খবর

বাংলার সরকারি গ্রন্থাগার থেকে সরানো হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বেশ কিছু বই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার।
  • গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, যে বইগুলি ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানচর্চা বা বৌদ্ধিক বিকাশে কোনও ভূমিকা রাখে না, সেগুলি আর সরকারি গ্রন্থাগারের…
  • মন্ত্রীর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সব বই নির্বিচারে বাতিল করা হচ্ছে না।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বেশ কিছু বই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। গণশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, যে বইগুলি ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞানচর্চা বা বৌদ্ধিক বিকাশে কোনও ভূমিকা রাখে না, সেগুলি আর সরকারি গ্রন্থাগারের তাকে রাখা হবে না।

মন্ত্রীর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সব বই নির্বিচারে বাতিল করা হচ্ছে না। প্রতিটি বইয়ের বিষয়বস্তু ও শিক্ষামূল্য পর্যালোচনা করা হবে। তবে তাঁর শিশুতোষ ছড়ার বই ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-এর নাম উল্লেখ করে গৌরীশঙ্কর বলেন, এ ধরনের ‘অপ্রয়োজনীয়’ বই সরকারি অর্থে কেনা কিংবা গ্রন্থাগারে রাখা হবে না। পরিবর্তে জ্ঞান, মননশীলতা, জাতীয় সংহতি এবং ‘জাতীয়তাবাদী চিন্তা’ গড়ে তুলতে সহায়ক বইকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই সরকারি বিদ্যালয় ও রাষ্ট্রপরিচালিত সাধারণ গ্রন্থাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জন্য তৈরি প্রায় ৫৩৫টি বইয়ের তালিকায় মমতার লেখা ১৯টি বই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য পৃথকভাবে তৈরি প্রতিটি বইয়ের তালিকাতেই তাঁর রচনা ছিল। বিদ্যালয়গুলিকে বই কেনার জন্য এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল।

তালিকায় ‘দুয়ারে সরকার’, ‘শিশুমন’, ‘কলম’, ‘দুয়ারে সরকার আপনার আমার’, ‘আমাদের দুর্গোৎসব’ এবং ‘গুলদস্তা-এ-শায়েরি’-সহ মমতার একাধিক বই ছিল। বিজেপির অভিযোগ, সাহিত্য বা শিক্ষামূল্যের বদলে লেখকের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই বইগুলি কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সরকারি অর্থ ব্যবহার করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বইয়ের প্রচার ও বিক্রি বাড়ানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।

গৌরীশঙ্কর ঘোষের মতে, পূর্ববর্তী ব্যবস্থায় এক ধরনের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব কাজ করেছিল। নতুন সরকার গ্রন্থাগারের বই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজাবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও চিন্তাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি গ্রন্থাগারগুলির আধুনিকীকরণ, শূন্য পদে কর্মী নিয়োগ এবং বিনামূল্যে পাঠাগার গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক পক্ষপাত ও বই বর্জনের প্রশ্নও উঠছে। এক সরকারের আমলে শাসকের লেখা বই বাধ্যতামূলক করা যেমন সমালোচিত হয়েছিল, সরকার বদলের পরে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বই সরিয়ে দেওয়াও সমানভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কোন বই শিক্ষামূলক এবং কোনটি অপ্রয়োজনীয়, তা নির্ধারণে স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকবে কি না, সরকার এখনও স্পষ্ট করেনি। ফলে গ্রন্থাগার সংস্কারের ঘোষণার পাশাপাশি বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বইয়ের তাক বদলে যাওয়ার পুরনো বিতর্কটিও নতুন করে সামনে এসেছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles