যুদ্ধের মাঝেই ভোট!

যা জানা জরুরি
- নির্বাচনের দাবিতে জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সদ্য…
- যুদ্ধ চললেও দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
- মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত প্রায় ৯ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় ৩৫ বছর বয়সি ফেদোরভ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে অজুহাত করে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণতন্ত্র স্থগিত রাখা যায়…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নির্বাচনের দাবিতে জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সদ্য বরখাস্ত হওয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। যুদ্ধ চললেও দেশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত প্রায় ৯ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় ৩৫ বছর বয়সি ফেদোরভ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধকে অজুহাত করে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণতন্ত্র স্থগিত রাখা যায় না। তাঁর বক্তব্য, “গণতন্ত্রকে রাশিয়ার হাতে জিম্মি থাকতে দেওয়া যায় না।” ইউক্রেন যে স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবেই থাকতে লড়াই করছে, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।
যদিও সরাসরি জেলেনস্কির নাম নেননি ফেদোরভ, তাঁর বক্তব্যের নিশানা যে বর্তমান প্রশাসন, তা স্পষ্ট। তাঁর অভিযোগ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হচ্ছে, তার যথেষ্ট ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন না। কিছু সংস্কার এগোলেও অন্যগুলি কেন থমকে রয়েছে, তা নিয়েও স্বচ্ছতা নেই। দুর্নীতি মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ আসে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে। ফেদোরভের অভিযোগ, পেশাগত যোগ্যতা, কাজের সাফল্য কিংবা দেশকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতার বদলে ব্যক্তিগত আনুগত্যই অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগের প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা এবং জাতীয় নির্বাচন আয়োজন—দুটি কাজ পাশাপাশি চালানো সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।
২০২২ সালে রুশ আগ্রাসনের পর ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি হয়। সেই কারণেই সব নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হলেও যুদ্ধের মধ্যে ভোট আয়োজনের পক্ষে এত দিন দেশে বড় কোনও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে একাধিক বার ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
ফেদোরভ নিজেও ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। ২০১৯ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়।
পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধের জেরে জুলাইয়ে তাঁকে আচমকাই সরিয়ে দেন জেলেনস্কি। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কিয়েভে বিক্ষোভও হয়। শেষ পর্যন্ত সিরস্কিকেও পদ থেকে সরানো হলেও ফেদোরভকে আর ফেরানো হয়নি। জেলেনস্কি এখন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেন খমারাকে স্থায়ী ভাবে নিয়োগের জন্য মনোনীত করেছেন।
রাজনৈতিক সমীকরণেও ফেদোরভের উত্থান নজর কাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফায় জেলেনস্কি ২২.৩ শতাংশ এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি ২১.৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। ফেদোরভ ১৩.১ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে। তবে দ্বিতীয় দফার সরাসরি লড়াই হলে জেলেনস্কিকে হারানোর সম্ভাবনা তাঁর রয়েছে বলেও সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাস্তব বাধাও কম নয়। লক্ষ লক্ষ ইউক্রেনীয় বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন কিংবা দেশের ভিতরেই বাস্তুচ্যুত। দশ লক্ষের বেশি মানুষ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখনও রুশ দখলে। তার উপর লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
ফলে ফেদোরভের দাবি ইউক্রেনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেও এখনই ভোটের ঘণ্টা বাজছে না। বরং তাঁর প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জে জেলেনস্কির সামনে আরও কঠিন হয়ে উঠল যুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক বৈধতার ভারসাম্য রক্ষা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



