ন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক তিন হাজার টাকা না পেয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মহিলাদের বিক্ষোভ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। কোথাও প্রশাসনিক দফতর ঘেরাও, কোথাও পথ ও রেল অবরোধ—প্রকল্পের রূপায়ণ নিয়ে চাপ বাড়ছে রাজ্য সরকারের উপর। এই পরিস্থিতিতে সমস্যার দায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারের উপর চাপালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, মানুষকে সরকারি অনুদানের উপর নির্ভরশীল করে তোলার এই ‘দান-ধ্যানের সংস্কৃতি’ তৃণমূলই তৈরি করেছে।

দিলীপ বলেন, কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতামান পূরণ করতে হয়। আবেদন করলেই যে প্রত্যেকে টাকা পাবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারা প্রকল্পের আওতায় আসবেন, তা যাচাইয়ের পরেই স্থির হবে। তাঁর কথায়, “দান-ধ্যানের অভ্যাসটা তৃণমূলই তৈরি করেছে। এখন সবাই ভাবছেন, আবেদন করলেই টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু সরকারি প্রকল্পে কিছু শর্ত থাকে। সব সুবিধা সকলের জন্য নয়।”

গত ১ জুন বিজেপি সরকার অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করে। প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে মাসিক দেড় হাজার টাকা দেওয়া হত। কিন্তু লক্ষ্মীর ভান্ডারের সমস্ত প্রাপক স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসবেন না বলে নতুন সরকার জানায়। প্রত্যেককে নতুন করে আবেদন ও যাচাই-পর্বের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী এবং আয়করদাতাদের মতো কয়েকটি শ্রেণিকে প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে।

বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, আবেদনপত্র জমা দেওয়া এবং যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পরেও অনেকের ব্যাঙ্ক হিসাবে একবারও টাকা ঢোকেনি। উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে মহিলারা রেললাইন অবরোধ করেন। ফারাক্কা, সাগরদিঘি, ধুলিয়ান, হাবড়া, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বহু জায়গায় প্রশাসনিক দফতরের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। অনেকের দাবি, সরকারি নথিতে আবেদন অনুমোদিত দেখানো হলেও অর্থ মেলেনি। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে কী কারণে নাম বাদ পড়েছে, তারও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরে বৈঠক চলাকালীন বিক্ষোভকারী মহিলাদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁদের ধৈর্য ধরার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় দু’কোটি আবেদন নথিভুক্ত ও যাচাই করতে সময় লাগছে। আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার পিছনে তৃণমূলের একাংশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অগ্নিমিত্রা।

তৃণমূল পাল্টা দাবি করেছে, নির্বাচনের আগে মহিলাদের তিন হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও বিজেপি সরকার এখন যোগ্যতার নানা শর্ত সামনে এনে বিপুলসংখ্যক আবেদনকারীকে বাদ দিচ্ছে। বিরোধী দলের মতে, এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে রাজনৈতিক দোষারোপ। ফলে অন্নপূর্ণা নিয়ে বিতর্ক এখন কেবল বকেয়া অর্থের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; তা নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি, প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং মহিলাদের আস্থার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।