খবর

কাপুরুষ বলার চেয়ে মৃত্যু ভাল’: তিন মাসে ১৭ জনকে ফাঁসির সাজা দেওয়া বিচারক

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ‘কাপুরুষ বিচারক বলে পরিচিত হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল।’ পণের দাবিতে স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরের…
  • তাঁর আদালত থেকে ৯৭টি খুনের মামলা সরিয়ে নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, ৭ সেপ্টেম্বরের রায়ে, বিচারকের এই বক্তব্য সামনে এল।
  • গত ৬ এপ্রিল থেকে ১৭ জুলাই—প্রায় একশো দিনের মধ্যে সাতটি পৃথক খুনের মামলায় ১৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন দিবাকর।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

‘কাপুরুষ বিচারক বলে পরিচিত হওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল।’ পণের দাবিতে স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুজফ্‌ফরনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবি কুমার দিবাকর। তাঁর আদালত থেকে ৯৭টি খুনের মামলা সরিয়ে নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই, ৭ সেপ্টেম্বরের রায়ে, বিচারকের এই বক্তব্য সামনে এল।

গত ৬ এপ্রিল থেকে ১৭ জুলাই—প্রায় একশো দিনের মধ্যে সাতটি পৃথক খুনের মামলায় ১৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন দিবাকর। সেই পরিসংখ্যান নিয়েই প্রথম আলোচনায় আসে তাঁর আদালত। পরে দশটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা হয় ২২। গত ১৮ আগস্ট জেলা ও দায়রা বিচারকের প্রশাসনিক নির্দেশে তাঁর আদালতের ৯৭টি বিচারাধীন খুনের মামলা অন্যত্র সরানো হয়।

সর্বশেষ মামলায় দণ্ডিতের নাম নাদিম। সরকারি আইনজীবী কুলদীপ কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই শাহপুরে পণের দাবিতে নিজের ২৩ বছরের স্ত্রী শাহজাদির গায়ে আগুন লাগিয়েছিলেন তিনি। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে শাহজাদির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি স্বামীকে দায়ী করেছিলেন। সরকারি আইনজীবীর দাবি, বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের এগারোজন সাক্ষী বিরূপ হলেও সেই মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত নাদিমকে দোষী সাব্যস্ত করে।

রায়ে দিবাকর নিজের বিচারকজীবনের নীতির কথাও লিখেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই তাঁকে ঈশ্বর ছাড়া কাউকে ভয় না পাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। অপরাধচক্র বা বাহুবলীদের ভয়ে বিচার করতে হলে আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে। মানুষ বিচারকের কাছে আসেন নিরপেক্ষ ও নির্ভীক বিচার পাওয়ার আশায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে বিচারব্যবস্থা থেকে পদত্যাগ করাই উপযুক্ত বলে মনে করেন তিনি।

মামলা সরানোর ঘটনা নিয়ে বিচারক জানিয়েছেন, তিনি গভীরভাবে আহত ও দুঃখিত। তাঁর অভিযোগ, অপরাধচক্র এবং প্রভাবশালী দুষ্কৃতীদের সুবিধা করে দিতেই গুরুতর মামলার নথি তাঁর আদালত থেকে সরানো হয়েছে। ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ তাঁর জানা আছে বলেও দাবি করেছেন দিবাকর। তবে নিজের পদের মর্যাদার কথা উল্লেখ করে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। মামলা স্থানান্তরের পিছনে অপরাধীদের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তাঁর অভিযোগ থেকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

দিবাকরের আরও দাবি, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের এক দুষ্কৃতীর মাধ্যমে তাঁকে বার্তা দেওয়া হয়েছিল—এখন শুধু মামলার নথি সরানো হয়েছে; বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করলে বা অনুসরণ করলে প্রভাব খাটিয়ে তাঁর আদালত বদলে দেওয়া হবে, এমনকি জেলা থেকেও বদলি করানো হবে। ওই অপরাধীদের উঁচু মহলে যোগাযোগ রয়েছে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অঞ্চলের বাহুবলীরা রাজনৈতিক ও জাতিগত আশ্রয় পায় বলেও অভিযোগ করেছেন বিচারক।

নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন দিবাকর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশি ও বিদেশি সূত্র থেকে প্রাণনাশের হুমকি এসেছে। স্থানীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কমানো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এমন পরিস্থিতিতেও অপরাধীদের চাপকে বিচারিক সিদ্ধান্তের নিয়ামক হতে দিতে রাজি নন বলে রায়ে জানিয়েছেন তিনি।

সরকারি আইনজীবীর হিসাব অনুযায়ী, সোমবারের রায় মিলিয়ে চার মাসে এগারোটি মামলায় ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দিবাকরের আদালত। নাদিমকে এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা আইনজীবী সংগঠনের সভাপতি প্রমোদ ত্যাগীর বক্তব্য, ওই আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলিতে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে—আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের এমন উদ্বেগের পরেই মামলা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আসে।

আদালত হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বিবেচনা করে ঘটনাটিকে বিরলতমের মধ্যে বিরল বলে চিহ্নিত করেছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে মত দিয়েছে। তবে দায়রা আদালতের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণাই শাস্তি কার্যকরের চূড়ান্ত অনুমতি নয়। দিবাকরের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডগুলি অনুমোদনের জন্য এলাহাবাদ হাই কোর্টে যাবে। দণ্ডিতদের পৃথকভাবে আবেদন করার সুযোগও রয়েছে। ফলে বিচারকের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের বিচারিক পর্যালোচনাও এই মামলাগুলির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles