ফোনটি এসেছিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায়। কথোপকথন ছিল সংক্ষিপ্ত। কিন্তু ফোনের অপর প্রান্ত থেকে শোনা কয়েকটি কথা আজও কানে বাজছে ভোপালের দেবকী অধিকারীর। নেপালের আকস্মিক বন্যার হাত থেকে বাঁচতে তাঁর পরিবারের সদস্যেরা তখন প্রাণপণে একটি পাহাড়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন।

দেবকী বলেন, “প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ে ওঠার সময় ওঁরা আমাকে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন। স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু পরে সেই বাড়িটিরও একাংশ বন্যার জলে ডুবে যায়। তাঁরা বলেছিলেন, ‘বাড়ির অর্ধেকটা ডুবে গিয়েছে। আমরা আর বাঁচব না। আমাদের সন্তানদের দেখো।’”

ভাই কৃষ্ণ খানাল ও তাঁর স্ত্রী রাধিকা, রামচন্দ্র অধিকারী ও তাঁর স্ত্রী ভবতী খানাল অধিকারী-সহ তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা ২৯ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপালের গোসাঁইকুণ্ডে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। শ্রাবণ পূর্ণিমা উপলক্ষে তাঁরা সেখানে যান। দলটির সকলেই পরস্পরের আত্মীয়—দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রী, বোন ও ভগ্নিপতি এবং পরিবারের অন্য সদস্যেরা। ভোপালের পাশাপাশি এলাকায় তাঁদের বাড়ি।

বৃহস্পতিবার সকালে অধিকারী পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়দের শেষবার কথা হয়েছিল। তখন তাঁরা জানিয়েছিলেন, বন্যার জল থেকে বাঁচতে একটি বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। তার পর থেকে ওই দলের ২৯ জনের কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। কোনও খবর না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা।

পরিবারের এক সদস্য বলেন, “ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি, কিন্তু হঠাৎই অন্য প্রান্তের সমস্ত কণ্ঠস্বর থেমে যায়। পরিবারের লোকেরা বারবার তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু আর কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।”

দেবকী বলেন, “তার পর থেকে আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোট ২৯ জন গিয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককেই আমরা চিনি। এখনও পর্যন্ত কারও সম্পর্কে কোনও খবর পাইনি।”

নেপাল ও তিব্বতের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮-এ পৌঁছেছে। এখনও ৯৭৭ জন নিখোঁজ। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩,৭৪২ জনকে।

বিদেশ মন্ত্রক এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, চিনের দিকে থাকা ৪০০ ভারতীয় নিরাপদে রয়েছেন। তবে প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও শতাধিক মানুষের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দলগুলি দুর্গত এলাকায় তল্লাশি চালালেও ভোপালের ওই ২৯ তীর্থযাত্রীর ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা এখনও অজানা।