রাগ দেখাবেন না, আপনার মুখই ওদের ‘বিষয়বস্তু’: আন্দোলন সামলাতে দিল্লি পুলিশের নতুন পাঠ

যা জানা জরুরি
- আন্দোলনকারী মোবাইলের ক্যামেরা মুখের সামনে ধরলে তাকাতে হবে সোজা, এড়াতে হবে তর্ক।
- কেউ ব্যঙ্গ করলে, গান গাইলে কিংবা নকল অভিবাদন জানালেও প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে না।
- কারণ, উত্তেজিত পুলিশকর্মীর কয়েক সেকেন্ডের ছবি বা দৃশ্যই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাঁকে ‘খলনায়ক’ করে তুলতে পারে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হাতে লাঠি থাকলেও মুখে রাগ রাখা চলবে না। আন্দোলনকারী মোবাইলের ক্যামেরা মুখের সামনে ধরলে তাকাতে হবে সোজা, এড়াতে হবে তর্ক। কেউ ব্যঙ্গ করলে, গান গাইলে কিংবা নকল অভিবাদন জানালেও প্রতিক্রিয়া দেওয়া যাবে না। কারণ, উত্তেজিত পুলিশকর্মীর কয়েক সেকেন্ডের ছবি বা দৃশ্যই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাঁকে ‘খলনায়ক’ করে তুলতে পারে।
যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রবল সমালোচনার পরে দিল্লি পুলিশের জন্য এমনই এক নতুন নির্দেশিকা তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। চলতি মাসের গোড়ায় সেটি দিল্লি পুলিশের ১৫টি জেলা এবং রেল ও মেট্রো শাখায় পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকার মূল কথা—নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারীকে পুরনো পদ্ধতিতে সামলানো যাবে না; কারণ আজকের প্রতিবাদ রাজপথের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমেও চলে। পুলিশকর্মীদের বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা তাঁদের সঙ্গে লড়াই করছেন না; এমন একটি দৃশ্য তৈরি করতে চাইছেন, যেখানে পুলিশকে খলনায়ক হিসেবে দেখানো যাবে। সেই ভূমিকায় অভিনয় করতে অস্বীকার করাই হবে পুলিশের প্রথম কাজ।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আন্দোলনকারী পুলিশকর্মীর ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, বেতন কিংবা বিবেক নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন—‘‘এই কাজ করে গর্ব হয়?’’, ‘‘রাতে ঘুম হয় কী করে?’’, ‘‘নিজের সন্তানকে কী বলবেন?’’ এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বিতর্কে জড়ানো নিষেধ। প্রয়োজন হলে শুধু বলতে হবে, ‘‘সহযোগিতা করুন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করছি।’’ তার পর নীরব থাকতে হবে।
মোবাইল ফোন ঠেলে সরানো, কারও জিনিস কেড়ে নেওয়া, কোনও বস্তু ছুড়ে ফেলা, চিৎকার করা বা বিদ্রুপে উত্তেজিত হওয়াও বারণ। ফুল, মিষ্টি, জল কিংবা চা এগিয়ে দিলে নম্রভাবে গ্রহণ অথবা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আন্দোলনকারীরা জনপ্রিয় গান বাজাতে, পুলিশের নাম জুড়ে স্লোগান দিতে বা পুলিশ-সারির সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয় করে দৃশ্য ধারণ করতে পারেন। পরে কী লেখা বা কীভাবে সম্পাদনা করা হবে, তা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেই; কিন্তু মুখের অভিব্যক্তি ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মহিলা আন্দোলনকারীদের যথাসম্ভব স্পর্শ না করতে এবং তাঁদের সামলানোর দায়িত্ব মহিলা পুলিশকর্মীদের দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেউ অজ্ঞান হলে বা আহত হলে পুলিশকেই প্রথম এগিয়ে গিয়ে সাহায্য করতে হবে। পথ খুলে দিতে হবে রোগীবাহী গাড়ি, শিশু, রোগী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের। ভিড়ে কোনও শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলে অভিভাবক না-আসা পর্যন্ত তার পাশে থাকতে হবে।
গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সংসদমুখী মিছিলে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং গুলতি-বন্দুক ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের দাবি, ১১৮ জন পুলিশকর্মী এবং প্রায় ৬০ জন আন্দোলনকারী আহত হন। পরে আধাসামরিক বাহিনীর তদন্তে এক জওয়ানের সাতটি গুলি চালানোর এবং তার পাঁচটি আন্দোলনকারীদের গায়ে লাগার তথ্য সামনে আসে। সেই অভিজ্ঞতার পর নতুন মন্ত্র—ক্যামেরা যেন দেখে শুধু শান্ত মুখ ও সাহায্যের হাত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



