কটাক্ষে ক্ষেপল হোয়াইট হাউস

যা জানা জরুরি
- অসফের আক্রমণের জবাবে ব্যক্তিগত কটাক্ষ, সাংবাদিক ও বিরোধীদের নিশানা ট্রাম্প-শিবিরের আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার যত এগোচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধী এবং সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের…
- জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন অসফের তীব্র কটাক্ষকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের পাল্টা আক্রমণ নতুন করে সেই বিতর্কই উসকে দিয়েছে।
- আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে নিজের সেনেট আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন ৩৯ বছর বয়সি অসফ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অসফের আক্রমণের জবাবে ব্যক্তিগত কটাক্ষ, সাংবাদিক ও বিরোধীদের নিশানা ট্রাম্প-শিবিরের
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার যত এগোচ্ছে, রাজনৈতিক বিরোধী এবং সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের ভাষা ততই ব্যক্তিগত ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন অসফের তীব্র কটাক্ষকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের পাল্টা আক্রমণ নতুন করে সেই বিতর্কই উসকে দিয়েছে।
আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে নিজের সেনেট আসন ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন ৩৯ বছর বয়সি অসফ। রবিবার আটলান্টার এক জনসভায় তিনি ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপন—তিনটিকেই একসঙ্গে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাবিকেরা যখন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ লড়ছেন এবং দেশের অস্ত্র ও তেলের ভান্ডার নিঃশেষ হচ্ছে, তখন ট্রাম্প বৈঠকে ঘুমোচ্ছেন, গল্ফ খেলছেন এবং শেয়ার কেনাবেচা করছেন।
এর পরেই আসে অসফের সবচেয়ে চর্চিত মন্তব্য। তাঁর দাবি, ট্রাম্প আসলে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের চেয়ে নিজের নাচঘর তৈরি করা এবং ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া ‘আকাশপ্রাসাদে’ ঘুরে বেড়াতেই বেশি আগ্রহী। ৩৫ বছর বয়সি হার্প ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী এবং তাঁকে প্রায়ই প্রেসিডেন্টের পাশে দেখা যায়।
অসফের মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণে নামেন হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ অধিকর্তা স্টিভেন চেউং। সমাজমাধ্যমে অসফের নাম বিকৃত করে তাঁকে অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। একই সঙ্গে অসফকে ‘চরমপন্থী ডেমোক্র্যাট’ এবং ‘দেশবিদ্বেষী’ বলেও কটাক্ষ করা হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ ট্রাম্প শিবিরে অবশ্য নতুন নয়। তবে সরকারের অন্যতম শীর্ষ যোগাযোগ-কর্তার এমন ভাষা রাজনৈতিক বিতর্কের তীব্রতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ট্রাম্পও অবশ্য আক্রমণের রাস্তা ছাড়েননি। অসফকে আশির দশকের জনপ্রিয় কৌতুক চরিত্র পি-উই হারম্যানের সঙ্গে তুলনা করে বিদ্রূপ করেন তিনি। আগেও একই চরিত্রের নাম বিকৃত করে অসফকে আক্রমণ করেছিলেন ট্রাম্প। অর্থাৎ যুদ্ধনীতি, সরকারি ব্যয় বা প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বদলে প্রতিপক্ষের চেহারা ও ব্যক্তিত্বকে নিশানা করাই যেন পাল্টা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় হোয়াইট হাউসের পরিচয়হীন ‘র্যাপিড রেসপন্স’ সমাজমাধ্যম হিসাবের একটি পোস্ট ঘিরে। অসফ সম্পর্কে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করায় এক সিএনএন সাংবাদিককে সেখানে তাঁর পেশার ‘লজ্জাজনক অপমান’ বলে আক্রমণ করা হয়। এমনকি সাংবাদিকের সন্তানদেরও টেনে এনে বলা হয়, এক দিন তারা মায়ের করা ‘অমানবিক’ প্রশ্ন দেখে লজ্জিত হবে। প্রায় ২২ লক্ষ অনুসরণকারী থাকা একটি সরকারি হিসাব থেকে সাংবাদিকের সন্তানদের এ ভাবে রাজনৈতিক আক্রমণের মধ্যে টেনে আনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
ঘটনাটি তাই শুধু অসফ বনাম ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাগ্যুদ্ধ নয়। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলেরও একটি ছবি এতে স্পষ্ট হচ্ছে। যুদ্ধ, সরকারি ব্যয় কিংবা প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে ব্যক্তিগত অপমান, যৌন ইঙ্গিত এবং সাংবাদিকদের আক্রমণকে সামনে আনা হচ্ছে।
আর তাতেই তৈরি হচ্ছে উল্টো ফলের সম্ভাবনা। অসফের মন্তব্য হয়তো ট্রাম্পকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল, কিন্তু তার জবাবে হোয়াইট হাউসের অতিরিক্ত তীব্র প্রতিক্রিয়া সেই মন্তব্যকেই আরও বড় শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিয়েছে। নির্বাচনের ময়দানে তাই প্রশ্ন উঠছে—কটাক্ষ থামাতে গিয়ে কি অসফের কথাকেই আরও জোরে প্রচার করে দিল ট্রাম্প শিবির?
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



