নেপালের ভয়াবহ বন্যার মর্মান্তিক প্রভাব এসে পৌঁছেছে উত্তরপ্রদেশেও। রাজ্যের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলায় গণ্ডক নদী থেকে মোট ১০টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, মৃতেরা নেপালের নাগরিক। তবে এখনও তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

মৃতদেহগুলির সঙ্গে পাওয়া গয়না ও অন্যান্য জিনিসপত্রের বিস্তারিত বিবরণ নথিভুক্ত করেছেন আধিকারিকেরা। পরিচয় শনাক্ত করার জন্য উল্কি-সহ শরীরের বিশেষ চিহ্নগুলিও নথিতে রাখা হয়েছে। মৃতদের ছবিও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতেরা তাঁদের শনাক্ত করতে পারেন।

মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রশান্ত কুমার জানিয়েছেন, ওই জেলা থেকে চারটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা এবং একজন যুবক।

প্রশান্ত কুমার বলেন, “৭২ ঘণ্টার মধ্যে কেউ দেহগুলির পরিচয় জানাতে বা দাবি করতে এগিয়ে না এলে সরকারি নির্দেশিকা মেনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দেহ উদ্ধারের বিষয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সেই প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও পাঠানো হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কুশীনগরে বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত রবি প্রতাপ রাই জানিয়েছেন, সেখান থেকে ছ’টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং তিনজন মহিলা।

মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরের বন্যাপ্রভাবিত এলাকায় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং প্রাদেশিক সশস্ত্র পুলিশের বন্যা মোকাবিলা বাহিনী।

এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নদীর জলস্তর কমে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কেটেছে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী এবং নিচু এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

নদীতে ভেসে আসছে বিপুল ধ্বংসাবশেষ

শুধু মৃতদেহ নয়, নেপালের বন্যায় ভেসে যাওয়া বহু জিনিসও গণ্ডক নদী দিয়ে উত্তরপ্রদেশে এসে পৌঁছেছে। নদীতে যানবাহন, গৃহস্থালির সামগ্রী, রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার, ড্রাম, আসবাবপত্র, কাঠের গুঁড়ি এবং নানা ধরনের ধ্বংসাবশেষ ভাসতে দেখা গিয়েছে। সেগুলির অনেকটাই নদীর তীরে এসে জমা হচ্ছে।

ভেসে আসা জিনিস সংগ্রহ করার জন্য বহু গ্রামবাসী নদীর পাড়ে ভিড় করছেন। কেউ কেউ নদীতে নেমেও সেগুলি তুলে আনার চেষ্টা করছেন। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে এ ধরনের ঝুঁকি নিতে নিষেধ করেছে। নদীতে কোনও বস্তু ভাসতে দেখলে নিজেরা সংগ্রহের চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে বলা হয়েছে।