অনলাইন পরীক্ষার পরিকাঠামো খুঁজতে এআইসিটিই-র দ্বারস্থ এনটিএ

যা জানা জরুরি
- দেশজুড়ে কম্পিউটার-নির্ভর পরীক্ষাকেন্দ্রের নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন বা এআইসিটিই-র সাহায্য চাইল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি।
- এআইসিটিই অনুমোদিত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কী ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো রয়েছে, তা এখন তালিকাভুক্ত করা হবে।
- প্রতিষ্ঠানগুলিকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দেশজুড়ে কম্পিউটার-নির্ভর পরীক্ষাকেন্দ্রের নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন বা এআইসিটিই-র সাহায্য চাইল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। এআইসিটিই অনুমোদিত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে কী ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো রয়েছে, তা এখন তালিকাভুক্ত করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলিকে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
এআইসিটিই-র আওতায় থাকা প্রায় ১৪ হাজার প্রতিষ্ঠানের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তথ্য চাওয়া হয়েছে শুধু এআইসিটিই অনুমোদিত সরকারি কলেজ ও প্রতিষ্ঠানগুলির কাছ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পলিটেকনিক, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি বিভাগ এবং সরকারি প্রযুক্তি ও ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কতগুলি সচল কম্পিউটার রয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা কতটা উন্নত, স্থানীয় নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগের অবস্থা কী—নির্ধারিত ছকে তার বিস্তারিত জানাতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা, সিসিটিভি নজরদারি এবং পরীক্ষার নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য পরিকাঠামোর তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
শুধু বর্তমান কম্পিউটার পরীক্ষাগার নয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অব্যবহৃত ঘর কিংবা ফাঁকা জায়গার হিসাবও দিতে হবে। সেই জায়গায় ভবিষ্যতে আলাদা ‘স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং সেন্টার’ বা আদর্শ পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখবে এনটিএ। প্রতিষ্ঠানগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে, জমা দেওয়া তথ্য যেন সম্পূর্ণ, নির্ভুল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা যাচাই করা হয়। তথ্য সংগ্রহের কাজটিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সময়সীমাবদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছে এআইসিটিই।
জাতীয় স্তরের আরও বেশি পরীক্ষা অনলাইন ও কম্পিউটার-নির্ভর পদ্ধতিতে নেওয়ার প্রস্তুতির কারণেই এই উদ্যোগ। বর্তমানে জেইই মেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন প্রবেশিকা-সহ একাধিক পরীক্ষা কম্পিউটারের মাধ্যমে নেয় এনটিএ। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজিও কম্পিউটার-নির্ভর পদ্ধতিতে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক নিরাপদ ও প্রযুক্তিগত ভাবে সক্ষম পরীক্ষাকেন্দ্র প্রয়োজন হবে।
চলতি বছরে এনটিএ পরিচালিত একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট এবং সফটওয়্যার সমস্যার অভিযোগ ওঠে। জয়পুরের একটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে সর্বভারতীয় আয়ুষ স্নাতকোত্তর প্রবেশিকা ফের দিতে হচ্ছে। আবার সফটওয়্যার বিভ্রাটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন স্নাতক প্রবেশিকার ৩,৭৬৫ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে পারেননি। এই অভিজ্ঞতাও নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিকাঠামোর সন্ধানকে জরুরি করে তুলেছে।
তবে তথ্য দিলেই কোনও প্রতিষ্ঠান পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত হবে না। এআইসিটিই সমস্ত তথ্য এনটিএ-র কাছে পাঠাবে। তার পরে কম্পিউটার, সংযোগ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও জায়গার বাস্তব অবস্থা যাচাই করে উপযুক্ত কেন্দ্র বাছাই করবে এনটিএ। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে কাজে লাগানো গেলে পরীক্ষার্থীদের দূরবর্তী শহরে যাতায়াতের চাপ কমার পাশাপাশি বেসরকারি পরীক্ষাকেন্দ্রের উপর নির্ভরতাও অনেকটা কমতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



