হিমাংশু আরও বলেন, “আমরা জেলের গ্রন্থাগার পরিষ্কার করে মেরামত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সপ্তাহে এক দিন সেখানে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছি।”
২০২৩ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দিশা ছাত্র সংগঠনের হয়ে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন হিমাংশু। তিনি ভারতের বিপ্লবী মজদুর পার্টিরও সদস্য।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



