বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিনে ভারতের পাঁচে পাঁচ, সিন্ধুর সহজ জয়ের পাশাপাশি চমক আয়ুষের

যা জানা জরুরি
- ঘরের মাঠে দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ সামলে ব্যাডমিন্টন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিনটি দুর্দান্তভাবে শুরু করল ভারত।
- নয়াদিল্লিতে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা পাঁচটি ম্যাচে নেমে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন।
- দ্বৈত অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধু সহজ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করলেও দিনের সবচেয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছেন আয়ুষ শেট্টি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ঘরের মাঠে দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ সামলে ব্যাডমিন্টন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিনটি দুর্দান্তভাবে শুরু করল ভারত। নয়াদিল্লিতে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী দিনে ভারতীয় খেলোয়াড়েরা পাঁচটি ম্যাচে নেমে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছেন। দ্বৈত অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধু সহজ জয় দিয়ে অভিযান শুরু করলেও দিনের সবচেয়ে বড় চমক উপহার দিয়েছেন আয়ুষ শেট্টি। অ-বাছাই এই ভারতীয় খেলোয়াড় হারিয়ে দিয়েছেন বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন চিনের শি ইউচিকে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড় সিন্ধু প্রথম পর্বে আয়ারল্যান্ডের সোফিয়া নোবেলকে ২১-৭, ২১-১১ ব্যবধানে হারান। মাত্র ৩০ মিনিটেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। প্রথম গেমের শুরু থেকেই সিন্ধুর দাপটের সামনে কোনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি আইরিশ প্রতিদ্বন্দ্বী। আক্রমণাত্মক স্ম্যাশ, নিখুঁত ড্রপ এবং কোর্টের সর্বত্র দ্রুত চলাফেরার মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন ভারতীয় তারকা।
প্রথম গেমটি অনায়াসে জেতার পরে দ্বিতীয় গেমে তুলনামূলক কঠিন দিক থেকে খেলতে হয়েছিল সিন্ধুকে। কোর্টের হাওয়ার গতিপ্রকৃতি বুঝে শটের দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি তিনি কয়েকটি নতুন কৌশলও পরীক্ষা করেন। সেই কারণে দ্বিতীয় গেমের মাঝামাঝি সময়ে সোফিয়া কিছুটা লড়াইয়ে ফিরেছিলেন। তবে সিন্ধুর জয় কখনওই বিপন্ন হয়নি।
ম্যাচের পরে সিন্ধু বলেন, দ্বিতীয় গেমের শেষ দিকে প্রতিপক্ষ তাঁকে কিছুটা চাপে ফেলেছিলেন। তবে সেই সময় তিনি নিজের কয়েকটি শট পরীক্ষা করার পাশাপাশি কোর্টের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ড্রপ ও স্ম্যাশের বিভিন্নতা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
জাপান ওপেন সুপার ৭৫০ প্রতিযোগিতায় খেতাব জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে এসেছেন সিন্ধু। পরবর্তী পর্যায়ে তাঁর সামনে অবশ্য অনেক কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। প্রতিযোগিতায় বিশ্ব ক্রমতালিকার তিন নম্বর খেলোয়াড় চিনের ওয়াং ঝি ইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিমধ্যেই পাঁচটি পদক রয়েছে সিন্ধুর। ২০১৯ সালে তিনি সোনা জিতে এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রথম ভারতীয় খেলোয়াড়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তারপর সাত বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আর পদক পাননি তিনি। নয়াদিল্লিতে ষষ্ঠ পদক জিতে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
মেয়েদের ডাবলসে চোট কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন তৃষা জলি ও গায়ত্রী গোপীচাঁদ। প্রথম পর্বে স্পেনের পাওলা লোপেজ ও লুসিয়া রদ্রিগেজকে তাঁরা ২১-৯, ২১-১৩ ব্যবধানে হারিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পরেও ভারতীয় জুটির খেলায় জড়তার ছাপ বিশেষ দেখা যায়নি। শুরু থেকেই নেটের সামনে দ্রুততা এবং আক্রমণাত্মক রিটার্নের মাধ্যমে তাঁরা স্পেনীয় জুটিকে চাপে রাখেন।
তৃষা তিন মাসেরও বেশি সময় কোর্টের বাইরে ছিলেন। গায়ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই মাস অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা থেকে দূরে থাকা তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন ছিল। দীর্ঘ বিরতির পরে আবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলতে নেমে দু’জনেই রোমাঞ্চ অনুভব করেছেন। প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচে সরাসরি গেমে জয় পাওয়ায় তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
তবে প্রথম দিনের সেরা জয়টি এসেছে পুরুষদের সিঙ্গলসে। অ-বাছাই আয়ুষ শেট্টি ৭৩ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শি ইউচিকে ২১-১৪, ১৩-২১, ২১-১৯ ব্যবধানে পরাজিত করেন। প্রথম গেমে নির্ভীক আক্রমণাত্মক খেলায় চিনা তারকাকে চমকে দেন আয়ুষ। দ্বিতীয় গেমে শি ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান। নির্ণায়ক গেমে দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।
তৃতীয় গেমের শেষ পর্যায়ে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা শি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দর্শকদের প্রবল সমর্থনে উজ্জীবিত আয়ুষ চাপের মুখেও ধৈর্য হারাননি। শেষ কয়েকটি পয়েন্টে আক্রমণ ও রক্ষণের ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারানোর এই সাফল্য আয়ুষের খেলোয়াড়জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
মেয়েদের ডাবলসে সিমরন সিংঘি ও কবিপ্রিয়া সেলভমও নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছেন। পুরুষদের ডাবলসে হরিহরন আমসাকরণ ও অর্জুন এমআর দিনের শুরুতে আয়ারল্যান্ডের স্কট গিলডিয়া ও পল রেনল্ডসের মুখোমুখি হন। কোর্টের পাশ বরাবর হাওয়ার প্রভাব থাকায় শুরুতে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে ভারতীয় জুটির। পরে গিলডিয়ার পিঠে চোট লাগায় আইরিশ জুটি ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ায়।
অর্জুন জানিয়েছেন, পাশ থেকে হাওয়া আসায় আইরিশ খেলোয়াড়েরা শুরুর দিকে শটের দৈর্ঘ্য ঠিক রাখতে পেরেছিলেন। প্রতিপক্ষের চোটের কারণে ম্যাচ শেষ হওয়া দুর্ভাগ্যজনক হলেও ঘরের দর্শকদের সামনে জয় দিয়ে শুরু করতে পেরে তাঁরা খুশি।
দ্বিতীয় দিনে ভারতের অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন লক্ষ্য সেন ও উন্নতি হুডা। প্রথম পর্বে লক্ষ্য খেলবেন অস্ট্রিয়ার কলিন্স ভ্যালেন্টাইন ফিলমনের বিরুদ্ধে। উন্নতির প্রতিপক্ষ মায়ানমারের থেট থার থুজার। প্রথম দিনের পাঁচে পাঁচ সাফল্যের পরে তাঁদের কাছেও জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা থাকবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



