লকাতায় সংগঠনের সভা করার জন্য একাধিক প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে যোগাযোগ করেও শেষ পর্যন্ত জায়গা পেল না ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সংগঠনের অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের হুমকি ও রাজ্য সরকারের ‘উপরমহলের চাপেই’ বুকিং বাতিল করেছে প্রেক্ষাগৃহগুলি। যদিও অভিযোগের সমর্থনে কোনও প্রত্যক্ষ নথি পেশ করতে পারেননি সিজেপি নেতৃত্ব। সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাগৃহ এবং পুলিশও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার উত্তর কলকাতার ভারত সভা হলে সিজেপি-র একটি কর্মিসভা হওয়ার কথা ছিল। সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, হল কর্তৃপক্ষ প্রথমে মৌখিক সম্মতি দিলেও পরে বুকিং নিতে অস্বীকার করেন। বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়ে আরও অন্তত ছ’টি হলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেখান থেকেও একই ভাবে প্রত্যাখ্যাত হতে হয়। তাঁর দাবি, কয়েকটি হল কর্তৃপক্ষ সরাসরি জানিয়েছেন, রাজ্য প্রশাসনের ‘প্রবল চাপের’ কারণেই তাঁরা সিজেপি-কে জায়গা দিতে পারছেন না।

কলকাতা প্রেস ক্লাবে নির্ধারিত সাংবাদিক বৈঠকটিও শেষ পর্যন্ত ক্লাবের বাইরের রাস্তায় করতে হয়। প্রেস ক্লাব কর্তৃপক্ষ জল জমা এবং বিদ্যুৎ না থাকার মতো কারিগরি সমস্যার কথা জানিয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের। রাঙ্কা বলেন, “এই ভাবে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে আমাদের থামানো যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে সিজেপি-র কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বিজেপি।”

তবে ভারত সভা হলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিজেপি আগে থেকে হলটি বুক করেনি। মঙ্গলবার সকালে সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসে হল চাইলেও ওই সময় অন্য অনুষ্ঠান থাকার সম্ভাবনায় জায়গা দেওয়া যায়নি। বিজেপির তরফে কোনও হুমকি আসেনি বলেও তাঁর দাবি। বৌবাজার থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকও জানিয়েছেন, হল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার কোনও খবর পুলিশের কাছে নেই। অভিযোগগুলি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি। বিজেপিও সাংগঠনিক ভাবে এই ধরনের চাপ সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে তাদের ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাঁকুড়ার ইন্দাসে সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো দেখতে যাওয়া সিজেপি স্বেচ্ছাসেবক শেখ আব্দুল হাফিজের পরিবারের উপর হামলা এবং তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকের মৃত্যুর ঘটনাও সাংবাদিক বৈঠকে তোলা হয়। সংগঠনের দাবি, হামলায় যুক্ত কয়েক জনের বিজেপি-যোগ রয়েছে। যদিও রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, মাফিকের সামান্য আঘাত লেগেছিল এবং পরে রক্তচাপের প্রবল ওঠানামার কারণে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

রাঙ্কা জানিয়েছেন, বাধা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার অভিযান চলবে। শীঘ্রই কলকাতায় আরও বড় কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। মাফিকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সকলকে গ্রেফতার না করা হলে জেলা প্রশাসনের দফতর ঘেরাও করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠন। এর আগে দিল্লিতেও সিজেপি-র কর্মিসভার বুকিং শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছিল। তখনও ‘উপরমহলের চাপের’ অভিযোগ তুলেছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।