International

ভেনেজুয়েলার তেলে ট্রাম্পের নজর!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে সরাসরি অংশীদারি পেতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
  • বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এক ডজনেরও বেশি তেলক্ষেত্র নিয়ে দরকষাকষি চলছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে সরাসরি অংশীদারি পেতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এক ডজনেরও বেশি তেলক্ষেত্র নিয়ে দরকষাকষি চলছে।

তবে আলোচনা এগোলেও এখনও কোনও চূড়ান্ত চুক্তি সই হয়নি। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন প্রকাশ করে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা খবরটির তথ্য স্বাধীন ভাবে যাচাই করতে পারেনি। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিক ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

আলোচনার আওতায় থাকা তেলক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার মোট প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল। অর্থাৎ সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় আসতে পারে দেশের মোট মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

পরিমাণটি বিপুল হলেও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভূগর্ভে থাকা তেল আর প্রতিদিনের উৎপাদন এক নয়। কোনও তেলক্ষেত্রে অংশীদারি বা ব্যবহারের অধিকার পাওয়া মানেই সেই মজুত তৎক্ষণাৎ উত্তোলন করে বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে, এমন নয়।

মালিকানা, না ১০০ বছরের ইজারা?

সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে একাধিক তেলক্ষেত্রের জন্য ১০০ বছর পর্যন্ত ইজারার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে শর্ত বদলাতে পারে।

ফলে এখনই বলা যাচ্ছে না, আমেরিকান সংস্থাগুলি ঠিক কতটা মালিকানা পাবে, কত দিনের জন্য তেলক্ষেত্র ব্যবহারের অধিকার থাকবে কিংবা বিনিয়োগের বিনিময়ে কী সুবিধা মিলবে।

রয়টার্সের পৃথক অনুসন্ধান অনুযায়ী, অরিনোকো অঞ্চল এবং মারাকাইবো হ্রদ এলাকার মোট ১৭টি তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনাটি এমন হতে পারে, যেখানে মার্কিন সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট তেলক্ষেত্র উন্নয়নের সুযোগ দেওয়া হবে এবং বিনিময়ে ওয়াশিংটনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

তেলক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের দায়িত্ব কোন সংস্থা পাবে, তা নিলামের মাধ্যমে নির্ধারণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, একদিকে আমদানি ব্যয় কমানো, অন্যদিকে তেলের সরবরাহ আরও নিশ্চিত করা। তবে কোন সংস্থা কত অর্থ বিনিয়োগ করবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

তেলের সঙ্গে জড়িয়ে রাজনীতিও

সম্ভাব্য চুক্তির অর্থনৈতিক যুক্তি সহজ। বিদেশি বেসরকারি সংস্থার বিনিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় থাকা তেলক্ষেত্রগুলির উন্নয়ন করা গেলে উৎপাদন বাড়তে পারে। উৎপাদন বাড়লে ভেনেজুয়েলার রাজস্বও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু বিষয়টি শুধু ব্যবসার অঙ্কে আটকে নেই। আলোচনায় থাকা কয়েকটি তেলক্ষেত্রের সঙ্গে অতীতে ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী মহল এবং চিনা স্বার্থের যোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য পদক্ষেপের বাণিজ্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট।

আর সেখানেই উঠছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন—জাতীয় সম্পদের এত দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার অধিকার অন্তর্বর্তী সরকারের কতটা রয়েছে?

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ভেনেজুয়েলার বিরোধী মহলের একাংশ এমন চুক্তির রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচনী বৈধতা এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও বড় মার্কিন তেল সংস্থাগুলি এখনও ভেনেজুয়েলায় উল্লেখযোগ্য নতুন বিনিয়োগে এগিয়ে আসেনি।

চুক্তি হলেই কি বদলাবে ভেনেজুয়েলার ভাগ্য?

এই মুহূর্তে সম্ভাব্য সমঝোতাকে সম্পন্ন অধিগ্রহণ বা চূড়ান্ত অংশীদারি বলা যাবে না। আসল ছবি স্পষ্ট হবে চুক্তির শর্ত প্রকাশ্যে এলে—কে কতটা মালিকানা পাবে, রাজস্ব কী ভাবে ভাগ হবে, বিনিয়োগের দায় কার এবং ভবিষ্যতে বিরোধ তৈরি হলে তার নিষ্পত্তি কী ভাবে হবে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য অন্য জায়গায়। তেল উৎপাদন বাড়লে তার আর্থিক সুফল কি সত্যিই ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে?

কারণ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুতের উপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যেমন বড় অর্থনৈতিক সুযোগ, তেমনই তা সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক বৈধতার পরীক্ষাও। ওয়াশিংটন তেলের দিকে হাত বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তির আসল মূল্য নির্ধারণ করবে তার শর্ত—শুধু তেলের পরিমাণ নয়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles