‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা নিয়ে আপস নয়: কংগ্রেসের দু’স্তবক নীতির বিরুদ্ধে বিজেপির প্রস্তাব

যা জানা জরুরি
- দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এ বার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করল বিজেপি।
- শনিবার দলের নবনিযুক্ত জাতীয় পদাধিকারীদের প্রথম বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা তোষণের স্বার্থে জাতীয় গানের সম্মান ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও আপস…
- একই সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস, তাৎপর্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা তুলে ধরতে দেশজুড়ে প্রচার চালানোর কথাও ঘোষণা করেছে শাসক দল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এ বার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণ করল বিজেপি। শনিবার দলের নবনিযুক্ত জাতীয় পদাধিকারীদের প্রথম বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা তোষণের স্বার্থে জাতীয় গানের সম্মান ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও আপস মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস, তাৎপর্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তার ভূমিকা তুলে ধরতে দেশজুড়ে প্রচার চালানোর কথাও ঘোষণা করেছে শাসক দল।
বিজেপির নতুন জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতেই ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক গাওয়া হয়। পরে তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ নিছক একটি গান নয়; ভারতমাতার প্রতি শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা সংগ্রামের মন্ত্র এবং জাতীয় চেতনার অবিনশ্বর প্রতীক। কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে ‘সাম্প্রদায়িক চাপ ও সঙ্কীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে চিহ্নিত করেছে বিজেপি। তাদের যুক্তি, কোনও দলের ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সাংবিধানিক ও আইনি অবস্থানকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।
গত ১৯ আগস্ট কংগ্রেস কার্যনির্বাহী সমিতি সিদ্ধান্ত নেয়, দলের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। তারা মূলত ১৯৩৭ সালের কার্যনির্বাহী সমিতির সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেছে। কংগ্রেসের দাবি, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার বল্লভভাই পটেলের মতো স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের পরামর্শ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
ঐতিহাসিকভাবে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা গানটির পরবর্তী স্তবকগুলিতে মাতৃভূমিকে দুর্গা-সহ বিভিন্ন হিন্দু দেবীর রূপে কল্পনা করা হয়েছে। তা নিয়ে কিছু মুসলিম নেতার আপত্তি থাকায় জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সুপারিশ করেছিল কংগ্রেস। এই দুই স্তবকে মাতৃভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাচুর্যের বন্দনা রয়েছে, দেবদেবীর উল্লেখ নেই। কংগ্রেসের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত জাতীয় গানকে খণ্ডিত করা নয়, বরং ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্র রক্ষা করা।
কংগ্রেস মুখপাত্র অলোক শর্মা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপি বা অমিত শাহ কি নিজেদের গণপরিষদের চেয়েও বড় মনে করেন? তাঁর দাবি, গণপরিষদও প্রথম দু’টি স্তবককেই জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়ার পক্ষপাতী ছিল। ফলে বিজেপি ইতিহাসের একটি জটিল সিদ্ধান্তকে বর্তমানের তোষণ-রাজনীতির ছকে ব্যাখ্যা করছে।
বিজেপি অবশ্য এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটি যুবসমাজের কাছে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস পৌঁছে দিতে বিশেষ প্রচার চালাবে। ফলে জাতীয় গানকে ঘিরে বিরোধটি এখন আর শুধু কতগুলি স্তবক গাওয়া হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যার রাজনৈতিক লড়াইয়েও পরিণত হয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



