ট্রাম্পের দাবি নাকচ

যা জানা জরুরি
- অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতা করেছিলেন—এই দাবি সরাসরি খারিজ করলেন ভারতের প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল…
- তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের ডিজিএমও-র সরাসরি আলোচনাতেই।
- মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন চৌহান।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতা করেছিলেন—এই দাবি সরাসরি খারিজ করলেন ভারতের প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল দুই দেশের ডিজিএমও-র সরাসরি আলোচনাতেই। তৃতীয় কোনও পক্ষের ভূমিকা ছিল না।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন চৌহান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর বক্তব্য শুধু সামরিক স্তরে সংঘর্ষ থামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে। রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক স্তরে কী আলোচনা হয়েছিল, সে বিষয়ে মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাঁর নেই।
কিন্তু সামরিক পর্যায়ে তিনি যে ঘটনাক্রম দেখেছেন, তাতে কোনও বিদেশি শক্তির মধ্যস্থতার প্রমাণ নেই বলেই তাঁর দাবি।
কীভাবে থামল লড়াই?
যুদ্ধবিরতির আগে দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে ফোনে যোগাযোগের সময়সূচিও ব্যাখ্যা করেছেন চৌহান।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু আলোচনার সময় ঠিক করেছিল ভারত। ভারতের ডিজিএমও জানিয়ে দেন, বিকেল ৩টার আগে তিনি কথা বলার জন্য উপলব্ধ নন।
শেষ পর্যন্ত বিকেল ৩টেয় দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে কথা হয়। সেই আলোচনাতেই বিকেল ৫টা থেকে সংঘর্ষ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চৌহানের কথায়, ‘‘যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত দুই ডিজিএমও-র মধ্যেই হয়েছিল। বিষয়টি সেখানেই শেষ। অন্য কারও কোনও ভূমিকা আমি দেখতে পাচ্ছি না।’’
ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণ উল্টো
চৌহানের বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার করা দাবির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
ট্রাম্প একাধিক বার বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে তাঁর প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল। এমনকি বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েই দুই দেশকে সংঘর্ষ থামাতে রাজি করানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ভারত অবশ্য শুরু থেকেই সেই দাবি নাকচ করে এসেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের অনুরোধে দুই দেশের সামরিক কর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই সংঘর্ষ বন্ধ হয়েছিল। কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছিল না।
এ বার ভারতের প্রাক্তন শীর্ষ সামরিক কর্তার বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও জোরালো করল।
তবে প্রশ্ন থেকেই গেল
চৌহানের বক্তব্যে অবশ্য নতুন একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—ভারত আনুষ্ঠানিক ভাবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার আগেই আমেরিকা কীভাবে খবরটি পেল?
চৌহানের কথায়, ‘‘আমরা ঘোষণা করার আগেই আমেরিকানরা কীভাবে খবরটি পেল এবং সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দিল?’’
এর উত্তর তাঁর জানা নেই। তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিত—ভারতীয় পক্ষ থেকে তথ্য ফাঁস হয়নি।
অপারেশন সিঁদুরের সময় সংঘর্ষ বন্ধের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ট্রাম্প। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তানও বিষয়টি নিশ্চিত করে। ফলে আমেরিকা কী ভাবে এত দ্রুত খবর পেল, তা নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।
মধ্যস্থতা নয়, তথ্যের উৎসই এখন প্রশ্ন
চৌহানের মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক স্তরে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত ছিল পুরোপুরি দ্বিপাক্ষিক। কিন্তু ভারত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার আগেই আমেরিকার কাছে সেই খবর পৌঁছে গেল কীভাবে, তার উত্তর এখনও অজানা।
ফলে বিতর্কের কেন্দ্রটা যেন বদলে গেল—ট্রাম্প যুদ্ধ থামিয়েছিলেন কি না, তার পাশাপাশি এখন প্রশ্ন, যুদ্ধ থামার খবর ট্রাম্প এত তাড়াতাড়ি পেলেন কী ভাবে?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



