খবর

‘আগুন নিয়ে খেলছে’ ব্রিটেন, হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: কিয়েভকে সমর্থন দেওয়ার জবাবে ইউক্রেনের ভিতরে ও বাইরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারে রাশিয়া।
  • এই হুমকির মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে এক গোপন সফরে মস্কো গিয়ে নেটোয় হামলা না করতে ক্রেমলিনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয়…
  • ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সোমবার জানিয়েছেন, ইউক্রেন যাতে নিজের দেশেই দূরপাল্লার ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করতে পারে, সে জন্য কিয়েভকে গোপন প্রযুক্তি…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: কিয়েভকে সমর্থন দেওয়ার জবাবে ইউক্রেনের ভিতরে ও বাইরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারে রাশিয়া। এই হুমকির মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে এক গোপন সফরে মস্কো গিয়ে নেটোয় হামলা না করতে ক্রেমলিনকে সতর্ক করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র প্রধান।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সোমবার জানিয়েছেন, ইউক্রেন যাতে নিজের দেশেই দূরপাল্লার ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করতে পারে, সে জন্য কিয়েভকে গোপন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেবে ব্রিটেন। ফ্রান্সও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহে সম্মত হয়েছে। এর পরেই বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ‘‘আগুন নিয়ে খেলছে’’।

রাশিয়ার সর্বশেষ হুমকির জবাবে ইউক্রেনের পাশে থাকার অঙ্গীকার ফের জানালেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিক। তিনি বলেন, ‘‘ব্রিটেন ইউক্রেনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুতিনের বেআইনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য ইউক্রেনের যে সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউক্রেনে এবং ব্রিটেন ও আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসন রুখতে এই সরকারের দৃঢ়তা নিয়ে রাশিয়ার কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়।’’

‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিআইএ প্রধান জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফরের আগে মার্কিন গোয়েন্দাদের একটি মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, কোনও সদস্যদেশে সীমিত হামলা চালিয়ে নেটোর প্রতিক্রিয়া যাচাই করার পরিকল্পনা করতে পারে রাশিয়া। সেই হামলা হতে পারে সাইবার আক্রমণ থেকে শুরু করে ছোট মাপের সামরিক অনুপ্রবেশ—সম্ভবত বাল্টিক অঞ্চলের কোনও দেশে।

ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন কিয়েভের পশ্চিমি মিত্রদের বারবার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় প্রকাশ্য পরমাণু হামলার হুঁশিয়ারিও। আবার কিছু হুমকির সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল কিয়েভে থাকা বিদেশি কূটনৈতিক দফতরগুলি।

র‍্যাটক্লিফের সফরসংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘‘এখন এ ধরনের ভয় দেখানো অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। অবশ্যই বাস্তবের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। রুশ ফেডারেশনের অভিপ্রায়ের সঙ্গেও এর কোনও সম্পর্ক নেই।’’

যদিও বৃহস্পতিবার সকালেই ব্রিটিশ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়েছিল মস্কো।

র‍্যাটক্লিফের সফর এবং রাশিয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে এই তীব্র জল্পনার মধ্যেই ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন সামনে এসেছে।

ইউরোপে কর্মরত এক মার্কিন প্রতিরক্ষা আধিকারিক এবং নেটোর এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর হাতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ‘‘অতি সংকটজনক পর্যায়ও ছাড়িয়ে গিয়েছে’’। এর প্রধান কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য রুশ হামলার মুখে নেটোর সদস্যদেশগুলির প্রতিরক্ষার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

ওই মার্কিন প্রতিরক্ষা আধিকারিকের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতে। রাশিয়ার অতি দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে এই প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র। ইউরোপে মার্কিন ও নেটো বাহিনীর হাতে প্যাট্রিয়টের মজুত কম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেটোর ওই আধিকারিকও। স্পর্শকাতর সামরিক তথ্য নিয়ে কথা বলার জন্য দু’জনেই নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও তীব্র করার কথা বিবেচনা করছে রাশিয়া। গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা ক্রমশ বেড়েছে। এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতির উপর চাপও বাড়ছে।

ইউক্রেনের যুদ্ধের আঁচ নিজের দেশে পৌঁছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেমলিনের ভাষাও আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এই বক্তব্যের বড় অংশের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রোতারা।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জের উপর জাপানের ভূখণ্ডগত দাবির প্রসঙ্গেও নিজের পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের ভয় দেখিয়েছে রাশিয়া। আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ককে বর্ণনা করেছে ‘‘সংকটাপন্ন’’ এবং ঐতিহাসিক ভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া সম্পর্ক হিসেবে।

র‍্যাটক্লিফের সতর্কবার্তা সম্পর্কে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তার সঙ্গে মিল রয়েছে তাঁর পূর্বসূরি উইলিয়াম বার্নসের ২০২১ সালের একটি সতর্কবার্তার। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগে সেই বার্তা দিয়েছিলেন বার্নস। সে সময়ও মস্কো অস্বীকার করেছিল যে তারা এমন আক্রমণের কথা ভাবছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles