খবর

ইনহেলারে চিনি বাড়ে?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলারের প্রভাব নিয়ে ডায়াবিটিস রোগীদের যা জানা জরুরি হাঁপানি বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালির রোগ নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার অত্যন্ত কার্যকর।
  • ওষুধ সরাসরি শ্বাসনালিতে পৌঁছে যায় বলে সাধারণত ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশনের তুলনায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম।
  • বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলার দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলারের প্রভাব নিয়ে ডায়াবিটিস রোগীদের যা জানা জরুরি

হাঁপানি বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসনালির রোগ নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার অত্যন্ত কার্যকর। ওষুধ সরাসরি শ্বাসনালিতে পৌঁছে যায় বলে সাধারণত ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশনের তুলনায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কম। তবে সব ইনহেলার এক নয়। বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলার দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। ডায়াবিটিস বা প্রাক্‌-ডায়াবিটিস থাকা ব্যক্তিদের জন্য তাই বিষয়টি কিছুটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে সবচেয়ে জরুরি কথা হল, শর্করা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিজের সিদ্ধান্তে ইনহেলার বন্ধ করা উচিত নয়। অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি বা শ্বাসনালির রোগ থেকে যে বিপদ হতে পারে, তা সামান্য শর্করা বৃদ্ধির চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে।

কীভাবে বাড়তে পারে শর্করা?

সব ইনহেলার রক্তে শর্করায় একই প্রভাব ফেলে না। মূলত ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড বা শ্বাসের সঙ্গে নেওয়া স্টেরয়েড নিয়েই বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।

ইনহেলার ব্যবহারের পর ওষুধের সামান্য অংশ ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে পৌঁছতে পারে। আবার ইনহেলার সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার না করলে ওষুধের কিছুটা মুখ ও গলায় জমে গিয়ে পরে গিলে ফেলা হতে পারে। সেই অংশও শরীরে শোষিত হতে পারে।

রক্তে স্টেরয়েডের পরিমাণ বাড়লে যকৃৎকে বেশি গ্লুকোজ তৈরি ও রক্তে ছাড়তে উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে পেশি ও চর্বিকোষ ইনসুলিনের প্রতি কিছুটা কম সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড বা ইঞ্জেকশনের তুলনায় ইনহেলড স্টেরয়েডের এই প্রভাব সাধারণত অনেক কম। কারণ ওষুধের মূল কাজটি হয় ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে। তবু দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড ইনহেলার ব্যবহার করলে শরীরে শোষিত সামান্য ওষুধের সম্মিলিত প্রভাব দেখা দিতে পারে।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

মাঝেমধ্যে কম মাত্রার ইনহেলার ব্যবহার করলে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের রক্তে শর্করায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি তাঁদের ক্ষেত্রে, যাঁরা দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করছেন।

বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন যদি আগে থেকেই ডায়াবিটিস বা প্রাক্‌-ডায়াবিটিস থাকে। অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন প্রতিরোধ, ডায়াবিটিসের পারিবারিক ইতিহাস বা অন্য কোনও বিপাকজনিত সমস্যাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সময়ে স্টেরয়েড ট্যাবলেট বা ইঞ্জেকশন নিতে হলে শর্করা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে।

তবে শর্করা বেড়ে গেলেই যে ইনহেলারই তার একমাত্র কারণ, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সংক্রমণ, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, শরীরচর্চার পরিবর্তন, খাবারের ধরন এবং ডায়াবিটিসের ওষুধ অনিয়মিত নেওয়াও রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। এমনকি হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের তীব্রতার কারণেও শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে সাময়িক ভাবে শর্করা বাড়তে পারে।

শ্বাসনালি প্রসারিত করার কিছু ওষুধও বেশি মাত্রায় বা ঘন ঘন ব্যবহার করলে অল্প সময়ের জন্য রক্তে শর্করায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল সতর্কতা সাধারণত স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলার নিয়েই।

নতুন ইনহেলার শুরু করলে কী করবেন?

নতুন ইনহেলার শুরু করা, মাত্রা বাড়ানো বা ইনহেলারের ধরন বদলানোর পর এক থেকে দুই সপ্তাহ রক্তে শর্করা একটু বেশি ঘন ঘন পরীক্ষা করা যেতে পারে। কখন ইনহেলার নিয়েছেন, কখন খাবার খেয়েছেন এবং সেই সময় শর্করার মাত্রা কত ছিল—সেগুলি লিখে রাখলে চিকিৎসকের পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রবণতা বোঝা সহজ হয়।

তবে এক দিনের কোনও অস্বাভাবিক ফল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কয়েক দিন ধরে খালি পেটে বা খাবারের পরে শর্করা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকলে চিকিৎসককে জানানো ভালো।

প্রয়োজনে চিকিৎসক ইনহেলারের মাত্রা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন, অন্য ওষুধ বেছে নিতে পারেন অথবা ডায়াবিটিসের চিকিৎসায় সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারেন। ইনহেলার সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্ষেত্রে স্পেসার ব্যবহার করলে মুখ ও গলায় জমে থাকা ওষুধের পরিমাণ কমানো যায়। স্টেরয়েডযুক্ত ইনহেলার ব্যবহারের পর জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করে সেই জল ফেলে দেওয়াও উপকারী।

সবচেয়ে জরুরি সতর্কতা

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনহেলার বন্ধ করা বা মাত্রা কমানো উচিত নয়। শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কখনও কখনও মুখে খাওয়ার বা শিরায় দেওয়ার বেশি মাত্রার স্টেরয়েডের প্রয়োজন হয়, যা ইনহেলারের তুলনায় রক্তে শর্করা অনেক বেশি বাড়াতে পারে।

তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত ইনহেলার বন্ধ করা নয়—সঠিক ওষুধে শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তে শর্করার উপর নজর রাখা।

এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্যের জন্য। ব্যক্তিগত চিকিৎসা বা ওষুধ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ডায়াবিটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles