নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮-এ পৌঁছেছে। এখনও নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি মানুষ। একদিকে নদী ও ধ্বংসস্তূপ থেকে দ্রুত মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে, অন্যদিকে সেগুলি সংরক্ষণের পরিকাঠামো প্রায় ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালের মর্গ উপচে পড়ায় অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সাময়িকভাবে সমাধিস্থ করার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

রাসুয়া ও নুওয়াকোট থেকে ভেসে আসা বহু দেহ চিতওয়ান, তানাহুন, গোরখা, ধাদিং এবং নওয়ালপরাসির মতো বহু দূরের জেলায় উদ্ধার হয়েছে। অধিকাংশ দেহ দীর্ঘ সময় জল ও কাদার মধ্যে থাকায় মুখ দেখে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বহু হাসপাতালের হিমঘরে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ দেহ এসে পৌঁছেছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, শুকনো বরফ ও অস্থায়ী সংরক্ষণকক্ষ ব্যবহার করেও পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না।

চিতওয়ানের দেবঘাট অরণ্যে শনিবার ৯৬টি অজ্ঞাতপরিচয় দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে। আরও শতাধিক দেহ সমাধিস্থ করার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি দেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ, ছবি তোলা এবং একটি পৃথক পরিচিতি-সংখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাধিস্থলের অবস্থানও ভৌগোলিক প্রযুক্তিতে নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ মানুষের স্বজনদের ডিএনএর সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে দেহটি কোথায় রাখা হয়েছে, তা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। শনাক্ত হওয়া দেহগুলি অবশ্য পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচয়-সংক্রান্ত সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণের পরেই অজ্ঞাতপরিচয় দেহ সমাধিস্থ করা হবে। তবে গণসমাধি ঘিরে কিছু মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হিন্দু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রীতি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের বক্তব্য, দ্রুত পচন এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। নেপাল সরকার এক হাজারের বেশি হিমায়নযন্ত্র চেয়ে আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে। রাসুয়া ও নুওয়াকোটের ১১টি প্রকল্পে ৯০০-র বেশি শ্রমিক এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন। নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলিতে নথিভুক্ত না-হওয়া শ্রমিক থাকায় প্রকৃত সংখ্যা এক হাজার ছাড়াতে পারে। তাঁদের মধ্যে নেপাল ছাড়াও ভারত, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকে থাকা প্রায় ১০০ শ্রমিক এখনও জীবিত থাকতে পারেন। আপার ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে নল ঢুকিয়ে বাতাস পাঠানো হচ্ছে। কাদা ও পাথরের স্তূপ কাটতে ভারী যন্ত্র হেলিকপ্টারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নেপাল সেনার সঙ্গে ভারত, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সুড়ঙ্গ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং ফের জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই চলছে সময়ের বিরুদ্ধে এই উদ্ধারযুদ্ধ।