ধ্বংসস্তূপে আশার আলো

যা জানা জরুরি
- ভয়াবহ এক অতিমারি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে অধিকাংশ মানুষকে।
- সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের লড়াই এখন খাদ্য, নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের জন্য।
- এমনই এক প্রলয়োত্তর পৃথিবীর পটভূমিতে তৈরি রিডলি স্কটের নতুন কল্পবিজ্ঞাননির্ভর রোমাঞ্চচিত্র ‘দ্য ডগ স্টার্স’।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পৃথিবী প্রায় জনশূন্য। ভয়াবহ এক অতিমারি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে অধিকাংশ মানুষকে। সভ্যতার ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকা মানুষের প্রতিদিনের লড়াই এখন খাদ্য, নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের জন্য। এমনই এক প্রলয়োত্তর পৃথিবীর পটভূমিতে তৈরি রিডলি স্কটের নতুন কল্পবিজ্ঞাননির্ভর রোমাঞ্চচিত্র ‘দ্য ডগ স্টার্স’। তবে নিছক আতঙ্ক, ধ্বংস আর অন্ধকারের গল্প নয়—ছবিটির কেন্দ্রে রয়েছে আশা, মানবিকতা এবং বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক।
পিটার হেলারের ২০১২ সালের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন মার্ক এল স্মিথ। লন্ডনে ছবির বিশ্ব উদ্বোধনী প্রদর্শনে ৮৮ বছর বয়সি রিডলি স্কট জানান, চিত্রনাট্য পড়েই তাঁর মনে হয়েছিল, এই গল্প বড় পর্দায় আনা উচিত। তাঁর কথায়, কাগজে লেখা কোনও কল্পবিজ্ঞান কাহিনি যদি সত্যিই শক্তিশালী বলে মনে হয়, তবে তাকে গুরুত্ব দিয়ে চলচ্চিত্রে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করতেই হয়। তবে চিত্রনাট্যের মাঝপথে তাঁর মনে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত গল্পের মান ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না। শেষ পর্যন্ত মার্ক স্মিথ তাঁকে হতাশ করেননি।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র হিগ। জেকব এলর্ডি অভিনীত এই তরুণ বৈমানিক ধ্বংসপ্রায় পৃথিবীতে একটি পরিত্যক্ত কলোরাডো বিমানবন্দরে আশ্রয় নিয়েছে। তার সঙ্গী বিশ্বস্ত কুকুর এবং কঠোর স্বভাবের প্রাক্তন নৌসেনা সদস্য ব্যাংলি, যার চরিত্রে রয়েছেন জশ ব্রোলিন। বিপজ্জনক বাইরের পৃথিবী থেকে নিজেদের রক্ষা করতে তাঁরা গড়ে তুলেছে এক ধরনের নিরাপদ, কিন্তু নিঃসঙ্গ জীবন।
হিগের সেই একঘেয়ে নিরাপদ জীবনে আচমকাই পরিবর্তন আসে। বেতারে ভেসে আসে রহস্যময় এক বার্তা। অজানা সেই সংকেতের টানে পরিচিত আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে হিগ। শুরু হয় অনিশ্চিত এক যাত্রা। সেই পথেই তার দেখা হয় পাহাড়ি আস্তানায় থাকা সিমা ও তার বাবা পপসের সঙ্গে। চরিত্র দু’টিতে অভিনয় করেছেন মার্গারেট কোয়ালি ও গাই পিয়ার্স। ছবিতে আরও রয়েছেন বেনেডিক্ট ওয়ং ও অ্যালিসন জ্যানি।
রিডলি স্কটের কাছে ছবিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অবশ্য ধ্বংস বা বিপর্যয় নয়, বরং তার মাঝেও মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছা। গতানুগতিক জীবন্মৃত-নির্ভর প্রলয়কাহিনি বানানোর কোনও ইচ্ছা তাঁর ছিল না। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষ কেন অন্য মানুষের কাছে যেতে চায়, কেন সম্পর্ক ও ভালবাসার জন্য নিজের নিরাপত্তা পর্যন্ত ঝুঁকিতে ফেলে—সেই প্রশ্নই তাঁকে বেশি আকৃষ্ট করেছে। তাঁর মতে, গল্পে আশাবাদ থাকা জরুরি, কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজন মানুষকেই।
বেনেডিক্ট ওয়ংও ছবিটিকে আশা, মানবিক সৌজন্য এবং বিপর্যয়ের সময়ে পারস্পরিক সংযোগের গল্প হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, ধ্বংসের মধ্যে দাঁড়িয়েও মানুষ কী ভাবে একে অপরের দিকে হাত বাড়ায়, ছবির আবেগ সেখানেই।
মূল উপন্যাসের লেখক পিটার হেলারও মনে করেন, চলচ্চিত্রের নিজস্ব প্রয়োজন মেনেও স্কট তাঁর গল্পের আবেগ ও মূল সুর ধরে রাখতে পেরেছেন। ইতালির বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে মূলত চিত্রায়িত ‘দ্য ডগ স্টার্স’-এ তাই প্রলয় শুধু পটভূমি; আসল গল্প মানুষের।
বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির মুক্তি শুরু হবে ২৬ আগস্ট থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাবে ২৮ আগস্ট। ধ্বংসের পর পৃথিবী কেমন হতে পারে, সেই প্রশ্নের পাশাপাশি ছবিটি আরও বড় একটি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—সবকিছু হারিয়েও মানুষ কি আশার কারণ খুঁজে নিতে পারে?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



