খবর

সাজ্জন কুমারের মৃত্যুতে সমবেদনা, দিল্লির তিন সাংসদকে তলব করে ভর্ৎসনা বিজেপির

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সাজ্জন কুমারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের কাছে সমবেদনা জানাতে গিয়ে দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের রোষে…
  • শনিবার দক্ষিণ দিল্লির সাংসদ রামবীর সিং বিধুরি, উত্তর-পশ্চিম দিল্লির সাংসদ যোগেন্দ্র চান্দোলিয়া এবং পশ্চিম দিল্লির সাংসদ কমলজিৎ সেহরাওয়াতকে তলব করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন…
  • দলীয় সূত্রে খবর, তাঁদের আচরণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি তিন সাংসদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সাজ্জন কুমারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের কাছে সমবেদনা জানাতে গিয়ে দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের রোষে পড়লেন দিল্লির তিন বিজেপি সাংসদ। শনিবার দক্ষিণ দিল্লির সাংসদ রামবীর সিং বিধুরি, উত্তর-পশ্চিম দিল্লির সাংসদ যোগেন্দ্র চান্দোলিয়া এবং পশ্চিম দিল্লির সাংসদ কমলজিৎ সেহরাওয়াতকে তলব করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। দলীয় সূত্রে খবর, তাঁদের আচরণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি তিন সাংসদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সাজ্জন কুমারের পীরাগড়ির বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন ওই তিন সাংসদ। সাজ্জনের মৃত্যুতে তাঁরা সমবেদনা জানান। কিন্তু ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় সাজাপ্রাপ্ত এক নেতার পরিবারের কাছে বিজেপি সাংসদদের যাওয়ার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। আগামী বছর পঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই ঘটনা শিখ ভোটারদের কাছে দলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে বলে বিজেপি নেতৃত্ব উদ্বিগ্ন।

দলের পঞ্জাবের নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী এইচ এস ফুলকা প্রথম প্রকাশ্যে তিন সাংসদের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন। চার দশক ধরে শিখবিরোধী দাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হয়ে আইনি লড়াই চালিয়েছেন ফুলকা। তাঁর বক্তব্য, সমবেদনা প্রাপ্য নিহত মানুষ এবং তাঁদের পরিবার—দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত কোনও ব্যক্তির পরিবার নয়। তিন সাংসদকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে বয়কটের ডাকও দিয়েছিলেন তিনি।

নিতিন নবীনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ফুলকা বলেন, ১৯৮৪ সালের দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচারের দাবিকে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করেছে। সেই অবস্থানের সঙ্গে তিন সাংসদের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিজেপির মুখপাত্র আর পি সিংও দাবি করেন, তিন সাংসদ দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, ব্যক্তিগত ক্ষমতায় সাজ্জনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে ব্যক্তিগত সফরের ব্যাখ্যায় বিতর্ক থামেনি।

সাজ্জন কুমার ২০ আগস্ট দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় একাধিক শিখকে হত্যার মামলায় তিনি দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। মৃত্যুর সময়ও তিনি কারাবন্দি ছিলেন।

তিন সাংসদের নির্বাচনী কেন্দ্রগুলি পুরনো ‘আউটার দিল্লি’ লোকসভা কেন্দ্র ভেঙে তৈরি হয়েছিল। একসময় এই কেন্দ্র থেকেই কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছিলেন সাজ্জন। স্থানীয় সামাজিক সমীকরণের কারণেই তারা তাঁর পরিবারের কাছে গিয়েছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কিন্তু পঞ্জাব নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিল—স্থানীয় সমীকরণের চেয়ে ১৯৮৪ সালের দাঙ্গা নিয়ে দলের ঘোষিত অবস্থানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles